আগের স্বামীর দেয়া স্বর্ণের সাথে বাবা-মা অতিরিক্ত সোনা মিলিয়ে নতুন গহনা বানিয়ে দিলে সেই গহনা ব্যবহার করা জায়েয হবে কি? আগের স্বামী ব্যাংকার ছিলেন
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নটি দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
(১) আগের স্বামীর দেওয়া স্বর্ণটি কি হালাল উপার্জন থেকে ছিল?
(২) বাবা-মা যে অতিরিক্ত সোনা মিলিয়ে নতুন গহনা বানিয়েছেন, তা কি হালাল উৎস থেকে?
প্রথমত: আপনার আগের স্বামী ব্যাংকার ছিলেন। ব্যাংকিং পেশায় সুদ (রিবা) জড়িত থাকার কারণে তার অধিকাংশ আয়ই সুদযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হানাফি ফিকহের নীতি অনুসারে, কোনো ব্যক্তির উপার্জন যদি সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ হারাম (যেমন সুদ) হয়, তবে তার দেওয়া উপহার, মোহর বা অন্য কোনো সম্পদ গ্রহণ করা এবং তা ব্যবহার করা জায়েজ নয়। বরং সেই সম্পদকে সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। (রদ্দুল মুহতার, ৪/৪৪; ফাতাওয়া উসমানী, ৩/৪২৯)
দ্বিতীয়ত: আপনার বাবা-মা যদি হালাল উপার্জন থেকে স্বর্ণ দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের দেওয়া অংশ হালাল। কিন্তু মিশ্রিত গহনায় আগের স্বামীর হারাম স্বর্ণের অস্তিত্ব থাকায় গহনাটি সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করা জায়েজ হবে না, যতক্ষণ না সেই হারাম অংশটি পৃথক করা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
সমাধান:
- যদি আগের স্বামীর দেওয়া স্বর্ণের ওজন ও মূল্য জানা থাকে, তাহলে সেই পরিমাণ স্বর্ণ বা তার সমমূল্যের টাকা সদকা (গরিব-মিসকিনকে) করে দিন। এরপর বাবা-মার দেওয়া স্বর্ণের অংশ হালাল হওয়ায় গহনাটি ব্যবহার করতে পারবেন।
- যদি ওজন বা মূল্য জানা না থাকে, তাহলে সম্ভাব্য ওজনের (যথাসম্ভব ন্যায্য অনুমান) সমপরিমাণ স্বর্ণ বা তার মূল্য সদকা করে গহনাটি ব্যবহার করতে পারেন।
মাসআলার ভিত্তি:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার শিষ্যদের মতে, হারাম সম্পদ গ্রহণকারী ব্যক্তি তার মালিক হয় না; বরং তা ফেলে দেওয়া বা সদকা করা আবশ্যক। (শরহু মাআনিল আসার, ৩/৩৩; ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৩৬)
ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৯৪)-তে উল্লেখ আছে, “যদি স্বামীর উপার্জন সুদী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য মোহর বা উপহার গ্রহণ করা বৈধ নয়।”
উপসংহার:
আগের স্বামীর দেওয়া স্বর্ণ হারাম হওয়ার কারণে তা সদকা করা জরুরি। বাবা-মার দেওয়া স্বর্ণ হালাল থাকায় তা ব্যবহার করা জায়েজ, তবে আগের স্বর্ণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আলাদা করা সম্ভব না হলে সমমূল্যের সদকা করে গহনা ব্যবহার করুন। আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিন।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।