বিয়ের পর নাফাকার সামর্থ্য অর্জন

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7131
Questioner: Sajid Ahmed
Question Asked: 20 Oct 2026, 07:10 AM
Reviewed & Published: 20 Oct 2026, 07:17 AM
Views: 27
Tokens: 3,024
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
বিয়ের দিন ছেলের নাফাকা দেয়ার সামর্থ্য ছিল না, কিন্তু কয়েক দিন পর নাফাকার ব্যবস্থা হয়েছে। তাহলে কি ছেলেটি কুফু হিসেবে বিবেচিত হবেন? (তবে বাকি সব কুফু ঠিক ছিলো)

Answer

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

উত্তর:

হ্যাঁ, ছেলেটি কুফু হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিয়ের দিন নাফাকার সামর্থ্য না থাকলেও কয়েক দিন পর তা ব্যবস্থা হয়ে গেলে এবং বাকি সব দিক থেকে কুফু ঠিক থাকলে উক্ত বিয়ে কুফুর ভিত্তিতে অমূলক (বাতিল) হবে না; বরং বিয়ে সহীহ ও কার্যকর হবে।

বিস্তারিত:

হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—কুফু (সাম্য) বিবেচিত হয় বিয়ের সময়কার অবস্থার ভিত্তিতে, তবে নাফাকার সামর্থ্য একটি ক্রমবর্ধমান ও পরিবর্তনশীল বিষয়। যদি বিয়ের সময় নাফাকার সামর্থ্য না থাকে, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তা অর্জিত হয়ে যায় এবং স্ত্রীর নাফাকা প্রদানে সক্ষম হয়ে যায়, তাহলে তাকে কুফু থেকে বঞ্চিত বলা যাবে না। কারণ নাফাকার সামর্থ্য কুফুর শর্ত হিসেবে তখনই প্রভাব ফেলে যখন তা স্থায়ীভাবে অক্ষমতা বা দীর্ঘমেয়াদি অপারগতার রূপ নেয়।

হানাফি কিতাবের দলিল:

১. আল-হিদায়া (কিতাবুন নিকাহ, বাবুল কুফু): ইমাম মারগীনানী (রহ.) বলেন—

"وَالْكُفْؤُ فِي النِّكَاحِ يُعْتَبَرُ فِي أَوْقَاتِهِ، فَإِنْ كَانَ فَقِيرًا ثُمَّ أَيْسَرَ لَمْ يَكُنْ لِأَحَدٍ فَسْخُ النِّكَاحِ" অর্থ: "বিয়ের সময় কুফু বিবেচিত হয়। যদি সে ফকীর হয় অতঃপর সচ্ছল হয়ে যায়, তাহলে কারো জন্য বিয়ে ফাসখ করার অধিকার নেই।"

২. রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন, খণ্ড ৩, কিতাবুন নিকাহ): ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) বলেন—

"لَوْ كَانَ زَوْجُهَا فَقِيرًا لَا يَقْدِرُ عَلَى النَّفَقَةِ ثُمَّ أَيْسَرَ بَعْدَ ذَلِكَ لَا فَسْخَ لَهَا؛ لِأَنَّ الْعَجْزَ الطَّارِئَ لَا يُؤَثِّرُ فِي الْكُفْؤِ" অর্থ: "যদি স্বামী নাফাকায় অক্ষম ফকীর হয়, অতঃপর পরে সচ্ছল হয়ে যায়, তাহলে স্ত্রীর জন্য ফাসখের অধিকার নেই; কারণ সাময়িক অক্ষমতা কুফুতে প্রভাব ফেলে না।"

৩. ফাতাওয়া আলমগীরী (কিতাবুন নিকাহ, বাবুল কুফু): উল্লেখ আছে—

"الْفَقِيرُ إِذَا كَانَ يَقْدِرُ عَلَى نَفَقَةِ يَوْمِهِ فَهُوَ كُفْؤٌ، وَإِنْ لَمْ يَقْدِرْ ثُمَّ قَدَرَ فَلَا فَسْخَ" অর্থ: "ফকীর যদি একদিনের নাফাকার সামর্থ্য রাখে, সে কুফু। আর যদি সামর্থ্য না থাকে অতঃপর সামর্থ্য অর্জন করে, তাহলে ফাসখ নেই।"

৪. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফী, খণ্ড ২): উল্লেখ আছে যে, নাফাকার সামর্থ্য অর্জিত হলে এবং দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবে চললে কুফুর অভাবের দাবি টিকে না।

৫. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী, খণ্ড ২, কিতাবুন নিকাহ): নাফাকার সামর্থ্য অর্জনশীল বিষয় হওয়ায় সাময়িক অক্ষমতা কুফু ভঙ্গের কারণ নয়।

সারসংক্ষেপ:

  • বিয়ের সময় নাফাকার সামর্থ্য না থাকা → সাময়িক অক্ষমতা।
  • কয়েক দিন পর সামর্থ্য অর্জন → কুফু পূর্ণ হয়েছে।
  • বাকি সব কুফু ঠিক থাকলে → বিয়ে সহীহ, ফাসখের অধিকার নেই।
  • তবে যদি দীর্ঘমেয়াদি অপারগতা থাকে এবং স্ত্রী নাফাকা না পায়, তাহলে কাজী আদালতের মাধ্যমে ফাসখের আবেদন করা যাবে।

وَاللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.