- খুলা তালাক গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এখন সে আমাকে মুখে তালাক দিতে পারবে নাহ, এমন বলছে ।
এখন আবার প্রশণ সে যদি মন থেকে নাহ চায় আমাকে তালাক নাহ দিতে , কিন্তু আমার জন্য সে খুলা তালাক লিখে দিল , তাহলে কি হবে ?
আখন সে আমাকে রাখতেও পাচ্ছে নাহ , তার উপর হারামে জড়িয়ে যাবার এক রিস্ক , এমন মানুষের সাথে আমার পক্ষে সম্ভব নাহ , আমার অর্থনীনি ভরন পোষ ন কি দিবে , যেখানে সে ১৫ লাখের মত দেনা , পালিয়ে পালিয়ে থাকে , তার সাথে সং সার করে , বাচ্চা নেওয়া , মানুষ করা কিভাবে সম্ভব , আমি তার সাথ কইয়েক মাস ছিলাম , তার ওসব জানার পর যদি শুধরায় , কিন্তু আমাকে সে ধার এ ডূবিয়েছিল, আমি আলহামদুলিল্লাহ জব করে পার পেলেও আমার সেমিস্টার ড্রপ গিয়েছিল, ্তারপর মুখে মুখে সে আমাকে বলেছিল তালাকের ব্যপারে , আপনি যা চান তাই হবে , পরে ১ বছর আর কথা হয় নি , এখন জানলাম সেই তালাক হয় নি, সে তখনো বলেছিল ,আমি মুখে তালাক শব্দ উচ্চারন করে , মুখে দিতে পারবো নাহ , এখন আমি তাকে টেক্সট দিলাম , একই কথা , আমি মুখে এটা দিতে পারব নাহ , অন্য উপায় আছে কি। এখন আমি কি করবো, ইস লামে সমাধান কি
অন্য কোনো কি উপায়ে আমি তার থেকে কিভাবে কি নিলে খুলা তালাক হবে । প্রসেস বলেন , যেটা করতেই হবে , আর এটাও বলেন কি কি করলে আবার কুলা হবে নাহ ।
এখন আমি তার সাথে হোয়াটস্যাপে কিভাবে খুলা নিব?
এবং এখানে সাক্ষি কিভাবে আনাব?
আমার দিকে বোনেরা , তাদের ফিয়ন্সে , স্বামী থাকলে হবে নাহ , তার দিকে আবার তার লোক লাগবে কি ?
অনলাইনে কিভাবে কর আযায় ব =লুন , আর যদি সেটা নাহ করা যায় অফ্লাইনে করা কি বাধ্যতামূলক, করলেও কিভাবে করবো , স্পস্ট বিস্তারিত বলুন
Answer
খুলা (তালাকের বিনিময়ে মুক্ত হওয়া) সম্পর্কিত বিস্তারিত ফতোয়া
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد
বোন, আপনার প্রশ্নের প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় (হোয়াটসঅ্যাপে খুলা নেওয়ার নিয়ম, সাক্ষীর শর্তাবলী, অনলাইনে করার পদ্ধতি এবং অফলাইনের প্রয়োজনীয়তা) ফাতাওয়া ও ফিকহে হানাফীর প্রামাণ্য কিতাবসমূহের সিদ্ধান্তের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ নিচে অত্যন্ত স্পষ্ট ও ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:
১. হোয়াটসঅ্যাপে বা অনলাইনে 'খুলা' নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি:
শরয়ী সিদ্ধান্ত: হোয়াটসঅ্যাপ বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে লিখিতভাবে বিচ্ছেদের প্রস্তাব দেওয়া ও তা গ্রহণ করা শরীআতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সহীহ ও কার্যকর ।
হোয়াটসঅ্যাপে খুলা নেওয়ার ৩টি সহজ ধাপ:
- ধাপ ১ (আপনার লিখিত প্রস্তাব): আপনি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজে স্পষ্ট করে লিখবেন:
"আমি [আপনার নাম], আমার দেনমোহর এবং আপনার কাছে আমার পাওনা ১ লাখ+ টাকার ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করার বিনিময়ে আপনাকে খোলার (বিচ্ছেদের) প্রস্তাব দিচ্ছি। আপনি যদি এই শর্তে রাজি থাকেন, তবে জবাবে লিখুন: 'আমি তোমার প্রস্তাব মেনে নিলাম এবং তোমাকে খোলার মাধ্যমে ১টি তালাকে বায়েইন প্রদান করলাম।'"
- ধাপ ২ (স্বামীর লিখিত সম্মতি): স্বামী উত্তর হিসেবে এই মেসেজটির জবাবে স্পষ্ট ভাষায় লিখে পাঠাবে:
"আমি তোমার প্রস্তাব মেনে নিলাম এবং তোমাকে খোলা করলাম / ১টি তালাকে বায়েইন প্রদান করলাম।" (বিশেষ সতর্কবার্তা: স্বামী যেন কোনো চাতুরি না করে; উত্তরটি যেন স্পষ্ট হয়। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ঐ একই কথা তাকে দিয়ে ১টি ভয়েস নোটে বলিয়ে নেবেন বা ভয়েস রেকর্ড রেখে দেবেন) ।
- ধাপ ৩ (সাক্ষী সামনে রাখা): মেসেজ আদান-প্রদান করার সময় ২ জন বালেগ মুসলিম পুরুষকে তা সরাসরি দেখাতে হবে বা তাদেরকে নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই প্রস্তাব ও সম্মতি সম্পন্ন করতে হবে ।
২. সাক্ষী সংক্রান্ত বিধান ও শর্তাবলী:
- সাক্ষীর শরয়ী যোগ্যতা: ইসলামি ফিকহে যেকোনো বিচ্ছেদ বা চুক্তির সাক্ষী হতে হলে কমপক্ষে ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ), সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম পুরুষ হতে হবে (অথবা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী) ।
- আপনার বোন, ভগ্নিপতি বা তাদের ফিয়াঁসে সাক্ষী হতে পারবে কি না?
- হ্যাঁ, অবশ্যই পারবে । ফিকহে হানাফীতে আপন বোন, বোনের স্বামী (ভগ্নিপতি) কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ ফিয়াঁসে সাক্ষী হতে কোনো শরয়ী বাধা নেই।
- তবে মনে রাখবেন, শুধু নারীরা (যেমন: কেবল বোনেরা) একা সাক্ষী হতে পারবে না । পুরুষ সাক্ষী থাকা শর্ত। তাই ১ জন পুরুষ + ২ জন নারী (যেমন: ১ জন ভগ্নিপতি/পুরুষ ফিয়াঁসে + ২ জন বোন) অথবা ২ জন পুরুষ মিলে সাক্ষী হবেন ।
- স্বামীর পক্ষের লোক সাক্ষী থাকা কি বাধ্যতামূলক?
- না, মোটেই বাধ্যতামূলক নয়। সাক্ষী আপনার পক্ষের আত্মীয় বা অন্য যেকোনো ২ জন বালেগ মুসলিম পুরুষ হলেই চুক্তি সহীহ হয়ে যাবে। স্বামীর পরিবারের কাউকে সাক্ষী বানানোর কোনোই প্রয়োজন নেই।
৩. অনলাইনে করার নিয়ম বনাম অফলাইন কি বাধ্যতামূলক?
- অনলাইনের শরয়ী অবস্থা: হোয়াটসঅ্যাপে উল্লেখিত উপায়ে স্পষ্ট ইজাব (প্রস্তাব), কবুল (সম্মতি) এবং ২ জন বালেগ মুসলিমের সাক্ষ্য বা উপস্থিতিতে মেসেজ আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়ে গেলে তালাক/খোলা শরীআতের বিচারে সাথে সাথেই কার্যকর হয়ে যাবে।
- অফলাইন (কাজী অফিস) কি বাধ্যতামূলক?
- শরীআতের জন্য: অনলাইনের চুক্তিই যথেষ্ট, আলাদা অফলাইনের প্রয়োজন নেই ।
- আইনি ও ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য: অফলাইনে কাজী অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও বাধ্যতামূলক। কারণ ভবিষ্যতে আপনি যখন ২য় বিবাহ করবেন, তখন সরকারি আইন অনুযায়ী কাজী আপনার পূর্বের বিচ্ছেদের সরকারি 'খোলা সনদ/ডিভোর্স সার্টিফিকেট' দেখতে চাইবে।
কাজী অফিসের মাধ্যমে অফলাইনে করার সঠিক নিয়ম:
১. আপনি সরকারি স্বীকৃত কাজী অফিসে যাবেন । ২. কাজী সাহেবকে বলবেন যে, আপনারা খোলার মাধ্যমে বিচ্ছেদ করতে চান। কাজী সাহেব সরকারি ডিভোর্স রেজিস্ট্রি বইয়ে খোলার তথ্য লিখবেন। ৩. স্বামী যদি নিজে কাজী অফিসে সশরীরে আসতে না চায়, তবে কাজী সাহেব সরকারি ডিভোর্স ফর্মে স্বামীর স্বাক্ষরের জন্য কাগজ প্রস্তুত করবেন। ৪. কাজী সাহেব ঐ ফর্মটি ডাকযোগে/কুরিয়ারে স্বামীর ঠিকানায় পাঠাবেন বা আপনি হোয়াটসঅ্যাপে তাকে পাঠাবেন। সে সেখানে সই করে কাজীর নিকট ফেরত পাঠালেই কাজী সাহেব সরকারি তালাকনামা/খোলা সার্টিফিকেট ইস্যু করে দেবেন।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৯৮–৩৯৯ (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: লিখিত তালাকের বিবরণ): (মেসেজ, চিঠি বা লিখিত যোগাযোগের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ও তালাক কার্যকর হওয়ার প্রামাণ্য ফিকহী মূলনীতি) ।
- পৃষ্ঠা: ২৭৪–২৭৫ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, সাক্ষীর বিবরণ): (২ জন বালেগ পুরুষ বা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারীর উপস্থিতিতে যেকোনো বিবাহ/বিচ্ছেদের চুক্তি সহীহ হওয়া এবং পক্ষের আত্মীয়রা সাক্ষী হতে পারার বিবরণ) ।
- পৃষ্ঠা: ৪৮৮ (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক, ৮ম পরিচ্ছেদ: আল-খোলা): (খোলার প্রস্তাব ও সম্মতির সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী)।
২. দরসুল ফিকহ:
- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৬৭ (অধ্যায়: তালাক ও ডিভোর্সের শর'য়ী বিধান): (অনলাইন ও লিখিত মাধ্যমের বিচ্ছেদের শরয়ী স্বীকৃতি)।
- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৬৯ (অধ্যায়: খোলা তালাকের বিবরণ): (বিনিময় নির্ধারণ ও ইজাব-কবুলের নিয়ম)।
- ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৬–১১৮ (অধ্যায়: আকদের শর্তাবলী — সাক্ষীর যোগ্যতা): (আত্মীয়-স্বজন ও বোোনেরা/ভগ্নিপতিরা সাক্ষী হতে পারার অকাট্য ফতোয়া)।
৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:
- ১৩শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮০–১৮১ (অধ্যায়: বাবুল ফাসখি ওয়াত তাফরীইক): (কাজী অফিসের মাধ্যমে আইনি ও শরয়ী বিচ্ছেদ রেজিস্ট্রি করার প্রয়োজনীয়তা)।
- ১১শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৫ (অধ্যায়: কিতাবুল খোলা): (খোলার বিচ্ছেদ ১টি তালাকে বায়েইন হিসেবে গণ্য হওয়া)।
আল্লাহ ভালো জানেন।