স্বামী প্রবাসে থাকলে পানি দ্বারা ক্লিটোরিস ঘর্ষণ কি হস্তমৈথুনের অন্তর্ভুক্ত?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২]যদি স্বামী প্রবাসে থাকে একা থাকা কষ্টকর হয়ে যায় বারবার গুনাহের চিন্তা আসে তাহলেও কি পানি দ্বারা ক্লিটোরিস ঘর্ষণ গুনাহের কাজ হবে?
এইটা কি হস্তমৈথুনের মধ্যে পড়ে?যেহেতু এখানে হাত ব্যাবহার করা হয়না তাই মনে হয় এভাবে করলে হস্তমৈথুনের মধ্যে পড়বেনা। হস্তমৈথুনের শাস্তি কি?
২]কিস করা জড়িয়ে ধরা দেখলে তো পর্নোগ্রাফির দেখার মতো সেম গুনাহ হবে তাইনা?এমনকি কোনো নন- মাহরামের চেহারার দিকে বারবার তাকালেও কি একই গুনাহ হবে?
আগের প্রশ্নের মধ্যে এই উত্তরগুলো বুঝিনি তাই আবার করা।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবিক। নিচে হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব ও উলামায়ে কেরামের ফতোয়ার আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো।
প্রথম প্রশ্ন: পানির ধারা দ্বারা ক্লিটোরিস ঘর্ষণ ও হস্তমৈথুনের বিধান
উত্তর:
পানি বা অন্য কোনো বস্তু দ্বারা যৌনাঙ্গ ঘর্ষণ করে বীর্যপাত বা যৌন তৃপ্তি লাভ করার চেষ্টা করা হস্তমৈথুন (ইস্তিমনা)-এর অন্তর্ভুক্ত। হাত ব্যবহার না করলেও এটি হস্তমৈথুনেরই একটি পদ্ধতি, কারণ মূল বিষয় হলো ইচ্ছাকৃতভাবে যৌনাঙ্গকে উত্তেজিত করা ও বীর্যপাত ঘটানো।
হানাফি ফিকহের কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ (ইবনে আবিদীন) এ উল্লেখ আছে:
“ইস্তিমনা অর্থ নিজ হাত বা অন্য কোনো বস্তু দ্বারা বীর্যপাত করা। এটি হারাম, যদি না স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈধ উপায় সম্ভব না হয় এবং ব্যভিচারের আশঙ্কা থাকে। তবে সাধারণ অবস্থায় এটি নাজায়েয ও গুনাহ।”
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭১)
ফতোয়ায়ে উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানি) তে বলা হয়েছে:
“হস্তমৈথুন (ইস্তিমনা) সকল প্রকারেই হারাম। কেবলমাত্র যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাহলে কিছু হানাফি আলিম শুধু তা থেকে বাঁচার জন্য অনুমতি দিয়েছেন, তবে তা তাওবার সঙ্গে শর্তযুক্ত।”
(সারমর্ম: আপনার অবস্থায় একাকীত্ব ও কষ্টকর পরিস্থিতি থাকলেও পানির ধারা দ্বারা ক্লিটোরিস ঘর্ষণ করা ইস্তিমনা-ই গণ্য হবে এবং এটি গুনাহের কাজ। কারণ, এতে আল্লাহর নির্দেশিত পবিত্র পন্থা (স্বামীর সাথে বৈধ সহবাস) ব্যতীত অন্য উপায়ে যৌন তৃপ্তি লাভ করা হয়।)
শাস্তি বা কাফফারা:
হস্তমৈথুনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুনিয়াবি শাস্তি (হদ্দ) নেই। তবে এটি কাবীরা গুনাহ, যার জন্য আন্তরিক তাওবা ও ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প জরুরি। তাওবা শর্ত:
১. সঙ্গে সঙ্গে কাজটি বন্ধ করা।
২. অতীতের জন্য লজ্জিত হওয়া ও অনুতপ্ত হওয়া।
৩. ভবিষ্যতে না করার পাকা ইচ্ছা করা।
হানাফি ফিকহে বিধান:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, হস্তমৈথুন নাজায়েয।
- ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, এটি মাকরুহে তাহরিমি (হারামের কাছাকাছি)।
(গুরুত্বপূর্ণ নোট: একাকীত্ব ও কষ্টকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোজা রাখা, আল্লাহর জিকির করা, সময়কে কাজে লাগানো এবং দ্বীনি ইলম অর্জনের প্রতি মনোযোগী হওয়া উত্তম পন্থা। প্রবাসে থাকলে স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলা এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখাও সহায়ক।)
দ্বিতীয় প্রশ্ন: কিস করা, জড়িয়ে ধরা ও পর্নোগ্রাফি দেখা এবং নন-মাহরামের চেহারার দিকে বারবার তাকানো
উত্তর:
১. কিস করা, জড়িয়ে ধরা বা যৌন দৃশ্য দেখা:
এগুলো পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল ভিডিও/ছবির অন্তর্ভুক্ত। পর্নোগ্রাফি দেখা হারাম এবং এটি বড় গুনাহ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
“মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে।”
(সূরা নূর: ৩০)
ইমাম তাবারী ও ইবনে কাসির (রহ.)-এর তাফসিরে উল্লেখ আছে, এই আয়াতের মধ্যে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও দেখাও অন্তর্ভুক্ত।
‘মাআরিফুল কুরআন’ (মুফতি মুহাম্মদ শফি) এ বলা হয়েছে:
“যে সকল দৃশ্য বা ছবি যৌন কামনা জাগ্রত করে, তা দেখা জায়েয নেই।”
২. নন-মাহরামের চেহারার দিকে বারবার তাকানো:
- শাহওয়াত (যৌন কামনা) সহকারে তাকালে তা হারাম ও গুনাহ।
- শাহওয়াত ছাড়া সাধারণভাবে তাকানোও অপ্রয়োজনে মাকরুহ; কারণ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দৃষ্টি নত করতে আদেশ করেছেন।
হাদিসে এসেছে:
“যে ব্যক্তি কোনো নন-মাহরাম নারীর দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকায়, কিয়ামতের দিন তার চোখে গলিত পিতল ভরা হবে।”
(মিশকাত, হা/৩১৫১)
তবে, প্রয়োজনে (যেমন কেনাকাটা, চিকিৎসা ইত্যাদি) একবার বা দুবার দেখায় গুনাহ নেই, কিন্তু বারবার তাকানো বা দৃষ্টি স্থির রাখা নিষিদ্ধ।
(সারমর্ম: ‘কিস করা, জড়িয়ে ধরা’র দৃশ্য দেখা পর্নোগ্রাফি দেখার মতো গুনাহ এবং নন-মাহরামের চেহারার দিকে বারবার তাকানোও গুনাহ।)
আগের উত্তর বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কারণ:
সম্ভবত আগের উত্তরে সংক্ষেপে বলা হয়েছিল। এখানে বিস্তারিত উত্তরের মাধ্যমে আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট হলো।
সর্বশেষ উপদেশ:
- আল্লাহর ভয় ও তাকওয়া অবলম্বন করুন।
- একাকীত্বে গুনাহের চিন্তা এলে বেশি বেশি ফজিলতপূর্ণ আমল (যেমন তাহাজ্জুদ, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত) করুন।
- প্রবাসে থাকলে দ্বীনি পরিবেশ তৈরি করুন এবং সঙ্গী বাছাই করুন।
- গুনাহ করে ফেললে নিরাশ না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাওবা করুন। আল্লাহ তাআলা অনেক ক্ষমাশীল।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন।