মৌখিক ইজাব-কবুল ছাড়া শুধু সাক্ষী ও লেখালেখির মাধ্যমে বিবাহ হয় কি না?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7107
Questioner: Ibrahim
Question Asked: 19 Oct 2026, 12:57 PM
Reviewed & Published: 19 Oct 2026, 02:23 PM
Views: 17
Tokens: 4,376
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

২ পক্ষের সাক্ষী ও বর কনের সাক্ষর ও লেখালেখির মাধ্যমে বিয়ে করে, কোন মৌখিক ইজাব কবুল হয় নি(এটি নিশ্চিত)। তারা ২ বছর যাবত সংসার করছে এভাবেই।

আর এর মধ্যে তাদের ২ তালাক হয়েছিল।

১.এক্ষেত্রে এখন তাদের করণীয় বা বিয়ে না হলে তারা এতদিন একত্রে ছিল এর বিধান কি হবে ?
২.তালাকের ঘটনা গুলার বিধান এই অবস্থায় কি হবে?সেগুলো কি গণনা হবে?
৩.আর আবার বিয়ে করতে হবে সম্পূর্ণ নতুন করে?

Answer

বিবাহ সম্পন্ন হয়নি—এক্ষেত্রে করণীয় ও তালাকের বিধান

মূল বিষয়: মৌখিক ইজাব-কবুল ছাড়া বিবাহ হয় না

হানাফি মাযহাবের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো—বিবাহের আকদ (চুক্তি) সম্পন্ন হওয়ার জন্য মজলিসে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মৌখিক (বা ইজাব-কবুলের অর্থ বহনকারী) প্রস্তাব ও গ্রহণ অপরিহার্য। শুধু কাগজে সাক্ষর, লেখালেখি বা সাক্ষীদের উপস্থিতিতে লিখিত দলিল সম্পাদন—এগুলো দ্বারা আকদ সম্পন্ন হয় না; বরং এগুলো আকদের প্রমাণ (দলিল) হিসেবে কাজ করে, আকদ নিজে নয়।

আল-হিদায়া: "النكاح ينعقد بالإيجاب والقبول" — বিবাহ ইজাব ও কবুল দ্বারা সম্পন্ন হয়।

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৩: "لا بد من الإيجاب والقبول في مجلس واحد" — একই মজলিসে ইজাব ও কবুল অপরিহার্য।

ফাতাওয়া আলমগিরি: আকদ শব্দ বা তার সমার্থক শব্দে ইজাব-কবুল ব্যতীত বিবাহ সংঘটিত হয় না।

যেহেতু প্রশ্নে স্পষ্ট বলা হয়েছে—কোনো মৌখিক ইজাব-কবুল হয়নি (এটি নিশ্চিত), সেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে বিবাহই সংঘটিত হয়নি। ফলে:

  • তারা পরস্পর নামাহরাম ছিলেন এবং আছেন।
  • এই দুই বছর একত্রে বসবাস, নির্জনতা (খালওয়া) ও দাম্পত্য সম্পর্ক—সবই যিনা/হারাম হিসেবে গণ্য, যা থেকে তাওবা ও ইস্তিগফার ওয়াজিব।
  • এ সময়ে কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে সেটি বিবাহবহির্ভূত সন্তান হিসেবে গণ্য হবে।

তাদেরকে শরীয়তের নীতিমালা অনুসারে পুনরায় বিবাহ পড়িয়ে নিতে হবে।


এখন তাদের করণীয় কী? এতদিন একত্রে থাকার বিধান কী?

করণীয়:

  1. অবিলম্বে পৃথক হওয়া — যেহেতু বিবাহই হয়নি, তাই এখন থেকে একত্রে বসবাস, নির্জনতা ও সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম। একই ঘরে অবস্থানও জায়েয নয়।
  2. তাওবা ও ইস্তিগফার — গুনাহ থেকে খাঁটি তাওবা, নফল ইবাদত, সদকা ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে কাফফারা স্বরূপ আমল করা।
  3. নতুন করে শরীয়তসম্মত বিবাহ সম্পন্ন করা — যদি তারা উভয়ে বৈধভাবে একত্রে থাকতে চান, তবে নতুন করে ইজাব-কবুলসহ পূর্ণাঙ্গ আকদ করতে হবে।

এতদিন একত্রে থাকার বিধান: এটি ছিল হারাম সম্পর্ক। তবে ইসলামের বিস্তৃত রহমত হলো—খাঁটি তাওবা করলে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করেন। কিন্তু তাওবার শর্ত হলো: হারাম সম্পর্ক ত্যাগ করা, পুনরায় না ফেরা এবং ভবিষ্যতে হালাল পথে (বিবাহে) প্রবেশ করা।

মা'আরিফুল কুরআন (সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৩২-এর তাফসীর): যিনার নিকটবর্তী হওয়াও নিষিদ্ধ; আর এ ধরনের গুনাহ থেকে বাঁচার একমাত্র শরীয়তসম্মত পথ হলো বৈধ বিবাহ।


তালাকের ঘটনাগুলোর বিধান—সেগুলো কি গণনা হবে?

উত্তর: না, ওই তালাকগুলো গণনায় আসবে না। কারণ:

  • তালাক সংঘটিত হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সহীহ বিবাহের অস্তিত্ব। যেখানে বিবাহই সংঘটিত হয়নি, সেখানে তালাকের কোনো অস্তিত্বই নেই।
  • সুতরাং ওই দুই তালাক বাতিল ও অকার্যকর (لغو) হিসেবে গণ্য হবে; কোনো তালাকই কার্যকর হয়নি এবং ভবিষ্যতের জন্য কোনো তালাকও গণনায় আসবে না।

৩. আবার বিয়ে করতে হবে সম্পূর্ণ নতুন করে?

হ্যাঁ, সম্পূর্ণ নতুন করে শরীয়তসম্মত বিবাহ সম্পন্ন করতে হবে। কারণ পূর্বে কোনো সহীহ আকদই হয়নি।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.