পারিবারিক সংকট, অসহায়দের দায়িত্ব গ্রহণ এবং গীবতের সীমানা

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 7840
Questioner: Mst Shapna Akter
Question Asked: 03 Nov 2026, 01:58 AM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 02:10 AM
Views: 11
Tokens: 12,441
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সতর্কতা এবং পরামর্শের জন্য কারো ব্যাপারে কিছু বললে কি গীবত হয়?
আমার ছোট চাচা মারা গেছেন ক্যানসার হয়ে, তাঁর বড় ছেলে প্রতিবন্ধী, সাধারণ মানুষের মতো চিন্তা করে না কিন্তু ইনকাম করে অল্প—বিডিটি ৫ হাজার টাকার মতো। মাকে বিভিন্ন কাজে হেল্প করে কিন্তু তাকে টেক কেয়ার করার প্রয়োজন পড়ে। একটা ছোট ছেলে আছে ৮ বছর, যাকে পাশেই এক আবাসিক মাদ্রাসায় দেওয়া হয়েছে। আমার চাচা একটা সামান্য ৩ শতক ভিটা আর কোনো রকমে থাকার মতো বাড়ি করে দিয়ে গেছেন যেটা নিম্নবিত্ত ফ্যামিলির থাকার মতো। আমার চাচার মৃত্যুর পর আমার চাচি ঝিয়ের কাজ (গৃহকর্মীর কাজ) করেন, যেটা সমাজের মধ্যবিত্তের মানুষরা করতে চাইবে না; তাও মাসে ৫ হাজার টাকা পান। আমি ইসলামিক রুলস জানলাম যে ওনাদের সিচুয়েশনে ওনাদের দায়িত্ব চাচাদের ওপর বর্তায় কিন্তু কোনো চাচা তাদের দায়িত্ব নেন নাই। আমার বাবা বড় চাচা, সে পুরো দায়িত্ব নেন নাই, কিন্তু মাঝে মাঝে খাবার দেন বছরে কয়েকবার, কিন্তু পুরো দায়িত্ব নেন নাই। আমার বাবার জায়গায় তাঁর এক মেয়ে এই দায়িত্ব নিয়েছে যে অনেক টাকা হালাল ইনকাম করে। কাউকে জানায়নি, গোপনে দায়িত্ব নিয়েছে কারণ তার বাবা জানলে তাদের সাথে প্রবলেম করবে। এখন ওই মেয়ে হিসাব করে ১৫ হাজার বিডিটি টাকা দেয় এই হিসাব করে যে ৩ জনের পুরো মাস খুব ভালো ভাবে যাবে, আর এইটা সে ভবিষ্যতেও দিতে চায় যতদিন সামর্থ্য আছে। এখন কথা হচ্ছে সেই মেয়ে চায় তার চাচি ২ ভাইকে দেখাশোনা করুক কেননা তারা মজলুম। যদি চাচি নতুন বিয়ে করে পরিস্থিতি চেঞ্জ হতে পারে আর ওই ২ ছেলেকে দেখার তো কেউ নেই, তাই সে চাচিকে বিয়ে না করার পরামর্শ দেয়। চাচিও বিয়ে করতে চান না, তবে বুঝালে হয়তো করতেন। ওই মেয়ে অন্য আত্মীয়দেরও একই কথা বলে ওনাকে বিয়ে না দিতে। এতে কি তার পাপ হচ্ছে? সে শুধু ওই ২ ছেলের কথা চিন্তা করে বলছে। ২য় প্রশ্ন হচ্ছে, কখনো যদি ওই মেয়ে দায়িত্ব আর না নিতে চায়, তার কি পাপ হবে? ৩য় প্রশ্ন, তার মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় এই টাকা কি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে যাচ্ছে, যেটা হয়তো চাচিকে লোভী অথবা খারাপ কাজে উৎসাহ করবে? যেমন চাচি মাঝে মাঝে অ্যান্ড্রোয়েড ফোন চাইতেন, ঘুরতে যাইতে চাইতেন, উনি পুরোপুরি দ্বীনদার না। তাহলে আমি কীভাবে হিসাব করব যাতে প্রয়োজনের বেশি না হয়? চাচি তো চান ওনাকে যত পারা যায় বেশি দিতে উনি নিবেন। সে জানে না এগুলো চাচি কি কাজে লাগান নাকি কি করেন। সমাধান কি? বাবা-মার সাথে ইনডাইরেক্টলি যদি কথা বলা যায় যে চাচি কি বাবার বাসায় চাচার টাকা পাঠায় কিনা, তাহলে কি ওই মেয়ের গুনাহ হবে? সে এগুলো করছে যেন চাচি খারাপ কাজে ব্যয় না করে। সে চায় টাকাগুলো প্রয়োজনের কাজে ব্যয় হোক যেহেতু সে আল্লাহর জন্য দিচ্ছে। সমাধান কি। আমি ডিটেইলস আরো জানতে চাই গীবত হয় , গীবত হয় না (জায়েজ)—কোন কোন ক্ষেত্রে?

Answer

পারিবারিক সংকট, অসহায়দের দায়িত্ব গ্রহণ এবং গীবতের সীমা

بسم الله الرحمن الرحيم

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি ন্যায়বিচারক এবং অসহায়দের অভিভাবক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর।


প্রথম অংশ: গীবতের সীমা — সতর্কতা ও পরামর্শের জন্য বলা কি গীবত?

মূল নীতি

নবী (ﷺ) বলেছেন:

«أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ»

"তোমরা জানো গীবত কী?" সাহাবারা বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে।" — সহীহ মুসলিম (২৫৮৯)

যে ক্ষেত্রে গীবত জায়েজ (শরীয়তের অনুমতিক্রমে)

ইমাম আন-নববী (রহ.) "রিয়াদুস সালিহীন"-এ এবং ইবনু তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) স্পষ্ট করেছেন — ছয়টি বৈধ কারণ রয়েছে:

  1. মজলুমের অভিযোগ — আল্লাহ বলেন: «لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ» — "আল্লাহ প্রকাশ্যে মন্দ কথা বলা পছন্দ করেন না, তবে যার উপর জুলুম করা হয়েছে (সে ব্যতীত)।" — সূরা আন-নিসা: ১৪৮

  2. সতর্ক করা / পরামর্শ চাওয়া (الاستنصاح) — যেমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব দিলে বা ব্যবসায় শরিক হতে চাইলে তার দোষ জানানো।

  3. ফতোয়া জিজ্ঞাসা — মুফতিকে সমস্যার প্রকৃত অবস্থা জানানো।

  4. প্রকাশ্যে পাপকারীর কথা বলা — যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে গুনাহ করে, তার সেই গুনাহের কথা বলা গীবত নয় (তবে গোপন গুনাহ নয়)।

  5. পরিচয়ের জন্য — যেমন "অন্ধ ব্যক্তি", "খোঁড়া ব্যক্তি" — তবে অপমানের নিয়তে নয়।

  6. সতর্ক করা (التحذير) — মুসলিমদেরকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: "গীবত হারাম, তবে প্রয়োজনে বৈধ — যেমন জুলুমের অভিযোগ, ফতোয়া জিজ্ঞাসা, সতর্ক করা, এবং প্রকাশ্য ফাসিকের কথা বর্ণনা করা।" (আল-ফাওয়াইদ)

আপনার প্রশ্নের প্রয়োগ

প্রশ্ন: "সতর্কতা ও পরামর্শের জন্য কারো ব্যাপারে কিছু বললে কি গীবত হয়?"

উত্তর: যদি উদ্দেশ্য হয় অসহায়দের স্বার্থ রক্ষা, জুলুম প্রতিরোধ, বা শরীয়তসম্মত পরামর্শ — তবে তা গীবত নয়, বরং বৈধ। কিন্তু শর্ত হলো:

  • অপমান বা হেয় করার নিয়ত না থাকা
  • প্রয়োজনীয়টুকু বলা, বাড়াবাড়ি না করা
  • শুধু প্রকৃত কল্যাণের জন্য হওয়া

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে গুনাহ করে বা মানুষের উপর জুলুম করে, তার কথা সতর্কতামূলক বলা জায়েজ — এটি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন বায)


দ্বিতীয় অংশ: পারিবারিক দায়িত্ব ও অসহায়দের হক

১. অসহায় আত্মীয়দের ভরণপোষণের দায়িত্ব

আল্লাহ বলেন:

«وَآتِ ذَا الْقُرْبَىٰ حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ»

"আত্মীয়কে তার হক দাও, মিসকীন ও মুসাফিরকেও।" — সূরা আর-রূম: ৩৮

নবী (ﷺ) বলেছেন:

«كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ»

"মানুষের পাপ হিসেবে এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভরণপোষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ধ্বংস করে।" — আবু দাউদ (১৬৯২), সহীহ

ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "আত্মীয়দের ভরণপোষণ ওয়াজিব যদি তারা অভাবী হয় এবং অভিভাবকের সামর্থ্য থাকে।" (মাজমূ' আল-ফাতাওয়া ৩৪/১০০)

শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন: "নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী, তাদের ভরণপোষণ করা — বিশেষত ভাই, চাচা, ফুফু — ইসলামে বড় দায়িত্ব।" (শারহুল মুমতি')

২. প্রতিবন্ধী সন্তান ও বিধবা চাচির দায়িত্ব কার?

  • প্রতিবন্ধী বড় ছেলে — সে প্রাপ্তবয়স্ক কিন্তু বুদ্ধি/শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে তার দেখাশোনা পিতার পরিবারের দায়িত্ব। পিতা মারা গেলে দাদা/চাচাদের উপর বর্তায় যদি সামর্থ্য থাকে।
  • ৮ বছরের ছেলে — মায়ের কাছে থাকা উচিত, তবে মাদ্রাসায় আবাসিক থাকলে সমস্যা নেই।
  • বিধবা চাচি — তার নিজের উপার্জন আছে (৫ হাজার), তবে অভাবী হলে নিকট আত্মীয়দের সাহায্য করা কর্তব্য।

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন: "মুসলিম সমাজে অসহায় আত্মীয়দের দায়িত্ব নেওয়া ঈমানের অংশ; যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব নেয় না, সে গুনাহগার।" (শারহু নুনিয়্যাহ)


তৃতীয় অংশ: আপনার নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর

প্রশ্ন ১: চাচিকে বিয়ে না করার পরামর্শ দেওয়া কি পাপ?

উত্তর: এখানে সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে:

ক. বিয়ে না করার পরামর্শ নিজে পাপ নয় — যদি উদ্দেশ্য হয় সন্তানদের স্বার্থ রক্ষা। ইসলামে সন্তানের হক অগ্রাধিকার পায়।

খ. কিন্তু সতর্কতা: বিয়ে করা সুন্নাহ, এবং কোনো নারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিয়ে থেকে বিরত রাখা — বিশেষত যদি সে বিয়ে করতে চায় — তবে তা ঠিক নয়। নবী (ﷺ) বলেছেন:

«يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ»

"হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে।" — বুখারী (৫০৬৫)

গ. তবে চাচি নিজেই বিয়ে করতে চান না — এমতাবস্থায় তাকে জোর করা কারো হক নয়। আর যদি সে বিয়ে করতে চান, তবে তাকে বাধা দেওয়া বা অন্য আত্মীয়দের মাধ্যমে বাধা দেওয়ানো — এটি তার হক নষ্ট করা, যা জুলুমের শামিল হতে পারে।

ঘ. সমাধান: সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা বৈধ, কিন্তু চাচির বৈবাহিক সিদ্ধান্ত তার নিজের হক। তাকে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে — একবার, ভদ্রভাবে, তার স্বার্থ ও সন্তানদের স্বার্থ দুটোই বিবেচনা করে। কিন্তু বারবার চাপ দেওয়া বা অন্য আত্মীয়দের লেলিয়ে দেওয়া — এটি সীমালঙ্ঘন।

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন: "কোনো নারীকে বিয়ে থেকে বাধা দেওয়া জুলুম; তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তাকে বিয়ে থেকে বিরত রাখা বৈধ নয়।" (মাজমূ' ফাতাওয়া)

সারকথা: সন্তানদের কথা চিন্তা করে পরামর্শ দেওয়া — পাপ নয়, যদি একবার সীমিত থাকে। কিন্তু চাচিকে বিয়ে থেকে বাধা দেওয়ার জন্য অন্য আত্মীয়দের উসকানো — এটি তার হক নষ্ট করা, যা গুনাহ।


প্রশ্ন ২: ভবিষ্যতে দায়িত্ব না নিলে কি পাপ হবে?

উত্তর: এখানে দুটি দিক:

ক. নফল সদকা হিসেবে: ওই মেয়ে নিজের টাকা থেকে দিচ্ছে — এটি নফল সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায়। ভবিষ্যতে সামর্থ্য না থাকলে বা না দিলে তার পাপ নেই, কারণ এটি ফরজ নয় তার উপর (ফরজ দায়িত্ব চাচাদের উপর, যারা সামর্থ্যবান)।

খ. কিন্তু সতর্কতা: যদি সে দায়িত্ব নেওয়ার পর অসহায়দের নির্ভরশীল করে ফেলে এবং হঠাৎ বন্ধ করে দেয় — এতে তাদের কষ্ট হবে। তাই ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা বা বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত।

গ. ফরজ দায়িত্ব কার? — চাচাদের উপর, যারা সামর্থ্যবান। তারা না নিলে তারা গুনাহগার। ওই মেয়ে নফল হিসেবে দিচ্ছে — সে বন্ধ করলে গুনাহ নেই, তবে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।

নবী (ﷺ) বলেছেন: «مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً...» — "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের কষ্ট দূর করে..." — সহীহ মুসলিম (২৬৯৯)


প্রশ্ন ৩: প্রয়োজনের বেশি দেওয়া কি চাচিকে লোভী বা খারাপ কাজে উৎসাহিত করবে? কীভাবে হিসাব করব?

উত্তর: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইসলামে সদকার নীতিমালা:

ক. প্রয়োজনের পরিমাণ নির্ধারণ: শরীয়তে ভরণপোষণের মান হলো "মারুফ" (যুক্তিসঙ্গত) — অর্থাৎ মৌলিক খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা। আল্লাহ বলেন:

«وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ»

"সন্তানের পিতার দায়িত্ব হলো যুক্তিসঙ্গতভাবে তাদের খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করা।" — সূরা আল-বাকারা: ২৩৩

খ. হিসাবের পদ্ধতি:

  1. মৌলিক খাদ্য — ৩ জনের মাসিক বাজার (চাল, ডাল, তেল, মাছ/মাংস, সবজি)
  2. বাসস্থান — বাড়ি আছে, তাই ভাড়া নেই; তবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস
  3. চিকিৎসা — প্রতিবন্ধী ছেলের ওষুধ/ডাক্তার
  4. শিক্ষা — ৮ বছরের ছেলের মাদ্রাসার খরচ
  5. বস্ত্র — মৌলিক পোশাক

এই পাঁচটি মিলিয়ে প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারণ করুন। ১৫ হাজার টাকা যদি এর চেয়ে অনেক বেশি হয়, তবে বাড়তি অংশ সঞ্চয়/ভবিষ্যতের নিরাপত্তা তহবিলে রাখা যেতে পারে — সরাসরি হাতে না দিয়ে।

গ. শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.)-এর নীতি: "সদকা এমনভাবে দেওয়া উচিত যা অভাবীকে সাহায্য করে, কিন্তু তাকে অলস বা ভিক্ষুক বানিয়ে না ফেলে।" (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)

ঘ. চাচির অ্যান্ড্রয়েড ফোন/ভ্রমণের চাওয়া: এগুলো প্রয়োজন নয়, বিলাসিতা। ইসলামে সদকার টাকা বিলাসিতায় নয়, প্রয়োজনে ব্যয় করা উচিত। তবে আপনি তার অভিভাবক নন — তাকে জোর করা যাবে না। সমাধান:

  • মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ দিন (প্রয়োজন অনুযায়ী)
  • বাড়তি টাকা সরাসরি না দিয়ে — ছেলের মাদ্রাসার ফি সরাসরি পরিশোধ করুন, ওষুধ সরাসরি কিনে দিন, বাজার সরাসরি পাঠান
  • এতে টাকা সঠিক খাতে ব্যয় হবে এবং অপব্যবহারের সুযোগ কমবে

ঙ. নিয়ত পরিষ্কার রাখুন: আপনি আল্লাহর জন্য দিচ্ছেন — চাচি কী করলেন তা আপনার দায়িত্ব নয়, তবে সঠিক খাতে পৌঁছানো আপনার দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন:

«إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا»

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দিতে।" — সূরা আন-নিসা: ৫৮


প্রশ্ন ৪: বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করা (ইনডাইরেক্টলি) — চাচি কি টাকা পাঠায় কিনা — এতে গুনাহ হবে?

উত্তর: এটি সতর্কতামূলক জিজ্ঞাসা — গীবত নয়, যদি:

  • উদ্দেশ্য হয় টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা
  • অপমান বা চাচির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার নিয়ত না থাকে
  • বাবা-মাকে সম্মানের সাথে জিজ্ঞেস করা হয়

কিন্তু সতর্কতা: বাবা-মা যদি চাচির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন বা পারিবারিক কলহ তৈরি হয় — তবে সাবধান। উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যা সমাধান, কলহ নয়।

বিকল্প সমাধান (উত্তম):

  1. সরাসরি চাচিকে জিজ্ঞেস করুন — ভদ্রভাবে: "চাচি, টাকাগুলো কীভাবে ব্যবহার করছেন? ছেলের মাদ্রাসার ফি কি ঠিকমতো দিচ্ছেন?" — এটি সরাসরি জিজ্ঞাসা, গীবত নয়।
  2. টাকা সরাসরি প্রয়োজনীয় খাতে পাঠান — যেমন মাদ্রাসার ফি সরাসরি, ওষুধ সরাসরি।
  3. একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী রাখুন (যেমন কোনো দ্বীনদার আত্মীয়া) যিনি অবস্থা দেখে জানাবেন।

শাইখ আল-আলবানী (রহ.)-এর নীতি: "সদকা প্রদানের সময় হকদারকে সম্মান করা এবং তার অপমান না করা — এটি সদকার অংশ।" (সিলসিলা সহীহা)


চতুর্থ অংশ: গীবত হয় / হয় না — বিস্তারিত তালিকা

গীবত হয় (হারাম):

  1. কারো দোষ শুধু আনন্দের জন্য বা মানুষকে হেয় করতে বলা
  2. গোপন গুনাহ প্রকাশ করা
  3. অপমানমূলক ডাকনাম ব্যবহার
  4. মিথ্যা বা বাড়িয়ে বলা (এটি গীবত + বুহতান)
  5. কুৎসা রটানো (নামীমা)

গীবত হয় না (জায়েজ):

  1. জুলুমের অভিযোগ — কর্তৃপক্ষ বা বিচারকের কাছে
  2. **ফতোয়া জানতে

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.