এতিম ভাইয়ের জন্য মাদ্রাসায় বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা কি বৈষম্য বা গুনাহ?

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 7650
Questioner: Mst Shapna Akter
Question Asked: 31 Oct 2026, 01:48 PM
Reviewed & Published: 31 Oct 2026, 02:40 PM
Views: 9
Tokens: 5,032
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার চাচাতো ভাই এতিম। তার বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে, তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর। ছোটবেলা থেকেই সে মাংস ছাড়া ভাত খেতে পারত না। মাদ্রাসায় যাওয়ার পর সে সেখানে আবাসিক থাকে এবং can ছয় মাসের মধ্যে তার বুকের হাড্ডিও বের হয়ে গেছে—খাওয়া-দাওয়া করতে পারে না, সেটা দেখলেই বোঝা যায়। তো আমি কিছু টাকা পাঠিয়েছি আর বলেছি ওকে বেশি করে মাংস রান্না করে মাদ্রাসার ফ্রিজে রেখে আসবেন, আর ওখানকার বাবুর্চিকে বলবেন ও যখন খায় প্রতি বেলা ওকে যেন মাংস গরম করে দেয়। দুধ আর ডিম—এগুলোও দেওয়া হয়। এখন কথা হচ্ছে, আমি আশঙ্কা করি ওর তো অনেক সহপাঠী আছে, সবাইকে তো আর শেয়ার করা হয় না। এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াতে কি কোনো গুনাহ হচ্ছে? যেহেতু অন্য বাচ্চারা হয়তো এভাবে খাবার পায় না, একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে হয়তো।

Answer

মাদ্রাসার এতিম ভাইয়ের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা: বৈষম্য বা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত কি?

উত্তর

না, এতে কোনো গুনাহ নেই; বরং এটি সদকা, দান ও এতিমের যত্ন নেওয়ার অন্তর্ভুক্ত—যা ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সওয়াবের কাজ। তবে শর্ত হলো: মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি/সম্মতি থাকা। এক্ষেত্রে মুহতামিম সাহেব/মাদ্রাসা কর্তৃপক্ চাইলে আপনি খাবার গরম করা ও তৈল খরচ বাবদ কিছু টাকা মাদ্রাসায় দিবেন।

এতিমের যত্ন ও ভরণপোষণ ইসলামে মহৎ ইবাদত

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"আর তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।" (সূরা আল-ইনসান: ৮)

"অতএব তুমি এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না।" (সূরা আদ-দুহা: ৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"আমি ও এতিমের প্রতিপালক জান্নাতে এভাবে পাশাপাশি থাকব" — এবং তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দেখালেন। (সহীহ বুখারী: ৫৩০৪)

শাইখ ইবন বায রহ. বলেন, এতিমের ভরণপোষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা সর্বোত্তম সদকা ও কুরবাতের (নৈকট্য লাভের) কাজ। (মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন বায)


"বৈষম্য" প্রশ্নের জবাব

ক) ইসলাম সবাইকে সমান খাবার দিতে বাধ্য করেনি

শাইখ ইবন উসাইমীন রহ. বলেন, মানুষকে খাওয়ানো ও দান করা ব্যক্তির সম্পদ ও সামর্থ্যের সাথে সম্পর্কিত; কেউ বেশি দিলে অন্যদের হক নষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তা ওয়াকফ বা সাধারণ সম্পদের (বায়তুল মাল/মাদ্রাসার ফান্ড) থেকে হয়। (শারহুল মুমতি')

এখানে আপনি নিজের সম্পদ থেকে দিচ্ছেন—এটি আপনার মালিকানার অধীন, তাই আপনি যাকে ইচ্ছা দিতে পারেন। আল্লাহ বলেন:

"তারা নিজেদের সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, অতঃপর যা ব্যয় করেছে তার পেছনে কোনো খোটা বা কষ্ট দেয় না..." (সূরা আল-বাকারা: ২৬২)

তবে সতর্কতা: মাদ্রাসার সাধারণ ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ নয়

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়; তবে অভিভাবক/আত্মীয় সরাসরি তার নিজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে, যদি প্রতিষ্ঠান সম্মতি দেয়। (আল-মুলাখখাস আল-ফিকহী)

অর্থাৎ: বাবুর্চিকে টাকা দিয়ে বিশেষভাবে রান্না করানোর আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নিন—এতে ফিতনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যাবে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.