কাজা রোজা রাখার নিয়ত করে রোজা ভেঙে ফেললে কি আবার রাখতে হবে?

Siyam-Fasting · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 7333
Questioner: Zannatul Ferdous Sharia
Question Asked: 24 Oct 2026, 09:36 AM
Reviewed & Published: 24 Oct 2026, 10:50 AM
Views: 35
Tokens: 3,095
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কাজা রোজা রাখার নিয়ত করে রোজা ভেঙে ফেললে কি এই রোজাটি আবার রাখতে হবে? যেমন, সুন্নত বা নফল রোজা রেখে ভেঙে ফেললে যেভাবে আবার রোজা রাখতে হয়, সেভাবে কি কাজা রোজার ক্ষেত্রেও আবার রোজা রাখতে হবে?

Answer

কাজা রোজা রাখার নিয়ত করে রোজা ভেঙে ফেললে করণীয়

সংক্ষিপ্ত উত্তর

**হ্যাঁ, কাজা রোজা রাখার নিয়ত করে রোজা ভেঙে ফেললে সেই রোজাটি আবার রাখতে হবে।

** কারণ কাজা রোজা হলো একটি স্থিরকৃত দায় (দেনা) — যা আল্লাহর হক হিসেবে বান্দার উপর বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। এটি নফল বা সুন্নত রোজার মতো নয়; বরং এটি ফরজ রোজার কাযার সমতুল্য একটি ওয়াজিব ইবাদত। তাই তা আদায় না করে ভেঙে ফেললে দায় বহাল থাকে এবং পুনরায় রাখতে হবে।


দলিল ও ব্যাখ্যা

১. কাজা রোজা একটি স্থির দায় (دين ثابت)

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে, তাদের জন্য অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করা কর্তব্য।" — [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৪]

এই আয়াতে কাজা রোজাকে "পূরণ করা কর্তব্য" (فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি একটি ঋণ, যা আদায় না হওয়া পর্যন্ত বান্দার যিম্মায় থাকে।

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস: আল্লাহর দেনা আদায় করা অধিক যোগ্য

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"আল্লাহর দেনা (ঋণ) আদায় করার অধিক হকদার।" — [সহীহ বুখারী: ১৯৫৩; সহীহ মুসলিম: ১১৪৮]

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক মহিলা বললেন: "আমার মা এক মাসের রোজার মানত করেছিলেন, কিন্তু তা পূরণ করার আগেই মারা যান।" নবী ﷺ বললেন: "তুমি কি তার পক্ষ থেকে আল্লাহর দেনা আদায় করবে না? আল্লাহর দেনা আদায় করার অধিক হকদার।" — [সহীহ বুখারী: ১৯৫৩]

৩. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়yah রহ.-এর বক্তব্য

ইবনে তাইমিয়yah রহ. বলেন, ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত শুরু করার পর তা ভেঙে ফেলা হলে তা আবার আদায় করা আবশ্যক, কারণ তা আল্লাহর হক হিসেবে স্থির হয়ে গেছে। আর নফল ইবাদত শুরু করে ভেঙে ফেললে তা কাযা করা ওয়াজিব নয় — এটি জুমহুর উলামার মত (যদিও কিছু উলামা নফল পূর্ণ করা মুস্তাহাব বলেছেন)। [মাজমূ' আল-ফাতাওয়া]

৪. শাইখ ইবনে উসাইমীন রহ.-এর ফতোয়া

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "এক ব্যক্তি কাজা রোজা রাখছিলেন, পরে ভেঙে ফেললেন — তার করণীয় কী?" তিনি উত্তর দেন:

"তাকে সেই রোজাটি পুনরায় রাখতে হবে; কারণ কাজা রোজা হলো একটি স্থির দায়, যা আদায় করা আবশ্যক। আর যে ব্যক্তি ফরজ বা ওয়াজিব রোজা শুরু করে তা ভেঙে ফেলে, তার উপর তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব।" — [ফাতাওয়া নূরুন 'আলাদ-দারব / ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন, সিয়াম অধ্যায়]

৫. শাইখ ইবনে বায রহ.-এর বক্তব্য

শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায রহ. বলেন, কাজা রোজা হলো ফরজ রোজার স্থলাভিষিক্ত, তাই এর হুকুম ফরজ রোজার মতোই। এটি শুরু করার পর ভেঙে ফেললে তা পুনরায় আদায় করতে হবে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধানও প্রযোজ্য হবে। [মাজমূ' ফাতাওয়া ইবনে বায]


সারসংক্ষেপ

  • কাজা রোজা রাখার নিয়ত করে ভেঙে ফেললে সেই রোজাটি পুনরায় রাখা ওয়াজিব।
  • এটি আল্লাহর দেনা; দেনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত দায় বহাল থাকে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.