হাতে সাধারণ কলমের কালি লেগে থাকলে ওজু ও নামাজের হুকুম কী?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7788
Questioner: Guraba
Question Asked: 02 Nov 2026, 12:02 PM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 12:17 PM
Views: 16
Tokens: 2,461
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হাতে সাধারণ কলমের কালি লেগে গেলে ওজুর সময় মনে না থাকায় ঘষে কলমের কালি না তোলা হয়। ওজুর পর হাতে কালি ছিল কি মনে না থাকায় তাও খেয়াল করা না হয় এবং ওই অবস্থাতেই নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে?

Answer

প্রশ্নোক্ত মাসআলার বিস্তারিত উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

হাতে সাধারণ কলমের কালি লেগে থাকা অবস্থায় ওজু করা এবং ওই ওজুতে নামাজ আদায় করার ফিকহী বিধান হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. সুনির্দিষ্ট শরঈ সিদ্ধান্ত:

হাতে সাধারণ কলমের (বলপেন, ফাউন্টেন পেন ইত্যাদি) কালি লেগে থাকা অবস্থায় ওজুর সময় তা ঘষে না তুললে বা খেয়াল না করলেও আপনার ওজু এবং ওই ওজু দিয়ে আদায়কৃত নামাজ উভয়ই সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও সঠিক হয়েছে। উক্ত নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৭; দরসুল ফিকহ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮১, ৮২; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪১, ১৫২]।


২. ফিকহী ব্যাখ্যা ও মূলনীতি:

১. ওজু বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত: ওজুর ফরয অঙ্গসমূহের ত্বকে (চামড়ায়) পানি পৌঁছানো ওজু বিশুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২৪; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৭]। ২. প্রতিবন্ধক বস্তু বনাম রঙের দাগ: কেবল এমন বস্তু পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে, যা চামড়ার ওপর কোনো কড়া ও জমাটবদ্ধ পুরু আবরণ তৈরি করে (যেমন: নেল পালিশ, জমে যাওয়া মোম, প্লাস্টিক বা পুরু আটার খামির) যার নিচে পানি কোনোভাবেই পৌঁছায় না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২৫; দরসুল ফিকহ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮০, ৮২]। ৩. কলমের কালির শরঈ অবস্থান: সাধারণ কলমের কালি চামড়ার ওপর কোনো কড়া বা পুরু আস্তরণ বা প্রলেপ তৈরি করে না; বরং পানি দিলে পানির আর্দ্রতা চামড়া পর্যন্ত অতি সহজেই পৌঁছে যায়। ফুকাহায়ে কেরামের মূলনীতি অনুযায়ী— রঙ, সাধারণ কালি বা মেহেদির দাগ চামড়ায় থাকলেও তা পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হয় না [দরসুল ফিকহ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮১, ৮২; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪১]। ৪. ফুকাহায়ে কেরামের ফতোয়া: ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগীরী)-তে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, রঙকারীর হাতে বা নখে লাগা রং, কালি কিংবা সামান্য মেছতা/দাগ লেগে থাকা অবস্থায় ওজু করলে তা সম্পূর্ণ আদায় হয়ে যাবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৭; দরসুল ফিকহ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮২]।

সুতরাং ওজু ও নামাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, এতে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।


সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪৭ (অধ্যায়: তাহারাত, ১ম পরিচ্ছেদ: ২য় ফরয — 'রঙকারীর নখ বা হাতে রঙ, কালি কিংবা আটার লেপন থাকলে ওজু সহীহ হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৭]।
  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ): পৃষ্ঠা: ২৪, ২৫ (পরিচ্ছেদ: 'ওজু শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী ও অঙ্গসমূহে পানি পৌঁছানোর বিধান') [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২৪, ২৫]।
  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৮০, ৮১, ৮২ (অধ্যায়: 'পবিত্রতা অর্জন — শরীরে রঙ, কালি ও মেহেদির প্রভাব এবং ওজু হওয়ার ফিকহী সিদ্ধান্ত') [দরসুল ফিকহ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮০, ৮১, ৮২]।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪১, ১৫২ (অধ্যায়: 'বাবুল ওজু — নখ বা চামড়ায় কালি ও রঙ লেগে থাকলে ওজু ও গোসলের হুকুম') [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪১, ১৫২]।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.