কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া থাকলে এবং সে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে, স্বামী অস্বীকার করলেও কি শরিয়ত অনুযায়ী - তালাক কার্যকর হয়ে যাবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
সম্মানিত উস্তায।
একটি মাসআলা সম্পর্কে আপনার কাছে শরয়ি সমাধান জানতে চাচ্ছি।
আমার এক কাজিন প্রায় এক বছর আগে পরিবারের অজ্ঞাতসারে নিজেই বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর সে জানতে পারে, তার স্বামীর চরিত্র ভালো নয়। স্বামী তাকে বিভিন্নভাবে, বিশেষ করে কথার মাধ্যমে মানসিক নির্যাতন করে। স্বামী নিজের পরিবারকে তাদের বিয়ের কথা জানাতে চায় না এবং আমার কাজিনের পরিবারকেও জানাতে চায় না। সে এভাবেই গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চায়।
এ অবস্থায় আমার কাজিন সিদ্ধান্ত নেয় যে সে আর এই সংসার করতে চায় না এবং বিবাহবিচ্ছেদ চায়। কিন্তু স্বামী কোনোভাবেই তালাক দিতে রাজি হয় না। পরে বাধ্য হয়ে আমার কাজিন তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। পরিবারও ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচ্ছেদের কথা বলে, কিন্তু ছেলেটি কিছুতেই তালাক দিতে রাজি হয় না।
এরপর যে কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়েছিল, সেই অফিসের মাধ্যমে আমার কাজিনের পক্ষ থেকে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তালাকের কাগজপত্র স্বামীকে পাঠানো হলে সে কাগজ গ্রহণ করে, কিন্তু বলে যে সে তালাক দেবে না এবং এই বিচ্ছেদ মেনে নেবে না।
উল্লেখ্য, তাদের কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া আছে। কাজী সাহেব আমাদের লিখিত কাগজপত্র দিয়ে জানিয়েছেন যে তালাক হয়ে গেছে; স্বামী গ্রহণ করুক বা না করুক, এতে কিছু যায় আসে না। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায়ও কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
এখন সম্মানিত উস্তাযের কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন:
১. কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া থাকলে এবং সে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে, স্বামী অস্বীকার করলেও কি শরিয়ত অনুযায়ী তালাক কার্যকর হয়ে যাবে?
২. কাজী সাহেবের দেওয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে কি আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে, নাকি আরও কিছু যাচাই করা প্রয়োজন?
৩. আমার কাজিনের ইদ্দত কত দিন হবে? তিন হায়েজ, তিন চান্দ্রমাস, নাকি অন্য কোনো হিসাব প্রযোজ্য হবে? অনেকে তিন মাস দশ দিন বলছেন—এটি কি সঠিক?
৪. ইদ্দত যথাযথভাবে শেষ হওয়ার পর কি আমার কাজিনকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া যাবে?
৫. শরিয়ত অনুযায়ী বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এখন কী কী করণীয়?
দয়া করে কুরআন-সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য হানাফি ফিকহের আলোকে বিষয়টির সমাধান জানাবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো শর্ত বা আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকলে সেটিও জানালে উপকৃত হব।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
Answer
তালাক সংক্রান্ত মাসআলার শরয়ি সমাধান
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
সম্মানিত প্রশ্নকর্তা, আপনার প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর। নিচে কুরআন-সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য হানাফি ফিকহের আলোকে ধাপে ধাপে উত্তর প্রদান করা হলো।
মূল বিষয়: কাবিননামায় প্রদত্ত তালাকের ক্ষমতা (তাফবিজ)
ইসলামি শরিয়তে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। একে ফিকহের পরিভাষায় "তাফবিজ" বা "তাওকিল" বলা হয়। এটি কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ "তালাক দুইবার; অতঃপর যথাবিধি সংসার ধারণ করা অথবা সদয়ভাবে বিচ্ছেদ করা।" (সূরা বাকারা: ২২৯)
আর তাফবিজের ভিত্তি হলো হাদিসে বর্ণিত ঘটনা, যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ স্ত্রীদেরকে ইখতিয়ার (স্বামীর সাথে থাকা বা বিচ্ছেদের) অধিকার দিয়েছিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৭৮)
হানাফি ফিকহের মূলনীতি: স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে এবং স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রযুক্ত করে তালাক দেয়, তবে তা কার্যকর হয়ে যায়। এতে স্বামীর সম্মতি বা অস্বীকৃতির কোনো প্রভাব নেই। কারণ ক্ষমতা প্রদানের পর স্ত্রী শরয়ি দৃষ্টিতে স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক দেওয়ার অধিকারপ্রাপ্ত হয়ে যান।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪৩-২৪৫ — "إذا فوض الرجل إلى امرأته الطلاق فطلقت نفسها صح ذلك"
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক, বাবুত তাফবিজ — "التفويض صحيح، ولو طلقت المرأة نفسها بإذن الزوج وقع الطلاق"
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৫৪ — তাফবিজের বিধান
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০০-৩০৫ — মুফতি তাকি উসমানি সাহেবের আলোচনা
প্রশ্ন ১: কাবিননামায় ক্ষমতা থাকলে এবং স্ত্রী তা প্রয়োগ করলে স্বামী অস্বীকার করলেও কি তালাক কার্যকর হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, শরিয়ত অনুযায়ী তালাক কার্যকর হয়ে গেছে — ইনশাআল্লাহ। শর্তগুলো নিম্নরূপ:
১. কাবিননামায় স্পষ্টভাবে তালাকের ক্ষমতা (তাফবিজ) লেখা থাকতে হবে — যেমন "স্ত্রী নিজেকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে" বা অনুরূপ বাক্য।
২. স্ত্রী সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্কা হতে হবে এবং স্বেচ্ছায় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
৩. তালাকের স্পষ্ট শব্দ বা ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করতে হবে (যেমন: "আমি নিজেকে তালাক দিলাম" বা "তালাক" শব্দ উচ্চারণ)।
৪. ইদ্দতকালীন সময়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে (যদি স্বামী ক্ষমতা প্রত্যাহার না করে থাকে)।
গুরুত্বপূর্ণ: স্বামী অস্বীকার করলেও তালাক পতিত হবে। কারণ তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য স্বামীর সম্মতি বা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই; বরং ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমেই স্ত্রী শরয়ি অধিকারপ্রাপ্ত হয়ে যান। এটি ইজমা (ঐকমত্য) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪৬ — "ولو أنكر الزوج لم يضرها إنكارها بعد ثبوت التفويض"
- বাহিশতী জেওর, তালাক অধ্যায় — তাফবিজের বিধান
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৮০ — মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)
তবে একটি সতর্কতা: যদি কাবিননামায় ক্ষমতা দেওয়ার শর্ত থাকে যে "কাজীর অনুমতিক্রমে" বা "নির্দিষ্ট কারণে" — তবে সেই শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা যাচাই করতে হবে। সাধারণ কাবিননামায় শর্তহীন ক্ষমতা দেওয়া থাকে, সেক্ষেত্রে সরাসরি কার্যকর হবে।
প্রশ্ন ২: কাজী সাহেবের কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে কি?
উত্তর: কাজী সাহেবের লিখিত কাগজপত্র শরয়ি দৃষ্টিতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যাচাই করা উত্তম:
১. কাবিননামার মূল কপি — যেখানে তালাকের ক্ষমতা (তাফবিজ) স্পষ্টভাবে লেখা আছে কিনা দেখুন।
২. তালাকের নোটিশ/কাগজপত্রের কপি — যেখানে স্ত্রীর তালাক প্রদানের ঘোষণা ও তারিখ উল্লেখ আছে।
৩. কাজী অফিসের রেজিস্ট্রি/রেকর্ড — তালাক নিবন্ধিত হয়েছে কিনা।
৪. দুইজন সাক্ষী — তালাকের সময় উপস্থিত থাকলে তাদের সাক্ষ্য।
৫. স্ত্রীর নিকট থেকে সরাসরি নিশ্চিত হওয়া — সে নিজে তালাক প্রদান করেছে কিনা এবং কীভাবে।
ফিকহি মূলনীতি: "আল-বাইয়িনাহ আলাল মুদ্দাঈ" — প্রমাণের দায়িত্ব দাবিদারের উপর। কাজী সাহেবের কাগজপত্র একটি শক্তিশালী প্রমাণ, তবে মূল দলিল (কাবিননামা ও তালাকের নোটিশ) দেখা উত্তম।
রেফারেন্স:
- শরহু মাআনিল আসার (ইমাম তাহাবি), কিতাবুত তালাক
- আল-মাবসুত (সারাখসি), খণ্ড ৬ — তালাকের প্রমাণ সংক্রান্ত আলোচনা
প্রশ্ন ৩: ইদ্দত কত দিন হবে?
উত্তর: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা। ইদ্দত নির্ভর করে স্ত্রীর অবস্থার উপর:
ক. যদি স্ত্রী হায়েজ (মাসিক) হয়:
তিন হায়েজ (তিন মাসিক চক্র) — অর্থাৎ তিনটি পূর্ণ হায়েজ অতিক্রম করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ "তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিনটি হায়েজ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।" (সূরা বাকারা: ২২৮)
খ. যদি স্ত্রী হায়েজ না হয় (বয়স কম বা বেশি):
তিন চান্দ্রমাস — আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ ۖ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ "তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা হায়েজ থেকে নিরাশ, তাদের ইদ্দত তিন মাস; আর যারা হায়েজ পায়নি তাদেরও।" (সূরা তালাক: ৪)
গ. যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয়:
সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত — আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ "গর্ভবতী নারীদের ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব।" (সূরা তালাক: ৪)
"তিন মাস দশ দিন" — এটি কি সঠিক?
না, এটি হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সঠিক নয়। "তিন মাস দশ দিন" হলো বিধবা (স্বামীর মৃত্যুতে) নারীর ইদ্দত — সূরা বাকারার ২৩৪ নং আয়াতে বর্ণিত:
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا "তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে।"
তালাকের ইদ্দত কখনো "তিন মাস দশ দিন" নয়। এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা। তালাকের ইদ্দত হলো:
- হায়েজযুক্তা: তিন হায়েজ
- হায়েজহীন: তিন চান্দ্রমাস
- গর্ভবতী: সন্তান প্রসব
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক, বাবুল ইদ্দাহ
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৫০০-৫১০
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫২৮
- মাআরিফুল কুরআন, সূরা বাকারা ২২৮-২৩৪ এর তাফসির — মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি স্ত্রী নিশ্চিত না হয় তার হায়েজের হিসাব সম্পর্কে, তবে একজন নির্ভরযোগ্য আলিম/মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন ৪: ইদ্দত শেষে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ইদ্দত যথাযথভাবে শেষ হওয়ার পর তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ জায়েয ও বৈধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ "যখন তোমরা নারীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তাদের নিজেদের ব্যাপারে যথাবিধি সিদ্ধান্ত গ্রহণে তোমাদের কোনো দোষ নেই।" (সূরা বাকারা: ২৩৪)
শর্তাবলি: ১. ইদ্দত সম্পূর্ণ শেষ হতে হবে। ২. নতুন বিবাহ ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী (দুই সাক্ষী, মোহর, ইজাব-কবুল) সম্পন্ন হতে হবে। ৩. তালাক যদি রজয়ি (প্রত্যাহারযোগ্য) হয় এবং স্বামী ইদ্দতের মধ্যে রুজু (প্রত্যাবর্তন) না করে, তবেই নতুন বিবাহ বৈধ। তবে এখানে যেহেতু স্ত্রী নিজে তালাক দিয়েছেন (তাফবিজের মাধ্যমে), এটি সাধারণত বায়িন (অপরিবর্তনীয়) তালাক হিসেবে গণ্য হবে — তবে বিস্তারিত জানার জন্য মুফতির পরামর্শ নিন।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫০
প্রশ্ন ৫: এখন আমাদের কী কী করণীয়?
শরয়ি ও ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে করণীয়:
ক. শরয়ি দিক:
১. কাবিননামা যাচাই করুন — তাফবিজের শর্ত স্পষ্টভাবে আছে কিনা নিশ্চিত করুন। ২. তালাকের নোটিশ ও কাজীর কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন — ভবিষ্যতের জন্য। ৩. দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করুন (যদি সম্ভব হয়)। ৪. ইদ্দতের হিসাব সঠিকভাবে করুন — হায়েজের হিসাব বা চান্দ্রমাসের হিসাব। ৫. ইদ্দতকালে স্ত্রী ঘরের বাইরে যাওয়া, সাজসজ্জা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবেন (শরয়ি বিধান)। ৬. একজন নির্ভরযোগ্য মুফতির কাছে সরাসরি গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করুন — বিশেষত তালাকের ধরন (রজয়ি/বায়িন) ও ইদ্দতের হিসাব।
খ. বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী:
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ ও মুসলিম বিবাহ ও divorce (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ প্রযোজ্য:
১. তালাক নোটিশ (Notice of Talak): মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৭ ধারা অনুযায়ী, তালাক প্রদানের পর চেয়ারম্যান/ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়কে কপি পাঠাতে হবে।
২. ৯০ দিনের অপেক্ষা: নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি স্ত্রী গর্ভবতী হন, তবে সন্তান জন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে (যদি সালিশি পরিষদ ব্যর্থ হয়)।
৩. সালিশি পরিষদ: চেয়ারম্যান একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবেন এবং উভয় পক্ষকে মীমাংসার সুযোগ দেবেন।
৪. রেজিস্ট্রেশন: তালাক কার্যকর হওয়ার পর নিকাহ রেজিস্ট্রার এর মাধ্যমে তালাক রেজিস্ট্রি করতে হবে।
৫. কাবিননামায় তাফবিজ: বাংলাদেশের কাবিননামার ১৮ নং কলামে (স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা) স্বাক্ষর থাকলে এবং স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে আইনগতভাবেও তা কার্যকর হওয়ার সুযোগ আছে — তবে আদালতের মাধ্যমে ঘোষণা প্রয়োজন হতে পারে।
আল্লাহ ভালো জানেন।