বিয়ে ও তালাক: মুখে তালাক না বলে "খোলা লাগবে" বলায় তালাক হয় কি?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এরপর ১ বছর হয়ে গেল , আমি চিন্তা করছি , আমাকে তোহ সে মুখে তালাক এর কথা উচ্চারন করে নাই , তাহলে কি আমার খোলা তালাক কি হইয়েছে ?
যদি নাহ হয় , তাহলে আমাকে কি অবশ্যই কি তাকে বের করতে হবে খুজে , আমার কাছে তার নাম্বার নেই , তার পরিবার এর নাম্বার ও কেটে ফেলেছি , তার ফেসবুক আইডি আছে কিন্তু জানি নাহ সে রেস্পন্স করবে কিনা, খোলা নিতে হবে ......... নাহলে আমি কোনো বিয়ে করতে পারবো নাহ ?সে যদি এখনো নাহ দিতে চায় তালাক , যদি আগেরটা নাহ হয় ।
করলে কি হবে ?
ইসলাম কি বলছে , আমি অনেক অনুতপ্ত আমার অতীত নিয়ে , আমি মাফ চেয়েছি , আমার সমাধান কি এখন ? আমি বেশ অশান্তিতে আছি ।ভবি ষ্যত নিয়ে।
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
মুখে তালাকের শব্দ উচ্চারণ না করে শুধু "খোলা লাগবে" বলা ও "আপনি যা চান তাই হোক" বলা — এতে তালাক হয়েছে কি?
উত্তর: না, এতে তালাক হয়নি।
তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য স্বামীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট তালাকের শব্দ (صريح) বা ইঙ্গিতবাহী শব্দ (কিনায়া) নির্দিষ্ট নিয়তে উচ্চারণ করা শর্ত। শুধু "আপনি যা চান তাই হোক" বা "খোলা লাগবে" — এগুলো তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয়, আর স্বামী তালাকের নিয়তও করেননি (বরং আপনি লিখেছেন সে তালাক দিতে চাচ্ছিল না)। তাই এতে তালাক পতিত হয়নি।
দলিল: আল্লাহ তা'আলা বলেন —
"তালাক দুইবার। অতঃপর হয় যথাবিধি রাখা, নয়তো সৌজন্যের সাথে ছেড়ে দেওয়া।" (সূরা বাকারা: ২২৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন —
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের কথা (ওয়াসওয়াসা) এবং যা তারা মুখে উচ্চারণ করে না, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯; সহীহ মুসলিম: ১২৭)
ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, তালাকের স্পষ্ট শব্দ ছাড়া এবং তালাকের নিয়ত ছাড়া কিনায়া শব্দে তালাক হয় না। (আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক; রাদ্দুল মুহতার: ৩/২৩২-২৩৪)
তাহলে কি খোলা (خلع) হয়েছে?
উত্তর: না, খোলাও সম্পন্ন হয়নি।
খোলা একটি পারস্পরিক চুক্তি — স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতিতে মোহর বা বিনিময়ের বিনিময়ে বিয়ের বন্ধন শেষ করা। শুধু ফোনে "খোলা লাগবে" বলা এবং স্বামীর "আপনি যা চান তাই হোক" বলা — এতে খোলা সম্পন্ন হয় না।
এখন কী করবেন? তাকে খুঁজে বের করা কি জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনার করণীয় হলো — তাকে খুঁজে বের করে তালাক বা খোলা সম্পন্ন করা।
কারণ আপনি এখনো তার স্ত্রী। এই অবস্থায় আপনি অন্য কোথাও বিয়ে করতে পারবেন না — এটা যিনা/হারাম হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন —
"তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের যেসব নারীকে বিয়ে করেছ, তাদের বিয়ে করো না... এবং সতী নারীদের মধ্যে যারা বিবাহিতা, তাদেরকে (বিয়ে করো না)।" (সূরা নিসা: ২২-২৪)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন —
"যে নারী নিজের স্বামী ছাড়া (অন্যত্র) বিয়ে করে, সে যিনাকারিণী।" (সুনানে তিরমিযী: ১১২৪ — হাসান)
তাই আপনার জন্য করণীয়:
- তার সাথে যোগাযোগের সর্বাত্মক চেষ্টা করুন — ফেসবুক আইডি, তার পরিবারের পরিচিত কেউ, তার কর্মস্থল, পুরনো সহকর্মী — যেকোনো উপায়ে। শরীয়তের দৃষ্টিতে স্ত্রীর ভরণপোষণ ও তালাক/খোলা সম্পন্ন করা স্বামীর দায়িত্ব; কিন্তু বাস্তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা আপনারও কর্তব্য।
- যদি তাকে খুঁজে পান — তাকে স্পষ্টভাবে বলুন: হয় সে আপনাকে যথাযথভাবে স্ত্রী হিসেবে রাখবে (ভরণপোষণসহ), নয়তো স্পষ্টভাবে তালাক দেবে, নয়তো খোলায় সম্মতি দেবে।
- যদি সে তালাক দিতে অস্বীকার করে এবং খোলাতেও সম্মতি না দেয় — তাহলে ইসলামী শরীয়তের বিধান হলো কাজী/শরীয়ত আদালতে মামলা করা। কাজী স্বামীকে হাজির করে, তালাক দিতে বাধ্য করতে পারেন বা বিচ্ছেদ ঘোষণা করতে পারেন । এটাই শরীয়তের পথ।
- যদি তাকে কোনোভাবেই খুঁজে না পান — তাহলে কাজী/শরীয়ত আদালতে অনুপস্থিতিতে মামলা করুন; আদালত প্রয়োজনীয় তদন্ত করে বিচ্ছেদ ঘোষণা করতে পারেন। এটাই আপনার জন্য বৈধ পথ — নিজে থেকে "বিয়ে হয়ে গেছে" ধরে নেওয়া বা অন্যত্র বিয়ে করা বৈধ নয়।
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে এক নারী (সাবিত ইবনে কায়সের স্ত্রী) খোলা চাইলেন, স্বামী সম্মতি দিলেন, রাসূল ﷺ বিচ্ছেদ সম্পন্ন করলেন। (সহীহ বুখারী: ৫২৭৩) — অর্থাৎ বিচ্ছেদের জন্য স্পষ্ট প্রক্রিয়া ও সম্মতি/বিচারকর্তার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।