মাসবুক মনে করে ইমামের সাথে সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়ানো, পরে ভুল বুঝে বসে সালাম ফেরানো — নামাজ হবে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7684
Questioner: Limon
Question Asked: 01 Nov 2026, 06:42 AM
Reviewed & Published: 01 Nov 2026, 02:59 PM
Views: 13
Tokens: 5,716
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,

১.যদি কেউ নিজেকে মাসবুক মনে করে ইমামের সাথে সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়াতে নেয়(অথচ সে মাসবুক নয়) কিন্তু অর্ধেক দাঁড়ানোর আগে সে ভুল বুঝতে পেরে বসে পরে সালাম ফিরায় তবে তার নামাজ কি আদায় হবে?( ফজর ১০ই অক্টোবর ২৬)

২.যদি এমন হয় যে কোনো ব্যাক্তি মাসবুক সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর বাকি যে ফরজ নামাজ পড়ছে কিন্তু কিছুক্ষণ পর ভুল করে সে এই নামাজকে সুন্নত মনে করল এবং নামাজের মধ্যেই তার ভুল বুঝতে পেরে সে ফরজ নামাজ শেষ করল। এতে কি তার নামাজ ভেঙ্গে গেছে?

৩.সকাল সন্ধ্যার যেসব আমলে , ঘুমানোর আমলে, টয়লেটে ঢোকা বা বের হওয়ার দুআতে যে দুআ সূচক বাক্য আছে বা কোনো কিছু চাওয়া হয়েছে(যেমন কুফর শিরক থেকে আশ্রয় ইত্যাদি) এগুলো যদি কেউ মন থেকে না চেয়ে যিকির হিসেবে পড়ে তবে কি তা জায়েয হবে এবং সে সওয়াব পাবে? আর সালাম দেওয়া(নামাজের ভিতরে ফেরেশতাদের বা বাহিরে লোকদের), দরূদ পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম ইত্যাদি যদি অর্থ না বুঝে পড়া হয় তবে কি তা জায়েয হবে এবং সওয়াব পাওয়া যাবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

১. মাসবুক মনে করে ইমামের সাথে সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়ানো, পরে ভুল বুঝে বসে সালাম ফেরানো:

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় ব্যক্তি মাসবুক নয়, কিন্তু মাসবুক মনে করে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে যায় এবং অর্ধেক দাঁড়ানোর আগেই ভুল বুঝতে পেরে বসে পড়ে সালাম ফেরায় — এমতাবস্থায় তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে, নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না। কারণ মাসবুকের ক্ষেত্রে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়ানো ও বাকি নামাজ পূর্ণ করা শরীয়তসম্মত; আর সে যেহেতু নিজের ভুল বুঝতে পেরে অর্ধেক দাঁড়ানোর আগেই বসে গেছে, সেহেতু নামাজের কোনো রুকন বিনষ্ট হয়নি।

এক্ষেত্রে সে দাঁড়ানোর নিকটতম হয়ে থাকলে তার উপর সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে।

২. মাসবুক ইমামের সালামের পর বাকি ফরজ পড়াকালীন ভুলে তা সুন্নত মনে করা, পরে ভুল বুঝে ফরজ শেষ করা:

এমতাবস্থায় তার নামাজ ভেঙে যায়নি, নামাজ আদায় হয়ে যাবে। কারণ মাসবুক ইমামের সালাম ফেরানোর পর যা পড়ছে তা শরীয়ত অনুযায়ী ফরজ; সে ভুলবশত তা সুন্নত মনে করেছে — এটি শুধু অন্তরের ভুল ধারণা, নামাজের কোনো রুকন বা শর্ত বিনষ্ট হয়নি। তবে যদি সে এই ভুল ধারণার কারণে নামাজের কোনো ওয়াজিব তরক করে বা নামাজের কাজের বাইরে কিছু করে, তাহলে সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে। আর যদি শুধু অন্তরে ভুল ধারণা হয় এবং বাহ্যিকভাবে নামাজের সব কাজ যথাযথভাবে আদায় করে, তাহলে নামাজ সহিহ, সিজদা সাহুও ওয়াজিব নয়। (রাদ্দুল মুহতার, ২/৫৪০; ফাতাওয়া উসমানি, ১/৩৯০-৩৯২)

৩. দুআ ও যিকির অর্থ না বুঝে পড়া এবং সওয়াব পাওয়া:

(ক) দুআসূচক বাক্য (যেমন: কুফর-শিরক থেকে আশ্রয় চাওয়া, জান্নাত চাওয়া, ক্ষমা চাওয়া) যদি কেউ মন থেকে না চেয়ে শুধু যিকির হিসেবে পড়ে — এতে দুআর হাকিকত আদায় হয় না, তবে যিকির হিসেবে পড়া জায়েয এবং এর সওয়াব পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। কেননা আল্লাহর যিকির ও কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত সর্বাবস্থায় সওয়াবের কাজ। তবে দুআর বিশেষ ফজিলত ও প্রার্থনার পূর্ণ সওয়াব তখনই পাওয়া যাবে যখন অন্তর থেকে চাওয়া হবে। (মাআরিফুল কুরআন, ১/৪৫-৪৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৭০-২৭২)

(খ) সালাম দেওয়া (নামাজের ভিতরে ফেরেশতাদের প্রতি ইশারায় বা বাইরে লোকদের প্রতি), দরুদ পড়া, আউযুবিল্লাহ পড়া — এসব অর্থ না বুঝে পড়লেও জায়েয এবং সওয়াব পাওয়া যাবে। কারণ এগুলো যিকির ও ইবাদত; অর্থ না জানা ইবাদত বাতিল করে না। তবে অর্থ বুঝে পড়লে খুশু-খুজু ও সওয়াব বৃদ্ধি পায়। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৪৯০; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৭৫; মাআরিফুল কুরআন, ১/৩৯)

(গ) নামাজের ভিতরে সালামের ইশারা: হানাফি মাজহাবে নামাজের মধ্যে ফেরেশতাদের প্রতি বা বাইরের লোকদের প্রতি সালামের ইশারা করা যায় না; এটি নামাজের আদবের পরিপন্থী। তবে বাইরের কেউ সালাম দিলে ইশারায় জবাব দেওয়া যায়। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৫৬০; আল-হিদায়া, ১/১২০)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.