দ্বীনদার জীবনসঙ্গী খোঁজার পূর্ণ ইসলামী গাইডলাইন।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আপু মনে করুন মেয়েটা যেমন দ্বিনদার ছেলে চায় সেটা তার পরিবারকে জানালো।তারপর ফ্যামিলি এর লোক ও সেই ভাবে খোজা শুরু করলো।কিন্তু কিছু কিছু সময় এমন বলে ফেলে যে যেমন চাচ্ছ এমন ছেলে পাওয়া এই যুগে অসম্ভব।তবে মাঝে মাঝে বিশ্বাস ও করে যে আল্লাহ দিলে অবশ্যই সম্ভব এমন আর কি।
তো এমন কিছু প্রস্তাব আসলো যে,মেয়েটাকে পছন্দ হয়েছে।মানে মেয়েকে না দেখেই জাস্ট মেয়ের সম্পর্কে যা যা বলেছে সেই কথা গুলো শুনে।আবার অনেক ক্ষেত্রে এমন ও হতে পারে যে দূর থেকে মেয়েকে ছেলের পরিবারের কোনো একটা ফিমেল দেখে পছন্দ করেছে।তারপর বাসায় এসে যখন ফ্যামিলি এর একজন মেম্বার বললো এই এই ব্যাপার।
তাহলে আপু সেই মুহূর্তটাতে ওই মেয়েটার কি করা উচিত???
আপনার পোস্ট টা পরে আলহামদুলিল্লাহ সব বুঝেছি।কিন্তু আপু আপনি যদি একটু ধাপে ধাপে বিয়ে হওয়ার আগের সবগুলো পদক্ষেপ বলতেন অনেক উপকার হতো ইং শা আল্লহ।
যেমন-
▪️কোন মুহূর্তে বায়োডেটা দিতে হবে???
▪️কাদেরকে বায়োডেটা দেওয়া উচিত হবে???
▪️বায়োডেটা দেওয়ার পর করণীয় কি কি???
▪️এই স্টেজ গুলোর সময় গুলোতে কিভাবে আল্লাহকে আরো বেশি করে স্মরণ করে,আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবো???দিন-রাত কিভাবে আল্লাহর সাথে কাটানো উচিত হবে???
▪️আর কোন মুহূর্তে বাসায় সরাসরি ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে???
▪️আপনি যে বললেন শেষ সময়ে ইস্তেখারা শুরু করতে!তাহলে এই ইস্তেখারা কতদিন ধরে করতে হবে আপু???
▪️আর আপু আরেকটা কথা হচ্ছে আপনি কিভাবে যাচাই-বাছাই করেছেন বা আমাদের কিভাবে আসলে যাচাই-বাছাই করা উচিত এটা যদি আপনজ একটু ডিটেলস এ বলতেন অনেক ভালো হতো ইং শা আল্লহ।যেহেতু এটা আমাদের যাচাই তাদেরকে না জানিয়ে করতেই হবে।
****এক্ষেত্রে যেই ফ্যামিলি দ্বিন বোঝে,দ্বিনদার (এখানে দ্বীনদার বলতে আমি গাইরতবান,তাকওয়াবান,সত্যবাদী,এক কথায় একজন দ্বীনদার ছেলের বৈশিষ্ট্য যা যা না থাকলেই নয়) ছেলে চাচ্ছে সেই ক্ষেত্রে কিভাবে যাচাই করবো???
****আর যেই ফ্যামিলি দ্বিন সম্পর্কে উদাসীন,শুধু ছেলেটা ভালো কিনা জানলেই এনাফ!নামাজ পড়লেই এনাফ!শুধু এইটুকু ভাবে তাহলে সেই ফ্যামিলি এর মেয়েদের কিভাবে যাচাই করা উচিত আসলে???
অবশ্যই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।আমাদের জন্যে যা কল্যাণ কর হবে অবশ্যই আল্লাহ আমাদেরকে সেটাই দেবেন ইং শা আল্লহ।কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালা আমাদের হাতে যেই দায়িত্ব গুলো দিয়েছেন,যেই ভাবে যাচাই-বাছাই করতে বলেছেন।তাহলে আমাদের অবশ্যই যাচাই-বাছাই করতেই হবে।এই জন্যই মূলত প্ৰশ্ন গুলো করা আপু।
আমি আশা করবো আপু আপনি আমাকে এই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দেবেন ইং শা আল্লহ আর আমাদের যাদের মধ্যে এই ধরণের প্রশ্ন ঘুর ঘুর করছে সবাই আপনার এই প্রশ্নের উত্তর এর আশায় আছে ইং শা আল্লহ।
Answer
বিয়ে: দ্বীনদার জীবনসঙ্গী খোঁজার পূর্ণ ইসলামী গাইডলাইন
উত্তর (সংক্ষেপে): ইসলামে বিয়ে একটি ইবাদত ও গুরুত্বপূর্ণ আমানত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—চারটি গুণ দেখে মেয়েকে বিয়ে করা হয়; কিন্তু তুমি দ্বীনদার-কে অগ্রাধিকার দাও (বুখারী-মুসলিম)। ছেলের ক্ষেত্রেও একই নীতি। তাই বায়োডেটা, খোঁজ-খবর, ইস্তেখারা—সবই শরীয়তের সীমার ভেতরে থেকে ধাপে ধাপে করতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিত দিচ্ছি।
১. কোন মুহূর্তে বায়োডেটা দেওয়া উচিত?
নীতি: বায়োডেটা দেওয়া যাবে তখনই, যখন মেয়ে (বা তার অভিভাবক) বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং পাত্র খোঁজা শুরু করার মানসিক ও পারিবারিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
- বয়স: বালেগা হওয়ার পর, বিবাহের যোগ্যতা অর্জনের পর। তবে অপ্রয়োজনে দেরি করা উচিত নয়; রাসূল ﷺ তাড়াতাড়ি বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী)।
- সময়: যখন পরিবার প্রস্তুত এবং মেয়ে নিজেও রাজি—তখনই। জোর করে বা অপ্রস্তুত অবস্থায় নয়।
- গোপনীয়তা: বায়োডেটা শুধু বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে দেওয়া উচিত, যেন তা অপব্যবহার না হয়।
হানাফি ফিকহ: ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন—কন্যার বিবাহে তার সম্মতি নেওয়া ওয়াজিব; জবরদস্তি করা যাবে না (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ)।
২. কাদেরকে বায়োডেটা দেওয়া উচিত?
উত্তম: নির্ভরযোগ্য, দ্বীনদার, আমানতদার আত্মীয়, দ্বীনি পরিবেশের পরিচিত মহিলা, বা বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী (যেমন দ্বীনদার পরিবারের মহিলা)।
এড়ানো উচিত:
- অপরিচিত, অজানা অনলাইন গ্রুপ বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজে খোলাখুলি ছবি-তথ্য দেওয়া।
- এমন ব্যক্তিকে দেওয়া, যিনি গীবত বা অপপ্রচার করতে পারেন।
- ছেলের কাছে সরাসরি মেয়ের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানো—বরং অভিভাবকের মাধ্যমে।
ফতোয়া উসমানি ও ইমদাদুল ফতোয়া-তে উল্লেখ আছে—বেগানা (নন-মাহরাম) পুরুষের সাথে মেয়ের সরাসরি যোগাযোগ, চ্যাট বা ছবি বিনিময় শরীয়তসম্মত নয়; মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সব যোগাযোগ হওয়া চাই।
৩. বায়োডেটা দেওয়ার পর করণীয়
১. সালাতুল ইস্তিখারা পড়া—প্রথম থেকেই, শুধু শেষে নয়। ২. তাহাজ্জুদে দুআ: "হে আল্লাহ, যদি এই পাত্র আমার দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তা সহজ করে দিন।" ৩. তাহকিক (যাচাই): নিচে বিস্তারিত আসছে। ৪. ইস্তিশারা (পরামর্শ): দ্বীনদার, অভিজ্ঞ ও আমানতদার ব্যক্তির সাথে পরামর্শ। ৫. সবর ও তাওয়াক্কুল: তাড়াহুড়া না করা; আল্লাহর উপর ভরসা রাখা। ৬. নামাজ-কুরআন-যিকির বাড়ানো: এই সময়ে ইবাদত বাড়ালে আল্লাহ রাহবার করবেন।
৪. এই সময়ে আল্লাহকে বেশি স্মরণ ও দিন-রাত কাটানোর পদ্ধতি
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে: বিশেষত ফজর ও ইশা।
- তাহাজ্জুদ: রাতের শেষ প্রহরে দুআ—এ সময় দুআ কবুল হয়।
- কুরআন তিলাওয়াত: প্রতিদিন অন্তত এক পারা বা সূরা ইয়াসিন, আর-রাহমান, আল-মুলক।
- যিকির: সকাল-সন্ধ্যা আযকার, ইস্তিগফার (১০০ বার), দরুদ (১০০ বার), "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল"।
- সালাতুল হাজত: প্রয়োজন পূরণের জন্য ২ রাকাত নামাজ পড়ে দুআ।
- সদকা: প্রতিদিন কিছু সদকা—বালা দূর হয়, কল্যাণ আসে।
- গুনাহ থেকে বাঁচা: চোখ-কান-জিহ্বার হেফাজত; গীবত, মিথ্যা, হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা।
মা'আরিফুল কুরআন: "তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও" (সূরা বাকারা: ৪৫)—এ আয়াতের তাফসীরে মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন, দুশ্চিন্তার সময় নামাজই মুমিনের প্রধান আশ্রয়।
৫. কোন মুহূর্তে ছেলে পক্ষ সরাসরি বাসায় দেখতে আসবে?
শর্ত:
- প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর।
- মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি নিয়ে।
- মাহরাম উপস্থিতিতে—কখনো একা নয়।
- পর্দার বিধান: ছেলে মেয়েকে সরাসরি দেখা করতে চাইলে শরীয়তসম্মত পন্থা হলো—মেয়ে পূর্ণ পর্দায়, অভিভাবকের উপস্থিতিতে, শুধু বিবাহের উদ্দেশ্যে একবার দেখা (দেখা করা সুন্নত, মুসলিম)।
- সময়: সাধারণত দুপুর বা বিকেলে, ঘরের ভেতরে, মাহরামের উপস্থিতিতে।
হাদিস: রাসূল ﷺ বলেন—"যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন তার প্রতি দৃষ্টিপাত করা তার জন্য উত্তম, যদি তা বিবাহের উদ্দেশ্যে হয়" (তিরমিজি, আবু দাউদ)।
৬. ইস্তেখারা কতদিন করতে হবে?
উত্তর: নির্দিষ্ট কোনো দিনসংখ্যা নেই। সাধারণত ৩, ৭, বা ৪০ দিন—যতদিন সিদ্ধান্ত স্পষ্ট না হয়। তবে:
- প্রতিদিন একবার বা একাধিকবার করা যায়।
- সালাতুল ইস্তিখারা-র দুআ: "اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ..." (বুখারী)।
- শর্ত: হারাম বা সন্দেহজনক কিছুতে ইস্তেখারা নয়; হালাল বিষয়ে।
- ফলাফল: ইস্তেখারার পর অন্তরে যে দিক সহজ ও প্রশান্ত হয়, সেদিকে অগ্রসর হওয়া; অথবা স্বপ্ন বা পরিস্থিতির মাধ্যমে আল্লাহ ইশারা দেন।
ফতোয়া উসমানি: ইস্তেখারা সুন্নত, তবে সিদ্ধান্তের আগে তাহকিক ও পরামর্শ অপরিহার্য; শুধু ইস্তেখারার উপর ভরসা করে যাচাই বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
৭. যাচাই-বাছাই কীভাবে করবেন (গোপনীয়ভাবে)
মূলনীতি: যাচাই হবে গোপনে, পাত্রপক্ষকে না জানিয়ে, শরীয়তের সীমা রক্ষা করে।
ক) দ্বীনদার পরিবারের ক্ষেত্রে (যারা দ্বীন বোঝে)
যাচাইয়ের বিষয়:
- নামাজ: পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে? তাহাজ্জুদ? (পরিবারের ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসা)
- কুরআন: তিলাওয়াত, হিফজ, তাফসীর চর্চা।
- আখলাক: সততা, ওয়াদা পালন, মাতা-পিতার সাথে ব্যবহার।
- গাইরত: হারাম থেকে বাঁচা, চোখের হেফাজত, বেগানা মহিলার সাথে সম্পর্ক।
- তাকওয়া: সুদ, ঘুষ, হারাম উপার্জন থেকে বাঁচা।
- ইলম: দ্বীনি জ্ঞান, ফিকহ, আকিদা।
- সালাত-সিয়াম: রমজান, নফল ইবাদত।
- সামাজিক: আত্মীয়-প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক।
- পারিবারিক: পরিবারের দ্বীনি পরিবেশ, মা-বোনের পর্দা।
- আর্থিক: হালাল উপার্জন, ঋণ, দায়িত্ববোধ।
পদ্ধতি:
- মসজিদের ইমাম, দ্বীনি শিক্ষক, বা স্থানীয় দ্বীনদার ব্যক্তির সাথে কথা বলা।
- পাড়ার প্রতিবেশী (বিশ্বস্ত) জিজ্ঞাসা।
- পাত্রের সহপাঠী/সহকর্মী (দ্বীনদার) জিজ্ঞাসা।
- সোশ্যাল মিডিয়া পরোক্ষভাবে—তবে গীবত নয়, শুধু তথ্য।
- সালাতুল ইস্তিখারা ও দুআ।
খ) দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন পরিবারের ক্ষেত্রে (যারা শুধু "ছেলে ভালো, নামাজ পড়ে" এতটুকু জানে)
এখানে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন:
- ছেলের ব্যক্তিগত দ্বীন: সরাসরি তার সাথে দ্বীনি বিষয়ে কথা বলার সুযোগ (মাহরামের উপস্থিতিতে, অভিভাবকের মাধ্যমে)।
- নামাজের মান: শুধু "পড়ে" নয়—জামাতে পড়ে কি না, নিয়মিত কি না।
- আখলাক: মিথ্যা বলে কি না, ওয়াদা রাখে কি না, রাগ নিয়ন্ত্রণ।
- সঙ্গ: তার বন্ধুরা কেমন—দ্বীনদার না বেপরোয়া।
- পারিবারিক প্রভাব: পরিবার দ্বীনে উদাসীন হলে ছেলের উপর প্রভাব পড়তে পারে; তাই ছেলের স্বাধীন দ্বীনি চেতনা যাচাই জরুরি।
- মেয়ের দ্বীন: মেয়েটি নিজে দ্বীনদার কি না—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। কারণ মেয়ে দ্বীনদার হলে পরিবারের চাপে দ্বীন হারাবে না।
- শর্ত: বিয়ের আগে স্পষ্ট শর্ত—পর্দা, নামাজ, দ্বীনি পরিবেশ, সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা।
- ইস্তিখারা ও ইস্তিশারা: অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া।
ইমদাদুল ফতোয়া: শেখ আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন—"বিয়ে শুধু দুনিয়ার সম্পর্ক নয়, দ্বীনের সম্পর্ক; তাই দ্বীনদারিতা ছাড়া অন্য গুণে মুগ্ধ হওয়া বিপদ।"
৮. বিশেষ পরামর্শ: মেয়েটির করণীয় (প্রশ্নের প্রথম অংশ)
যখন পরিবারের কেউ বলে—"অমুক পাত্র প্রস্তাব দিয়েছে, মেয়ে পছন্দ করেছে"—
মেয়েটির করণীয়:
- শান্ত থাকা: তাড়াহুড়া না করা।
- সালাতুল ইস্তিখারা: সাথে সাথে পড়া।
- তাহকিক: পরিবারকে বলুন—"আগে ভালোভাবে যাচাই করুন।"
- নিজের দ্বীনি মানদণ্ড: ছেলের দ্বীন, আখলাক, পরিবার—এসব যাচাই।
- অভিভাবকের সাথে পরামর্শ: একা সিদ্ধান্ত নয়।
- দুআ: "রাব্বি হাব লি মিন লাদুনকা যাওজান তাইয়্যিবা"।
- সবর: আল্লাহর উপর ভরসা; তাড়াহুড়া শয়তানের কাজ।
- পর্দা: ছেলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ নয়; অভিভাবকের মাধ্যমে।
- ইস্তিশারা: দ্বীনদার আপু/মহিলার সাথে পরামর্শ।
- সিদ্ধান্ত: ইস্তিখারা ও যাচাইয়ের পর, অন্তরে প্রশান্তি এলে রাজি হওয়া।
৯. সারসংক্ষেপ: ধাপে ধাপে বিয়ের প্রক্রিয়া
| ধাপ | করণীয় | |-----|--------| | ১ | বিয়ের নিয়ত ও দুআ, সালাতুল ইস্তিখারা শুরু | | ২ | বায়োডেটা প্রস্তুত (দ্বীনি তথ্য, ছবি নয়) | | ৩ | বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো | | ৪ | গোপন তাহকিক (দ্বীন, আখলাক, পরিবার) | | ৫ | ইস্তিশারা (পরামর্শ) | | ৬ | ছেলে পক্ষের বাসায় আসা (মাহরাম উপস্থিতিতে, পর্দায়) | | ৭ | মেয়ের সম্মতি নেওয়া (জবরদস্তি নয়) | | ৮ | ইস্তিখারা চালিয়ে যাওয়া (৩-৭-৪০ দিন) | | ৯ | আকদ (মাহরাম, দুই সাক্ষী, মোহর) | | ১০ | ওয়ালিমা ও দাম্পত্য জীবন দ্বীনি ভিত্তিতে শুরু |
১০. গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া ও উদ্ধৃতি
- হাদিস: "নারীকে চারটি গুণ দেখে বিয়ে করা হয়—সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য, দ্বীন। তুমি দ্বীনদারকে অগ্রাধিকার দাও" (বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬)।
- হাদিস: "যখন তোমাদের কাছে এমন পাত্র আসে, যার দ্বীন ও আখলাকে তোমরা সন্তুষ্ট, তখন তাকে বিয়ে দাও" (তিরমিজি ১০৮৪)।
- রাদ্দুল মুহতার: কন্যার সম্মতি ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়।
- ফতোয়া উসমানি: পাত্র-পাত্রীর সরাসরি সম্পর্ক, চ্যাট, ছবি বিনিময় নাজায়েজ।
- ইমদাদুল ফতোয়া: দ্বীনদারিতা ছাড়া অন্য গুণে মুগ্ধ হওয়া ক্ষতিকর।
- মা'আরিফুল কুরআন: সূরা নূর ৩০-৩১—চোখের হেফাজত ও পর্দার বিধান।
১১. উপসংহার
আল্লাহ তা'আলা বলেন: "তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও" (বাকারা: ৪৫)। বিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে রিযিক ও রহমত। যাচাই-বাছাই করা আমাদের দায়িত্ব, আর ফলাফল আল্লাহর হাতে। তাই:
- তাড়াহুড়া নয়, তাহকিক।
- দুনিয়ার মানদণ্ড নয়, দ্বীন।
- সরাসরি সম্পর্ক নয়, মধ্যস্থতা।
- শুধু ইস্তিখারা নয়, ইস্তিশারা।
- সবর, দুআ, তাওয়াক্কুল।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে দ্বীনদার জীবনসঙ্গী দান করুন এবং বিয়েকে জান্নাতের সিঁড়ি বানান। আমিন।