এতিম ভাইয়ের জন্য মাদ্রাসায় বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা কি বৈষম্য বা গুনাহ?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
মাদ্রাসার এতিম ভাইয়ের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা: বৈষম্য বা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত কি?
উত্তর
না, এতে কোনো গুনাহ নেই; বরং এটি সদকা, দান ও এতিমের যত্ন নেওয়ার অন্তর্ভুক্ত—যা ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সওয়াবের কাজ। তবে শর্ত হলো: মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি/সম্মতি থাকা। এক্ষেত্রে মুহতামিম সাহেব/মাদ্রাসা কর্তৃপক্ চাইলে আপনি খাবার গরম করা ও তৈল খরচ বাবদ কিছু টাকা মাদ্রাসায় দিবেন।
এতিমের যত্ন ও ভরণপোষণ ইসলামে মহৎ ইবাদত
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"আর তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।" (সূরা আল-ইনসান: ৮)
"অতএব তুমি এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না।" (সূরা আদ-দুহা: ৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"আমি ও এতিমের প্রতিপালক জান্নাতে এভাবে পাশাপাশি থাকব" — এবং তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দেখালেন। (সহীহ বুখারী: ৫৩০৪)
শাইখ ইবন বায রহ. বলেন, এতিমের ভরণপোষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা সর্বোত্তম সদকা ও কুরবাতের (নৈকট্য লাভের) কাজ। (মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন বায)
"বৈষম্য" প্রশ্নের জবাব
ক) ইসলাম সবাইকে সমান খাবার দিতে বাধ্য করেনি
শাইখ ইবন উসাইমীন রহ. বলেন, মানুষকে খাওয়ানো ও দান করা ব্যক্তির সম্পদ ও সামর্থ্যের সাথে সম্পর্কিত; কেউ বেশি দিলে অন্যদের হক নষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তা ওয়াকফ বা সাধারণ সম্পদের (বায়তুল মাল/মাদ্রাসার ফান্ড) থেকে হয়। (শারহুল মুমতি')
এখানে আপনি নিজের সম্পদ থেকে দিচ্ছেন—এটি আপনার মালিকানার অধীন, তাই আপনি যাকে ইচ্ছা দিতে পারেন। আল্লাহ বলেন:
"তারা নিজেদের সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, অতঃপর যা ব্যয় করেছে তার পেছনে কোনো খোটা বা কষ্ট দেয় না..." (সূরা আল-বাকারা: ২৬২)
তবে সতর্কতা: মাদ্রাসার সাধারণ ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ নয়
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়; তবে অভিভাবক/আত্মীয় সরাসরি তার নিজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে, যদি প্রতিষ্ঠান সম্মতি দেয়। (আল-মুলাখখাস আল-ফিকহী)
অর্থাৎ: বাবুর্চিকে টাকা দিয়ে বিশেষভাবে রান্না করানোর আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নিন—এতে ফিতনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যাবে।