হানাফি মাযহাব অনুযায়ী “চলে যাও” জাতীয় কিনায়া শব্দের হুকুম।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7053
Questioner: Li Za
Question Asked: 18 Oct 2026, 07:51 AM
Reviewed & Published: 18 Oct 2026, 10:02 AM
Views: 14
Tokens: 6,626
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ ওস্তাদ
আমার এবং স্বামীর মধ্যে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকে। কথায় কথায় উনি আমাকে গালি দেন, তুই তুকারি করেন,অপমান করেন, মিথ্যে অপবাদ দেন,গায়েও হাত উঠান ইত্যাদি। এমন একদিন আমি বলি যে _ 'আমাকে ছেড়ে দিন,তালাক দিন,নতুন কোন মেয়ে পছন্দ হইছে তাকে নিয়ে থাকেন ' তিনি উত্তরে বলেন ' চলে যাও,চলে যাইতে পারো না' একসময় আমি আমার ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে যায় বিকেলে উনি রাস্তায় জোর করে ছেলেকে নিয়ে বলে আমি নাকি না বলে চলে যাচ্ছি ছেলেকে নিয়ে আমাকে যেতে বলেন। এগুলো কথায় কি তালাক হয়ে যাবে? এর আগেও চলে যেতে বলেছে,কিছু হলেই চলে যেতে বলে। আমিও যেতে চাই কারণ ওনার মানসিক, শারীরিক নির্যাতন, ঠিক মত ভরণপোষণ পর্যন্ত দিতে চায় না, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা,ছোট বড় সিদ্ধান্ত কিছুতেই আমি নেই। আমার বাবার কাছে টাকা সেটা পর্যন্ত আমি জানিনা। দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করার কথা থাকলেও আজ পযন্ত দেয়নি। কোনরকম থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিছেন। এছাড়া তার মা বা কেউ অপমান করলে,অপবাদ দিলেও তার কিচ্ছু যায় আসে না। অন্যদিকে আমার পরিবার চুপ। আমাকে শুধু মেনে নিতেই বলে তাদের সম্মান, স্বার্থের জন্য। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কি আমি ইস্তেখাড়া করবো?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

** উত্তর:**
প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্য যদি আপনার স্বামী তালাকের নিয়তে বলে থাকে,সেক্ষেত্রে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে। অন্যথায় কোনো তালাকই পতিত হবেনা।

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী স্বামী “চলে যাও, চলে যেতে পারো” বলেছেন—এটি তালাকের স্পষ্ট শব্দ (صريح) নয়; বরং এটি কিনায়া/ইঙ্গিতমূলক কথা। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এ ধরনের কথা দ্বারা তালাক সংঘটিত হয় না, যদি না স্বামী তালাকের নিয়ত করে।

তবে “তালাক দিয়ে দিলাম/তুমি তালাকপ্রাপ্ত” ইত্যাদি স্পষ্ট শব্দ বললে নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয়।


১. তালাকের শব্দ দুই প্রকার

হানাফি ফিকহে তালাকের শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত:

(ক) صريح (স্পষ্ট শব্দ): যেমন—«أنت طالق»، «طلقتك»، «أنت مطلقة» অর্থাৎ “তুমি তালাকপ্রাপ্ত”, “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”। এতে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।
(খ) كناية (ইঙ্গিতমূলক শব্দ): যেমন—«اذهبي»، «اخرجي»، «روحي»، «اذهبي إلى أهلك»، «لا حاجة لي بك» ইত্যাদি। এতে তালাক হয় কেবল তখনই, যখন স্বামী তালাকের নিয়ত করে, অথবা পরিস্থিতি/প্রশ্নোত্তর দ্বারা তা স্পষ্ট হয়।

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى» (বুখারি, মুসলিম)।
  • হানাফি ফিকহের মূল গ্রন্থ আল-হিদায়া-তে বলা হয়েছে: الكناية لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو بدلالة الحال (কিনায়া দ্বারা তালাক পতিত হয় না, নিয়ত বা অবস্থার দলিল ছাড়া)।
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) ৩/২৯৮-এ উল্লেখ আছে: «الكناية لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو دلالة الحال»।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি (১/৩৫৪) ও ফাতাওয়া উসমানি (২/৩৩০-৩৩৫) তে একই নীতি বর্ণিত।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.