হায়েজ ও ইস্তিহাজার পার্থক্য, হালকা হলদে স্রাবের বিধান, হানাফী ফিকহের আলোকে রক্ত ও স্বাভাবিক স্রাব চেনার উপায়।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 697
Questioner: Esrat Jahan
Question Asked: 24 May 2026, 06:46 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 07:17 PM
Views: 95
Tokens: 4,148
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার হায়েজ নিয়মিত প্রতিমাসেই হয় ছোট থেকে। হায়েজের অভ্যাস ছিল এমন যে

এক হায়েজ শেষ হওয়ার পর ২১ -৩৫ তম পবিত্রতা দিনের মধ্যে হায়েজ আসত আবার। অর্থাৎ কোন মাসে ২১ তম পবিত্রতার দিনে কোন মাসে ২২/২৩ তম পবিত্রতার দিনে কোন মাসে ২৯ তম দিনে বা ৩৩ তম পবিত্রতার দিনে হায়েজ শুরু হত এমন।

হায়েজ চলত ৭/৮/৯/১০ দিন।অর্থাৎ একেক মাসে একেক দিন তবে ১০ দিনের মধ্যেই ভাল হয়ে যেত।

হায়েজের রক্তের(ধরন) ছিলঃ
(কালচে লাল রক্ত,
গাড়,
দুর্গন্ধযুক্ত,
তরল)

এখন আমার বয়স ২৭ চলছে। বেশ অনেক মাস ধরে খেয়াল করছি এক হায়েজ শেষ হওয়ার পর মাত্র ৮/৯ দিন বা ১২/১৫ দিন পূর্ণ সাদা স্রাব চলে এরপর থেকে পূর্ণ সাদা স্রাবের সাথেই আবার একদম হালকা হলদে স্রাব থাকে মাঝে মধ্যে।এত হালকা হলদে যে টিস্যুতে রাখলে তখন বোঝা যায় যে হালকা হলদে কালার।
হালকা হলদে যে স্রাব পাই তার ধরন
(হাল্কা হলদে, টিস্যুতে না নিলে নিশ্চিত বোঝা যায় না,
একেবারে তরল না কিছুটা মাখনের মত বা কখনও জমাট জেলি বা সুতার মত,
দুর্গন্ধহীন,
সাদা স্রাবের সাথেই মাঝে মধ্যে অল্প দেখা যায়।
পরিমানে অল্প হওয়ায় উরুর চামড়ায়/পায়জামা পর্যন্ত কখনই আসে না।)

এরপর ঠিক ছোটবেলা থেকে হওয়া অভ্যাসগত হায়েজের মতই এখনও ২১-৩৫ তম দিনের মধ্যে প্রতিমাসে রক্তস্রাব(আমি এটাকেই হায়েজ ধরি) শুরু হয়।এবং এই রক্তস্রাবের (ধরন-রং-পরিমান) পুরোপুরি ছোটবেলা থেকে হওয়া হায়েজের রক্তের(ধরন-রং-পরিমান) সাথে মিলে। সেটা হলঃ
(কালচে লাল রক্ত,
গাড়,
দুর্গন্ধযুক্ত,
তরল) এবং শুরু থেকে আমার হায়েজের রক্তের রঙ -ধরন- পরিমান সব এমনই ছিল ।এবং এখনও ঠিক ছোট বেলা থেকে হওয়া অভ্যাসগত হায়েজের মতই এই রক্ত স্রাব ৭/৮/৯ দিন চলে।এবং ১০ দিনের মধ্যেই প্রতি মাসে ভাল হয়ে যায়।

যেহেতু আমার শুরু থেকে হওয়া হায়েজের রঙ পরিমান ধরন ও অভ্যাসের(২১-৩৫ তম দিনের মধ্যে আসা) সাথে সব মিল আছে এই রক্তস্রাবের। তাই এটাকেই আমি হায়েজ ধরি।
অপরদিকে হালকা হলদে স্রাবের(রং,ধরন,পরিমান) সাথে আমার অভ্যাসগত হায়েজের কোন মিল নাই

গাইনি ডাক্তারকে দেখাইছি উনি শুধু রক্তস্রাবকেই হায়েজ বলছেন।

২ জন মহিলা উস্তাযাকে ও বলছিলাম ব্যাপারটা।উনারা বলছেন এমন হালকা হলদে স্রাব মেয়েদের সাভাবিক স্রাবই।এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই বা এটাকে হায়েজ ধরা যায় না।আমারও প্রবল বিশ্বাস প্রতিমাসে রক্তস্রাব যেটা আসে সেটাই আমার হায়েজের দিন ,হালকা হলদে গুলা না।

প্রশ্ন ১ঃ অভ্যাসগত হায়েজের সাথে সব মিল থাকা শুধু এই রক্তস্রাবকেই যে আমি হায়েজ ধরছি এটা কি ঠিক আছে?

প্রশ্ন ২ঃ যদি ঠিক না থাকে আর হালকা হলদে স্রাবকেও হায়েজ ধরতে হয়,তাহলে আমি কবে থেকে কি ধরব বুঝতেছিনা।কারন হালকা হলদে এই স্রাব কবে থেকে প্রথম শুরু হইছে আর কোন মাসে কতদিন ছিল আমার ঠিক নাই।

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার হায়েজের অভ্যাস (২১-৩৫ দিনের ব্যবধান, ৭-১০ দিন স্থায়ী, রক্তের ধরন: কালচে লাল, গাঢ়, দুর্গন্ধযুক্ত) স্পষ্ট। বর্তমানে এই রক্তস্রাবই আপনার জন্য হায়েজ গণ্য হবে। হালকা হলদে স্রাব (যা দুর্গন্ধহীন, তরল নয়, অল্প পরিমাণে এবং সাদা স্রাবের সাথে মিশে থাকে) তা হায়েজের রক্ত নয়, বরং এটি সাধারণ স্রাব (رطوبة الفرج) যা নারীদের স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা।

প্রশ্ন ১:
আপনি শুধু রক্তস্রাবকে (কালচে লাল, গাঢ়, দুর্গন্ধযুক্ত) হায়েজ ধরা সম্পূর্ণ সঠিক। কারণ:

  • হাদীসে এসেছে, হায়েজের রক্ত কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২৮৬; ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন)
  • হানাফী ফিকহে হায়েজের রক্তের বৈশিষ্ট্য হলো: কালো বা লাল, গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮০)
  • আপনার হালকা হলদে স্রাবের সাথে হায়েজের রক্তের কোনো মিল নেই। তাই এটি হায়েজ গণ্য হবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬; বাহিশ্তী জেওর, হায়েজের বিবরণ)

প্রশ্ন ২:
হালকা হলদে স্রাবকে হায়েজ ধরতে হবে না। তাই আপনার আগের অভ্যাস (২১-৩৫ দিনের ব্যবধানে ৭-১০ দিন রক্তস্রাব) অনুযায়ীই হায়েজ নির্ধারণ করবেন।

  • আপনি যখনই কালচে লাল, গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত দেখবেন, তখন থেকে হায়েজ শুরু হবে।
  • হালকা হলদে স্রাব পবিত্রতা (طہر) এর অন্তর্ভুক্ত। এ অবস্থায় নামায, রোজা, কুরআন স্পর্শ করা ইত্যাদি জায়েয। (মারাকিল ফালাহ, ১/৮৬)

উপসংহার:
আপনার পদ্ধতি সঠিক। আপনি যেমনটি করছেন (শুধু রক্তস্রাবকে হায়েজ ধরা), তেমনই চালিয়ে যেতে পারেন। ডাক্তার ও উস্তাযাদের বক্তব্যও আপনার অভিমতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা আপনার জ্ঞান ও আমলে বরকত দিন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.