বিবাহের প্রস্তাবে নিম্নুক্ত বাক্যের বিধান জানতে চাই
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
* কাজী: অমুকের মেয়ে অমুককে এতো টাকা দেনমোহরে বিবাহ করতে রাজি থাকলে বলো কবুল।
*বর: আলহামদুলিল্লাহ কবুল করলাম
* কাজী: অমুকের মেয়ে অমুককে এতো টাকা দেনমোহরে তোমার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম রাজি থাকলে বলো কবুল।
*বর: আলহামদুলিল্লাহ কবুল করলাম
কাজী: অমুকের মেয়ে অমুককে এতো টাকা দেনমোহরে তোমার কাছে বিবাহের পয়গাম আনাম রাজি থাকলে বলো কবুল
*বর: আলহামদুলিল্লাহ কবুল করলাম
কাজী: অমুকের মেয়ে অমুককে এতো টাকা দেনমোহরে তোমার কাছে বিবাহেদিলাম,রাজি থাকলে বলো
*বর: আলহামদুলিল্লাহ কবুল করলাম
এই চার ছুরতেই কি বিবাহ হবে???
,
২) কোনো মানুষের অনপক আগে বিয়ে হয়েছে, হঠাৎ তার যদি বিবাহের ইজাবের বাক্য নিয়ে সন্দেহ হয় সে কি পুরাতন ভিডিও খোজবে? তার কি করণীয়
Answer
বিবাহের ইজাব-কবুলের বাক্য ও সন্দেহজনিত করণীয়
প্রশ্ন ১: উল্লিখিত চারটি ছুরতে কি বিবাহ হবে?
** উত্তর:** উল্লেখিত চারটি ছুরতের ক্ষেত্রেই কাজী যদি আপনার এভাবে অনুমতি নেওয়ার পর পাত্রীর সামনে গিয়ে আপনার পক্ষ থেকে শরীয়ত সম্মত পন্থায় ২ জন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সাক্ষীর সামনে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করে থাকে এবং পাত্রী যদি সেই মজলিসেই কবুল বলে থাকে, তাহলে উক্ত বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে।
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী বিবাহের জন্য দুটি রুকন (স্তম্ভ) আবশ্যক:
- ইজাব — পাত্রপক্ষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব/সম্মতি প্রকাশ
- কবুল — পাত্রের পক্ষ থেকে গ্রহণ/সম্মতি প্রকাশ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
«فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ» "তোমরা তাদের (নারীদের) বিবাহ করো তাদের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে।" (সূরা নিসা: ২৫)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
«لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ» "অভিভাবক ও দু'জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" (সুনানে তিরমিজি: ১১০২; সুনানে আবু দাউদ: ২০৮৫)
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ইজাব-কবুল মাজি কালাম (অতীতকালীন বাক্য) বা আমর (আদেশসূচক) — উভয়ভাবেই হতে পারে। যেমন "زوجتك" (বিবাহ দিলাম) বা "زوجني" (আমাকে বিবাহ দাও) — উভয়ই শুদ্ধ। (রাদ্দুল মুহতার, ৩/৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৬৮)
প্রশ্ন ২: পুরাতন বিবাহের ইজাবের বাক্য নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয়
এক্ষেত্রে অহেতুক সন্দেহ না করে সংসার চালিয়ে যাওয়ারই পরামর্শ থাকবে।
ইসলামি ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো:
«الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ» "নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।"
অর্থাৎ, যে বিবাহ নিশ্চিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে, পরবর্তীতে শুধু সন্দেহের কারণে তা বাতিল বলে গণ্য হবে না। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) বলেন:
"الأصل بقاء ما كان على ما كان" "মূলনীতি হলো, যা ছিল তা আপন অবস্থায় বহাল থাকে।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/১২৩)
করণীয়
১. ওয়াসওয়াসা (শয়তানি সন্দেহ) দূর করা: হঠাৎ সন্দেহ যদি শয়তানের ওয়াসওয়াসা হয়, তবে তাতে কর্ণপাত করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
«لَا يَزَالُ النَّاسُ يَسْأَلُونَ حَتَّى يُقَالَ: هَذَا اللَّهُ خَلَقَ الْخَلْقَ، فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ» "মানুষ প্রশ্ন করতে থাকবে, এমনকি বলা হবে: আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সবকিছু, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল? যে ব্যক্তি এমন কিছু (ওয়াসওয়াসা) অনুভব করে, সে যেন বলে: 'আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম'।" (সহিহ মুসলিম: ১৩৪)
২. ভিডিও খোঁজার প্রয়োজন নেই: পুরাতন ভিডিও খুঁজে বের করা আবশ্যক নয়। কারণ—
- বিবাহের মূল সাক্ষ্য হলো সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও সমাজে প্রকাশ্যতা (শুহরাত)।
- নিশ্চিত বিবাহকে সন্দেহের কারণে বাতিল করা যায় না।
- ভিডিও খুঁজতে গিয়ে যদি আরও সন্দেহ তৈরি হয়, তবে তা শয়তানের ফাঁদে পা দেওয়ারই নামান্তর।
৩. যদি সত্যিই গুরুতর সন্দেহ হয়: যদি সন্দেহ ওয়াসওয়াসা না হয়ে বাস্তব কোনো কারণভিত্তিক হয় (যেমন: ইজাবের বাক্যে বিবাহের অর্থই বোঝা যায়নি, বা সাক্ষী ছিল না), তবে—
- সাক্ষীদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন।
- বিশ্বস্ত আলেমের সাথে পরামর্শ করুন।
- প্রয়োজনে তাজদীদে নিকাহ (পুনরায় বিবাহ) করে নিন — এটি احتیاطاً (সতর্কতামূলক) উত্তম। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) সন্দেহের সময় তাজদীদে নিকাহকে احتیاط হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২২)
৪. দুআ ও তাওয়াক্কুল: আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং এই দুআ পড়ুন:
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْوَسْوَسَةِ فِي النِّكَاحِ» "হে আল্লাহ! আমি বিবাহের ব্যাপারে ওয়াসওয়াসা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।"