বিয়ে রেজিস্ট্রির সাক্ষী ছাড়া অন্য সাক্ষী থাকলে বিয়ে সহিহ হবে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7230
Questioner: Jannatul Maowa
Question Asked: 21 Oct 2026, 10:15 PM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 10:36 PM
Views: 21
Tokens: 4,355
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে...এর পর
কাজী/মৌলভি দিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নেওয়ার সময়.. রেজিস্ট্রির সময় যারা সাক্ষী ছিলেন, ওনাদের ছাড়া অন্য কেউ সাক্ষী হিসেবে থাকলে কি বিয়ে সহিহ হবে?
যারা সাক্ষী ছিলেন বিয়ে রেজিস্ট্রি এর সময় তাড়া যদি তখন থাকতে না পারেন সেক্ষেত্রে কি করণীয়?
এই সব মিলিয়ে কী করলে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়েটা সহিহ হবে, সেটার পরামর্শ চাচ্ছি।

Answer

বিয়ের রেজিস্ট্রি ও সাক্ষী সংক্রান্ত ফতোয়া

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব

আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়টির প্রামাণ্য শরয়ী সমাধান ও দিকনির্দেশনা ফাতাওয়া ও ফিকহে হানাফীর প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ নিচে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলো:


১. রেজিস্ট্রির সাক্ষী ছাড়া অন্য সাক্ষী রেখে বিয়ে পড়ালে বিয়ে সহীহ হবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই সহীহ হয়ে যাবে।

  • ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
    ইসলামি শরীআতে বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য মূল বিষয় হলো আকদের (বিবাহের) মজলিসে বর-কনের ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (সম্মতি)-এর সময় ন্যূনতম ২ জন শরয়ী সাক্ষী উপস্থিত থাকা। রেজিস্ট্রি খাতা বা কাবিননামায় যারা সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন, আকদে নিকাহ (মৌখিক ইজাব-কবুল)-এর সময় হুবহু ওনাদেরই উপস্থিত থাকতে হবে—এমন কোনো শরয়ী বাধ্যবাধকতা নেই।
    সুতরাং রেজিস্ট্রির সময় যারা সাক্ষী ছিলেন, ওনাদের ছাড়া অন্য যেকোনো যোগ্য শরয়ী সাক্ষী রেখে কাজী বা মৌলভি সাহেব দিয়ে ইজাব-কবুল করিয়ে নিলে বিবাহ শরীআত মোতাবেক ১০০% সহীহ ও বৈধ হয়ে যাবে।

২. রেজিস্ট্রির সাক্ষীরা বিয়ে পড়ানোর সময় উপস্থিত থাকতে না পারলে করণীয় কী?

উত্তর: আলাদা বিশেষ কিছুই করার প্রয়োজন নেই।

  • ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
    রেজিস্ট্রির সাক্ষীরা আকদের সময় উপস্থিত না থাকতে পারলে এতে শরয়ী বিচারে কোনো সমস্যা বা ত্রুটি সৃষ্টি হয় না। আকদের মজলিসে (বিয়ে পড়ানোর স্থানে) উপস্থিত অন্য যেকোনো ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ (অথবা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী) সাক্ষী হিসেবে ইজাব-কবুল শুনলেই শরীআতের শর্ত পূরণ হয়ে যাবে।

৩. ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে সহীহ করার চূড়ান্ত পরামর্শ ও নিয়মাবলী:

ইসলামী শরীআতের দৃষ্টিতে সরকারি রেজিস্ট্রি হলো মূলত একটি আইনি ও প্রশাসনিক কাগজপত্রের রূপরেখা। বিবাহ শরীআত মোতাবেক শতভাগ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য কাজী/মৌলভি সাহেবের মাধ্যমে নিচের ৩টি মূল শরয়ী শর্ত অনুসরণ করে বিয়ে পড়িয়ে নিলেই তা সম্পূর্ণ সহীহ হয়ে যাবে:

১. মৌখিক/শাব্দিক ইজাব ও কবুল: আকদের মজলিসে কাজী সাহেব বর বা কনের অভিভাবক/উকিলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট শাব্দিক ইজাব (প্রস্তাব) উপস্থাপন করবেন এবং অপর পক্ষ তা স্পষ্ট মুখে উচ্চারণ করে কবুল (গ্রহণ) করবে।
২. শরয়ী সাক্ষীদের সশরীরে উপস্থিতি ও শ্রবণ: ইজাব ও কবুলের এই পুরো বক্তব্যটি অন্তত ২ জন স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক পুরুষ মুসলিম সাক্ষী (অথবা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী মুসলিম সাক্ষী) একই মজলিসে সশরীরে উপস্থিত থেকে সরাসরি নিজ কানে শুনবেন এবং বুঝবেন।
৩. একই মজলিসে হওয়া (ইত্তিহাদে মজলিস): ইজাব এবং কবুল উভয়টি একটি নির্দিষ্ট বৈঠকেই সম্পন্ন হতে হবে।

রেজিস্ট্রিতে যারা সই করেছেন তারা উপস্থিত না থাকলেও, কাজী সাহেব যখন অন্য ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে মৌখিক ইজাব-কবুল সম্পন্ন করাবেন, তখন শরীআত অনুযায়ী আপনার বিবাহটি সম্পূর্ণ সহীহ, নিষ্কণ্টক ও বরকতময় হয়ে যাবে।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১১৬–১২৩ (অধ্যায়: বিবাহ-চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ শর'য়ী শর্তসমূহ): (১. শাব্দিক ও মৌখিক ইজাব-কবুল হওয়া, ২. ইজাব-কবুলের শব্দ সরাসরি শ্রবণ করা ও বোঝা, ৩. সাক্ষীর সশরীরে উপস্থিতি এবং ইজাব-কবুল একই মজলিসে সম্পন্ন হওয়ার অকাট্য বিধান)।

২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২৫–২৭ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ২য় পরিচ্ছেদ: যে সকল শব্দ দ্বারা বিবাহ শুদ্ধ হয় এবং সাক্ষীর বিবরণ): (বিবাহের মধ্যে দুইজন স্বাধীন, বিবেকবান, মুসলমান পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর সশরীরে উপস্থিতি এবং উভয়ের কথা শোনার শর্তাবলী)।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২১২–২১৬ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ফাসলুন ফিশ শুহুদ): (নিকাহের মজলিসে সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার শরয়ী নিয়ম ও আকদের মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদিত হওয়ার বিবরণ)।

রেফারেন্স গ্রন্থপঞ্জি:

  • আল-হিদায়া (মারগিনানি), কিতাবুন নিকাহ
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৩
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২
  • বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ২
  • শরহু মাআনিল আসার (ইমাম তাহাবি), খণ্ড ৩
  • সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ১১০৪
  • সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং ১৩৭২৫

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.