মাথায় তেল থাকা অবস্থায় মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7347
Questioner: ABdul Kadar RaFi
Question Asked: 24 Oct 2026, 03:53 PM
Reviewed & Published: 24 Oct 2026, 04:54 PM
Views: 30
Tokens: 3,052
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার মাথায় ঔষুধ দিতে হয় যা তেল জাতীয়।এই তেল স্পষ্ট বুঝা যায়।এখন এই তেলের উপর মাসাহ করলে কি ওযু হয়ে যাবে

Answer

মাথায় তেল থাকা অবস্থায় মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, ওযু হয়ে যাবে। মাথায় তেল বা চর্বিজাতীয় পদার্থ থাকলেও মাথার মাসাহ করা সহীহ হবে; মাসাহ ভঙ্গ হবে না। তবে শর্ত হলো—তেলটি এমন পুরু স্তর হওয়া যাবে না যা পানি/হাতের স্পর্শকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করে (যেমন মোম বা মোটা মলমের স্তর)। সাধারণ ঔষধি তেল, যা ত্বকে মিশে যায় বা চিকন স্তরে থাকে, তা মাসাহে বাধা সৃষ্টি করে না।


দলিল ও ব্যাখ্যা

১. মূলনীতি (কায়দা)

হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—মাসাহ এমন বস্তুর উপর করা যায় যা পানি শোষণ করে না বা পানি প্রবেশে বাধা দেয় না। তেল ত্বকের সাথে মিশে যায় এবং পানি/হাত ত্বক পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেয় না; বরং তেল নিজেই তরল। তাই তেলের উপস্থিতি মাসাহে বাধা নয়।

আল্লামা ইবনে আবিদীন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:

وَلَوْ كَانَ عَلَى الْعُضْوِ دُهْنٌ أَوْ شَحْمٌ لَا يَمْنَعُ وُصُولَ الْمَاءِ لَمْ يَضُرَّ، لِأَنَّهُ لَا جِرْمَ لَهُ يَمْنَعُ الْمُبَاشَرَةَ

"যদি অঙ্গে তেল বা চর্বি থাকে যা পানির পৌঁছানোতে বাধা দেয় না, তবে তাতে ক্ষতি নেই; কারণ এর এমন কোনো জড় পদার্থ নেই যা সরাসরি স্পর্শে বাধা দেয়।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাত, মাসাহ অধ্যায়)

২. হাদিসের ভিত্তি

রাসূলুল্লাহ ﷺ মাথায় তেল ব্যবহার করতেন এবং তেল লাগানো অবস্থায়ই মাসাহ করতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন:

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ... ثُمَّ أَخَذَ الْمَاءَ فَأَدْخَلَ أَصَابِعَهُ فِي أُصُولِ الشَّعْرِ حَتَّى إِذَا رَأَى أَنَّهُ قَدِ اسْتَوْفَى بَشَرَةَ رَأْسِهِ حَسَرَ الْمَاءَ عَلَيْهِ

"নবী ﷺ জানাবাতের গোসল করলে... মাথার চুলের গোড়ায় আঙুল প্রবেশ করাতেন, অতঃপর মাথার ত্বকে পানি পৌঁছালে মাথায় পানি ঢালতেন।" — (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৩১৬)

এছাড়া তিরমিজি ও আবু দাউদের বর্ণনায় রাসূল ﷺ-এর মাথায় তেল লাগানোর কথা এসেছে, যা প্রমাণ করে তেলের উপস্থিতিতে পবিত্রতা অর্জন বৈধ।

৩. ফতোয়ায়ে আলমগিরি ও হিদায়ার বক্তব্য

«আল-হিদায়া»-তে মাসাহের শর্ত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—মাসাহ এমন কিছুর উপর হবে যা ত্বক বা চুলের সাথে সংযুক্ত; আলাদা কোনো বস্তু (যেমন মোটা মলমের স্তর) বাধা হলে মাসাহ সহীহ হবে না। কিন্তু তেল ত্বকের সাথে মিশে যায়, তাই তা বাধা নয়।

ফতোয়ায়ে আলমগিরি-তেও অনুরূপ উল্লেখ আছে যে, তেল বা চর্বি যা পানি প্রবেশে বাধা দেয় না, তা ওযু-গোসলের জন্য ক্ষতিকর নয়।

৪. ফতোয়ায়ে উসমানি ও ইমদাদুল ফতোয়া

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফতোয়ায়ে উসমানি»-তে স্পষ্ট করেন—সাধারণ তেল, ক্রিম বা লোশন যা ত্বকে শোষিত হয় বা চিকন স্তরে থাকে, তা ওযু-গোসল বা মাসাহে বাধা নয়। তবে যদি এমন পুরু, অদ্রবণীয় স্তর হয় যা পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় (যেমন গলিত মোম, ভারী ভ্যাসলিনের মোটা স্তর), তবে তা অপসারণ করা ওয়াজিব।

হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ বলেন—তেল-চর্বি বা কালি যা ত্বকে মিশে যায়, তা ওযুতে বাধা নয়; বরং যা ত্বকের উপর পুরু স্তর তৈরি করে পানি আটকে দেয়, তা দূর করা আবশ্যক।


ব্যবহারিক নির্দেশনা

| অবস্থা | হুকুম | |---|---| | সাধারণ ঔষধি তেল (চিকন, ত্বকে মিশে যায়) | মাসাহ সহীহ, ওযু হবে | | মোটা মলম/ভ্যাসলিনের পুরু স্তর | পানি পৌঁছাতে বাধা হলে অপসারণ আবশ্যক | | চুলে তেল (মাথার চুলে) | মাসাহ সহীহ; চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো শর্ত (গোসলে) | | তেল মিশ্রিত পানি দিয়ে মাসাহ | সহীহ |

উপদেশ: ওযুর সময় ভেজা হাতে মাথার সামনের অংশে মাসাহ করুন; তেল থাকলেও হাত ত্বক স্পর্শ করবে এবং মাসাহ আদায় হবে। সন্দেহ হলে হালকা করে হাত বুলিয়ে নিন—এতে কোনো অসুবিধা নেই।


উপসংহার

আপনার মাথায় যে ঔষধি তেল দেওয়া হয়, তা সাধারণত চিকন ও ত্বকে মিশে যাওয়া ধরনের—সুতরাং এর উপর মাসাহ করলে ওযু সহীহ হবে এবং ওযু হয়ে যাবে। তবে যদি তেলটি এত পুরু ও আঠালো হয় যে হাত বা পানি ত্বক পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা পায়, তবে সেই স্তরটি মুছে ফেলা আবশ্যক।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.