সন্তানের উপহারের টাকা ব্যয় প্রসঙ্গে

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7337
Questioner: Jerin
Question Asked: 24 Oct 2026, 11:51 AM
Reviewed & Published: 24 Oct 2026, 12:40 PM
Views: 40
Tokens: 3,659
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ৷
আমার নবজাতক সন্তানকে অনেক সময় আত্মীয় পরিজন উপহার হিসেবে টাকা দেন। দেওয়ার সময় কেউ বলেন জামা কিনে দিতে, হাতের চুড়ি কিনে দিতে ইত্যাদি। এখন উক্ত টাকা যদি তাদের কথামতো ওইসব খাতে ব্যয় না করে আমার সন্তানেরই প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাত যেমন খেলনা কিনে দেওয়া, ডায়পার কিনে দেওয়া এসব উদ্দেশ্যে ব্যয় করি তবে কি জায়েয হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

** উত্তর:**
নবজাতক সন্তানকে আত্মীয়স্বজন যে টাকা উপহার হিসেবে দেন, তা সন্তানের মালিকানায় চলে যায় (শিশুর পক্ষে অভিভাবক তা গ্রহণ ও সংরক্ষণ করেন)। দাতা যদি শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু (যেমন জামা, চুড়ি) কেনার কথা বলেন, তবে সেই শর্ত পালন করা।

সুতরাং কেহ যদি সন্তানকে হাদিয়া দেয়ার সময় বলেন যে জামা কিনে দিতে, হাতের চুড়ি কিনে দিতে ইত্যাদি। এখন উক্ত টাকা যদি তাদের কথামতো ওইসব খাতে ব্যয় না করে আপনার সন্তানেরই প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাত যেমন খেলনা কিনে দেওয়া, ডায়পার কিনে দেওয়া এসব উদ্দেশ্যে ব্যয় করেন, তবে তাহা জায়েয হবেনা।

এক্ষেত্রে তারা যে বস্তুটি কিনে দিতে বলে, সেটি কিনে দেওয়া আপনার উপর আবশ্যক।

হ্যাঁ যদি তাদের সম্মতি নিয়ে অন্য কিছু ক্রয় করে দেন অথবা তারা যদি কোন কিছু নির্দিষ্ট করে কিনে দিতে না বলে এমতাবস্থায় আপনি বাচ্চার যেকোনো জরুরতে তাহা খরচ করতে পারবেন।

হাদিসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন:

«الْهِبَةُ لَا تَرْجِعُ»
“দান (হিবা) ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৫৪০; সুনানে তিরমিজি, হাদিস ২১৩২ — ইমাম তিরমিজি হাসান সহিহ বলেছেন)

আরও এসেছে:

«الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْعَائِدِ فِي قَيْئِهِ»
“নিজের দান ফিরিয়ে নেওয়া ব্যক্তি নিজের বমি ভক্ষণকারীর মতো।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ২৬২২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬২০)

ফিকহের মূলনীতি হলো—

«الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ»
“মুসলিমরা নিজেদের শর্তের উপর প্রতিষ্ঠিত।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৫৯৪; সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১৩৫২ — হাসান সহিহ)

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, হিবায় শর্ত আরোপ করলে তা পালন করা আবশ্যক, যদি তা শরিয়তবিরোধী না হয়। (রাদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ৬৮৭-৬৯০; ফাতাওয়া আলমগিরি, খ. ৪, পৃ. ৩৮৫)

ইসলামে সন্তানের লালন-পালন ও প্রয়োজন পূরণে অভিভাবককে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসূল ﷺ বলেছেন:

«كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ»
“তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৯৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮২৯)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.