গর্ভবতী নারী কি ফরজ, সুন্নত ও নফল রোজা রাখতে পারবেন?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 7214
Questioner: Antara
Question Asked: 21 Oct 2026, 05:10 PM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 05:57 PM
Views: 26
Tokens: 2,997
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
গর্ভবতী নারীরা ফরজ সুন্নত নফল রোজা রাখতে পারবে?

Answer

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, গর্ভবতী নারী ফরজ, সুন্নত ও নফল—সব ধরনের রোজা রাখতে পারবেন, যদি না তাঁর বা সন্তানের জীবনের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে সুন্নত-নফল রোজার ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি থাকা শর্ত (যদি স্বামী উপস্থিত থাকেন)। আর ফরজ রমজানের রোজা ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে অবশ্যই রাখতে হবে; আশঙ্কা থাকলে ইসলামী বিধান অনুযায়ী পরবর্তীতে কাজা/ফিদইয়া দিতে হবে।


বিস্তারিত আলোচনা

১. মূলনীতি: গর্ভবতী নারী সাধারণত রোজা রাখতে পারবেন

ইসলামে গর্ভাবস্থা নিজে রোজা না রাখার বৈধ কারণ নয়। কেবল তখনই রোজা ভাঙার অনুমতি আছে, যখন রোজা রাখলে নিজের বা সন্তানের জীবনের প্রকৃত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ "আর যে অসুস্থ হবে বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কঠিনতা চান না।" (সূরা বাকারা: ১৮৫)

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

إِنَّ اللهَ تَعَالَى وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ، وَعَنِ الْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মুসাফিরের উপর থেকে রোজা ও অর্ধেক নামাজ মাফ করেছেন, আর গর্ভবতী ও দুধদাত্রীর উপর থেকে রোজা মাফ করেছেন।" (তিরমিজি: ৭১৫, আবু দাউদ: ২৪০৮ — ইমাম তিরমিজি হাসান বলেছেন)

তবে লক্ষণীয়: এই হাদিসে "মাফ" অর্থ হলো—ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে ভাঙার অনুমতি, নিছক গর্ভবতী হওয়ার কারণে নয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে গর্ভবতী ও দুধদাত্রী যদি রোজা ভাঙে, তবে তাদের উপর কাজা ওয়াজিব, ফিদইয়া নয় (যদিও ইমাম শাফিঈ ও অন্য মতে ফিদইয়া)। তবে হানাফি মাজহাবে ইমাম আবু হানিফার ফতোয়া হলো কাজা।

২. ফরজ রোজা (রমজান)

  • ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে: গর্ভবতী নারীর উপর রমজানের ফরজ রোজা রাখা অবশ্যই ওয়াজিব। গর্ভাবস্থার কারণে রোজা ছাড়া জায়েজ নয়।
  • প্রকৃত ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে: অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তার বা বিশ্বস্ত অভিজ্ঞ নারীর পরামর্শে যদি নিজের বা সন্তানের জীবনের ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা হয়, তবে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে; পরে সুস্থ হলে কাজা আদায় করতে হবে। (রাদ্দুল মুহতার: ২/৪২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৭)

৩. সুন্নত ও নফল রোজা

  • গর্ভবতী নারী সুন্নত-নফল রোজা রাখতে পারবেন, যদি ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে।
  • তবে শর্ত: বিবাহিত হলে স্বামীর অনুমতি প্রয়োজন, কারণ নফল রোজা স্বামীর হক নষ্ট করতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ "স্বামী উপস্থিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী তার অনুমতি ছাড়া (নফল) রোজা রাখবে না।" (বুখারি: ২০৬৬, মুসলিম: ১০২৬)

  • নফল রোজা ভাঙলে কাজা ওয়াজিব নয় (হানাফি মতে), তবে উত্তম হলো পরে রাখা।

৪. ব্যবহারিক পরামর্শ

  1. ডাক্তারি পরামর্শ নিন: বিশেষত প্রথম তিন মাস ও শেষ মাসে।
  2. সহজে রোজা রাখা যায় এমন সময় বেছে নিন (যেমন শীতকাল বা ছোট দিন)।
  3. সাহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি নিন।
  4. অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, রক্তক্ষরণ বা বমি হলে দেরি না করে রোজা ভাঙুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  5. সন্দেহ হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য মুফতি/আলেমের সাথে পরামর্শ করুন।

সারসংক্ষেপ

| রোজার ধরন | বিধান | |---|---| | ফরজ (রমজান) | ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে রাখা ওয়াজিব; আশঙ্কা থাকলে ভাঙার অনুমতি, পরে কাজা | | সুন্নত/নফল | রাখা যাবে; বিবাহিত হলে স্বামীর অনুমতি শর্ত; ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে না রাখাই উত্তম | | কাজা/ফিদইয়া | ইমাম আবু হানিফার মতে গর্ভবতী-দুধদাত্রীর জন্য কাজা; ফিদইয়া নয় |

আল্লাহ তা‘আলা আপনার ও সন্তানের হেফাজত করুন এবং সহজে ইবাদত করার তাওফিক দিন। আমিন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.