অনার্স পরীক্ষার সময় আসরের নামায কাযা করা যাবে কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
আমার আগামী ৩ তারিখ হতে অনার্স ইয়ার ফাইনাল পরিক্ষা। পরিক্ষার সময় দুপুর ১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। মাঝে কোনো বিরতি নেই। এই অবস্থায় কি আসরের নামাজ কাযা পড়া যাবে? নাকি নামাজ আদায় করতেই হবে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
الجواب وبالله التوفيق
আপনার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার বিষয়ে শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে সুনির্দিষ্ট সমাধান নিচে প্রামাণ্য কিতাবসমূহের রেফারেন্স (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ) উপস্থাপন করা হলো:
১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:
১. নামায ওয়াক্তের ভেতরেই আদায় করা ফরয: পরীক্ষা, চাকরি, ব্যবসা বা যেকোনো দুনিয়াবী ব্যস্ততার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাযের ওয়াক্ত পার করে নামাযকে 'কাযা' করা শরী'আতের দৃষ্টিতে ঘোর নাজায়েয ও কবিরা গোনাহ [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৯; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১২৯]।
২. পরীক্ষা শরঈ ওজর নয়: ইসলামী ফিকহে পরীক্ষা বা ক্লাসের ব্যস্ততা নামায কাযা করার মতো শরঈ 'ওজর' (মা'যূর হওয়ার কারণ) হিসেবে গণ্য নয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২০, ১২১]। তাই পরীক্ষার অজুহাতে আসরের নামায কাযা করা যাবে না; নামায ওয়াক্তের ভেতরেই আদায় করতে হবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৯]।
২. পরীক্ষার দিনে আসরের নামায আদায়ের সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান:
নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে আসরের ওয়াক্ত এবং সূর্যাস্তের সময়সীমা অনুসারী আপনার জন্য দুটি অত্যন্ত সহজ শরঈ পন্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে নামায কাযা করা ছাড়াই আপনি পরীক্ষা ও ইবাদত দুটোই সম্পন্ন করতে পারবেন:
পন্থা ১: পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই আসর আদায় করা (সবচেয়ে সহজ উপায়)
- সময়সীমা: নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে বাংলাদেশে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় আনুমানিক বিকেল ৩:৩০ থেকে ৩:৪০ মিনিটের মধ্যে এবং সূর্যাস্ত (মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু) হয় আনুমানিক বিকেল ৫:১৫ থেকে ৫:২০ মিনিটের মধ্যে।
- করণীয়: যেহেতু আপনার পরীক্ষা বিকেল ৫:০০ টায় শেষ হবে, তাই পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই (৫:০০ টায়) দ্রুত ওজু করে কেন্দ্র বা নিকটস্থ জায়গায় সূর্যাস্তের আগেই আসরের ৪ রুকআত ফরয নামায পড়ে নেবেন। সূর্যাস্তের ঠিক পূর্ব মুহূর্তেও যদি ওই দিনের আসরের নামায পড়ে নেওয়া হয়, তবে নামাযটি কাযা হয় না; বরং 'আদা' (ওয়াক্তের ভেতরে নামায আদায়) বলেই গণ্য হয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৬, ১৮৯]।
পন্থা ২: পরীক্ষা হলের মাঝখানে অনুমতি নিয়ে পড়ে নেওয়া
- যদি পরীক্ষা শেষ করে কেন্দ্র থেকে বের হতে ৫:১৫ বেজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষক বা গার্ডের (ইনভিজিলেটর) অনুমতি নিয়ে বিকেল ৪:০০ টা বা ৪:৩০ টার দিকে ৩-৪ মিনিটের জন্য ওয়াশরুমের অজুহাতে বা সরাসরি অনুমতি নিয়ে কেবল আসরের ৪ রুকআত ফরয নামায দ্রুত আদায় করে নেবেন।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: দুপুর ১:০০ টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই ১২:৩০ থেকে ১২:৪৫ এর মধ্যে যোহরের নামায পড়ে হলে প্রবেশ করবেন [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৬]।)
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
-
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৮৬ (অধ্যায়: সালাত, ১ম ও ২য় অনুচ্ছেদ — 'যোহর ও আসরের সময়সীমা এবং সূর্যাস্তের পূর্বে উক্ত দিনের আসর আদায়ের বিশেষ বিধান') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৬]।
- পৃষ্ঠা: ১৮৯ (অধ্যায়: সালাত, ৩য় অনুচ্ছেদ — 'নির্ধারিত ওয়াক্তের মধ্যে নামায পড়া বাধ্যতামূলক হওয়া এবং অহেতুক নামায কাযা করার ফিকহী হুকুম') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৯]।
- পৃষ্ঠা: ১২০–১২১ (অধ্যায়: তাহারাত, ৩য় অনুচ্ছেদ — 'মা'যূরের আহকাম ও পরীক্ষা/ব্যস্ততা শরঈ ওজর না হওয়া সংক্রান্ত নীতিমালা') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২০, ১২১]।
-
নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ১২৯–১৩০ (পরিচ্ছেদ: কাযা নামায আদায় করা — 'ইচ্ছাকৃত নামাযের ওয়াক্ত পার করা কবিরা গোনাহ হওয়া') [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১২৯, ১৩০]।
-
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৪র্থ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৮ (অধ্যায়: 'কাজা সালাতের বিবরণ — পরীক্ষা বা দুনিয়াবী কাজে নামায কাজা করার নিষেধাজ্ঞা ও তা আদায়ের তাগিদ') [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৮]।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ