কোরআন হাদিস লিখিত কিছুকে পুড়িয়ে ফেলা যাবে কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছুর উপর নাপাকি লাগলে না দুয়ে পুড়ে ফেললে হবে?
৩।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত, সুন্নাতি পোশাকে কিছুতে দুলাবালি বা পাক কিছু লাগলে না পরিষ্কার করলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
৪।ড্রয়ারে বন্ধ অবস্থায় বা কোনো কিছুর আড়ালে আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস সুন্নাতি পোশাক থাকে। সেই ড্রয়ার বা আড়াল করতে যা ব্যাবহার করা হয়েছে তার উপরে কোনো নাপাকি পরলে, দুলাবালি মাকড়শার বাসা থাকলে, সেটার উপর দিয়ে হাটাহাটি করলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
৫।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছুতে নাপাকি লাগছে এবং পাক একসাথে পুড়ে ফেলা যাবে কি?
৬।মাটির চুলায় এখন তেমন একটা রান্না করে না আগে নিয়মিত করতো। আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ কোরআন হাদিস লিখিত কিছু পুড়ে গর্ত করে না ফেলে সেখানেই রেখে দেওয়া যাবে কি। পুড়ে ফেলার পর তো আর লেখা অবশিষ্ট না থাকবার কথা?
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর প্রদানে:
প্রশ্ন ১: নামযুক্ত দলিলপত্রে নাপাকি লাগলে কী করণীয়?
আপনার বাবার দলিলপত্রে সাধারণ মানুষের নাম লেখা থাকতে পারে, যার মধ্যে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর নাম (যেমন: আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, নজির আহমেদ) অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব। যদি ইঁদুর, টিকটিকি ইত্যাদির মল-মূত্র লাগে, তাহলে নাপাকি দূর করতে হবে। যদি কাগজটি নষ্ট হয়ে না যায়, তাহলে পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে ফেলুন। যদি ধোয়ার ফলে কাগজ নষ্ট হয়ে যায় বা লেখা মুছে যায়, তাহলে পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা জায়েয। কিন্তু পোড়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন বাতাসে ছাই না উড়ে অথবা অপমানজনক স্থানে না ফেলা হয়। [রদ্দুল মুহতার (১/২২৮), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৪০৭)]
প্রশ্ন ২: আল্লাহ, রাসুল (সা.), কুরআন-হাদিস লিখিত বস্তুতে নাপাকি লাগলে পুড়িয়ে ফেলা কি জায়েয?
যদি পানি দিয়ে ধোয়া সম্ভব হয়, তাহলে ধুয়ে ফেলা ওয়াজিব। ধোয়ার পর যদি কাগজ নষ্ট না হয়, তাহলে পুড়ানো জায়েয নয়। আর যদি ধোয়ার ফলে কাগজ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে বা লেখা উঠে যায়, তাহলে পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা জায়েয। তবে পোড়ানোর সময় সম্মান বজায় রাখতে হবে এবং ছাই অপবিত্র স্থানে ফেলা যাবে না। [ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২২), ফাতাওয়া উসমানি (১/২৬৩)]
প্রশ্ন ৩: পবিত্র নামযুক্ত কাপড়ে ধুলা বা পবিত্র কিছু লাগলে পরিষ্কার না করলে গুনাহ বা ইমানের সমস্যা হবে কি?
ধুলা-বালি বা পবিত্র জিনিস (যেমন: পানি, মাটি) লাগলে তা নাপাক নয়। তাই না ধুলেও গুনাহ নেই এবং ইমানের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে যদি কাপড় পরে নামাজ পড়েন, তাহলে তা পবিত্র থাকা জরুরি। যদি নাপাকি লাগে, তাহলে ধোয়া ফরজ। ইচ্ছাকৃতভাবে নাপাকি রেখে নামাজ পড়লে গুনাহ হবে। [বাহিশতী জেওর (১/১০৪), ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ (১/২৮৪)]
প্রশ্ন ৪: পবিত্র বস্তু ড্রয়ারের ভেতরে থাকলে এবং ড্রয়ারের ওপর নাপাকি পড়লে কি গুনাহ হবে?
ড্রয়ার বা আবরণটি বাধক (ব্যারিয়ার) হিসেবে কাজ করে। তাই ভেতরের পবিত্র বস্তুতে সরাসরি নাপাকি না লাগলে কোনো সমস্যা নেই। তবে ড্রয়ারের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে নাপাকি ফেলা বা মাকড়সার বাসা থাকা মাকরূহ। এক্ষেত্রে গুনাহ হবে না, তবে সম্মানের খাতিরে তা পরিষ্কার করা উচিত। [রদ্দুল মুহতার (১/২২৬)]
প্রশ্ন ৫: নাপাক ও পবিত্র কাগজ একসাথে পুড়িয়ে ফেলা যাবে কি?
পবিত্র কাগজ (যে কাগজে আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত আছে) নাপাক কাগজের সাথে পুড়ানো মাকরূহ। উত্তম হবে আগে নাপাক অংশ ধুয়ে ফেলা, তারপর পুড়ানো। যদি ধোয়া সম্ভব না হয়, তাহলে আলাদাভাবে পবিত্র কাগজ পুড়িয়ে বা পুঁতে ফেলে নাপাক কাগজ টয়লেটে ফেলা যেতে পারে। [ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ (১/২৯০)]
প্রশ্ন ৬: মাটির চুলায় পুড়িয়ে ছাই রেখে দেওয়া যাবে কি?
পুড়ে যাওয়ার পর লেখা যদি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ছাইকে আর সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি নয়। তবে চুলাটি যদি রান্নার কাজে ব্যবহার হয়, তাহলে সেখানে পোড়ানো উচিত নয়। বরং একটি পরিষ্কার জায়গায় পুড়িয়ে ছাই ভূমিতে পুঁতে ফেলুন। চুলার গর্তে রেখে দিলেও কোনো গুনাহ হবে না, তবে উত্তম হলো অপসারণ করা। [শরহে মাআনিল আসার (২/৩২২)]
সারসংক্ষেপ:
- নাপাক লাগা কাগজ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন; সম্ভব না হলে পুড়িয়ে বা পুঁতে ফেলুন।
- পবিত্র নামযুক্ত কাপড়ে ধুলা-বালি লাগলে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
- নাপাক ও পবিত্র কাগজ আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করুন।
- পোড়ানোর পর ছাই মাটিতে পুঁতে ফেলুন; রান্নার চুলায় পোড়ানো মাকরূহ।
والله أعلم بالصواب