স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক কি হালাল আছে???
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
১।কোনো মহিলা তা*** তাফফিজের অধিকার পাওয়ার পর যদি স্বামীকে তা*** দেওয়ার নিয়তে বলে আমার তো ধৈর্যের বাধ আছে সব সময় খারাপ ব্যবহার করেন কিছু বলি না আমি মানুষ না অমানুষ এই রকম যে খারাপ আচরণ করেন তারপর আমি বলছি এখন কি ১৯৮০ এর দশক স্বামী বললো তুই কি বুঝাতে চাস আমি বললাম কি বুঝাবো ১৯৮০ এর দশকের মানুষের মতো বউয়ের সাথে তুই তুকারী করে কথা বলেন বউকে ইথর এর মতো গালাগালি করেন আপনি দেখেন না এখনকার যুগের মানুষ কত সুন্দর করে বউয়ের সাথে কথা বলে স্ত্রী স্বামীকে এইভাবে বলায় কি তা** হবে?????
২।স্বামী সারাদিন অফিসে থাকে অফিস থেকে বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে বউকে সময় দেয় না মোবাইল নিয়ে বসে থাকে স্বামী বাসায় আসার পর বউ আতংকের মধ্যে থাকে স্বামী সব সময় দোষ ধরে গালাগালি করে এমন একটা দিন নাই যে গালাগালি করে না কোনো দরকারি বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে আলোচনা করলে কুকুরের মতো ব্যবহার করে অথচ বউ উনার সাথে সর্বোচ্চ সুন্দর আচরণ করে সর্বোচ্চ সম্মান দেয় বিয়ের ৬ বছর হতে চলেছে বউ কোনো দিন স্বামীকে "তুমি" বলে সম্মোধন করে নি সব সময় "আপনি" বলে সম্মোধন করে।বিয়ের প্রথম থেকে এইভাবে খারাপ আচরণ করে আসছে বউ ভেবেছিল ঠিক হয়ে যাবে বিয়ের ৬ বছর হতে চলেছে এখনও উনার আচরন সুন্দর হয় নি।খারাপ আচরণ করে প্রতিদিন সরি বলে আবার প্রতিদিন খারাপ আচরণ করে।সোজা কথা বউ জানে না স্বামী থেকে সম্মান পাওয়া কি জিনিস। এমন অবস্তায় স্ত্রীর কি করা উচিৎ????
৩।আপনাদের ওয়েব সাইটে category Marriage and Di***select করার সময় তা** তাফফিজের অধিকার প্রাপ্ত মহিলা যদি নিজের উপর তা*** নিচ্চে মনে মনে ভাবে তাহলে কি তা** হবে???
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
ভূমিকা: তালাক-ই-তাফবিজ কী?
তালাক-ই-তাফবিজ (تفويض الطلاق) অর্থ হলো—স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের উপর তালাক দেওয়ার অধিকার প্রদান করা। এটি শরিয়তে বৈধ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তালাক দুইবার। অতঃপর হয় সংগতভাবে রাখা, নয়তো সুন্দরভাবে ছেড়ে দেওয়া।"
— (সূরা আল-বাকারা: ২২৯)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
"হে নবী! আপনি বলুন, তোমাদের স্ত্রীদেরকে তাদের ইদ্দতের ব্যাপারে জানিয়ে দাও..."
— (সূরা আত-তালাক: ১)
হানাফি ফিকহে তালাক-ই-তাফবিজের বৈধতা সম্পর্কে রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) ও ফাতাওয়া আলমগিরি-তে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মত হলো—স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয় এবং স্ত্রী তা প্রয়োগ করে, তবে তা কার্যকর হবে।
১ম প্রশ্ন: স্ত্রী তালাক-ই-তাফবিজের অধিকার পাওয়ার পর স্বামীকে তালাক দেওয়ার নিয়তে কিছু বলা
পরিস্থিতি:
স্ত্রী তালাক-ই-তাফবিজের অধিকার পেয়েছেন। তিনি স্বামীকে তালাক দেওয়ার নিয়তে কথা বলছেন—যেমন: "আপনি ১৯৮০-র দশকের মানুষের মতো আচরণ করেন, তুই-তুকারি করেন, গালাগালি করেন।" এ ধরনের কথা বললে কি তালাক হয়ে যাবে?
জবাবঃ- না এক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা।
২য় প্রশ্ন: স্বামীর দুর্ব্যবহার, অবহেলা, গালাগালি—এমতাবস্থায় স্ত্রীর করণীয় কী?
পরিস্থিতি:
স্বামী সারাদিন অফিসে থাকে, বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে মোবাইলে ব্যস্ত থাকে, স্ত্রীকে সময় দেয় না, সব সময় দোষ ধরে, গালাগালি করে, কুকুরের মতো ব্যবহার করে। স্ত্রী সর্বোচ্চ সম্মান ও সুন্দর আচরণ করে, "আপনি" বলে সম্বোধন করে, ৬ বছর ধরে ধৈর্য ধরে আছে—তবুও স্বামীর আচরণ বদলায়নি।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ:
১. স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য:
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।"
— (সূরা আন-নিসা: ১৯)
"আর তাদের (স্ত্রীদের) জন্য রয়েছে তোমাদের উপর অধিকার, যেমন তোমাদের জন্য রয়েছে তাদের উপর অধিকার।"
— (সূরা আল-বাকারা: ২২৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে তার পরিবারের প্রতি সর্বোত্তম।"
— (সুনানে তিরমিজি: ৩৮৯৫)
"কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিনা নারীর প্রতি ঘৃণা পোষণ করবে না। যদি তার একটি স্বভাব অপছন্দ হয়, তবে অন্যটি পছন্দ হবে।"
— (সহিহ মুসলিম: ১৪৬৯)
২. স্ত্রীর করণীয় (ধৈর্য, দাওয়াত, ও সমাধানের পথ):
ক. ধৈর্য ও দুআ:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।"
— (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)
খ. নরমভাবে বোঝানো:
স্বামীকে শান্তভাবে, ভালোবাসার সাথে বোঝানোর চেষ্টা করুন। রাগ বা অভিযোগের সুরে নয়, বরং ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে কথা বলুন।
গ. পরিবারের বড়দের বা ইমাম/মুফতির সাহায্য নেওয়া:
যদি সরাসরি বোঝানো কাজ না করে, তবে পরিবারের সম্মানিত ব্যক্তি বা স্থানীয় ইমাম/মুফতির মাধ্যমে সালিশের ব্যবস্থা করুন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করো, তবে একজন সালিশ তার পরিবার থেকে এবং একজন সালিশ স্ত্রীর পরিবার থেকে নিয়োগ করো। যদি তারা উভয়ে মিলন কামনা করে, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিলন ঘটাবেন।"
— (সূরা আন-নিসা: ৩৫)
ঘ. সবর ও ইস্তিগফার:
স্বামীর দুর্ব্যবহারের কারণে স্ত্রী যদি ধৈর্য ধরে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে নারী তার স্বামীর দুর্ব্যবহারে ধৈর্য ধরে, আল্লাহ তাআলা তাকে হযরত আসিয়া (আ.)-এর মতো মর্যাদা দান করবেন।"
— (বাহিশতী জেওর, বিবাহ অধ্যায়)
ঙ. তালাকের সিদ্ধান্ত:
যদি স্বামী একেবারেই সংশোধন না হয়, স্ত্রী নির্যাতিত হন, এবং শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে—তাহলে শরিয়ত স্ত্রীকে তালাক চাওয়ার অধিকার দিয়েছে (খুলা)। তবে এটি শেষ অবলম্বন হওয়া উচিত, প্রথম সমাধান নয়।
ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:
"স্ত্রীর উপর স্বামীর দুর্ব্যবহার, গালাগালি, বা শারীরিক নির্যাতন ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি স্বামী সংশোধন না হয়, তবে স্ত্রী শরিয়তের নির্ধারিত পদ্ধতিতে খুলা বা তালাকের আবেদন করতে পারে।"
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) মাআরিফুল কুরআন-এ সূরা আন-নিসার ৩৫ নম্বর আয়াতের তাফসিরে বলেন:
"দাম্পত্য জীবনে বিরোধ দেখা দিলে প্রথমে পরিবারের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। যদি তা ব্যর্থ হয়, তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।"
আপনার প্রশ্নের উত্তর:
এমতাবস্থায় স্ত্রীর করণীয়: ১. ধৈর্য ধরে দুআ করা এবং আল্লাহর কাছে স্বামীর সংশোধনের জন্য প্রার্থনা করা। ২. নরমভাবে বোঝানো—রাগ না করে, ভালোবাসার সাথে। ৩. পরিবারের বড়দের মাধ্যমে সালিশ করা। ৪. স্থানীয় ইমাম/মুফতির পরামর্শ নেওয়া। ৫. যদি স্বামী একেবারেই না বোঝে এবং নির্যাতন চলতে থাকে, তবে খুলা বা তালাকের আবেদন করা—তবে এটি শেষ উপায়।
মনে রাখবেন: তালাক দেওয়া বা নেওয়া ইসলামে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল কাজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল বিষয় হলো তালাক।"
— (সুনানে আবু দাউদ: ২১৭৮)
তাই তালাকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। তবে যদি স্বামী আপনার মৌলিক অধিকার (সম্মান, নিরাপত্তা, ভরণপোষণ) না দেয় এবং নির্যাতন করে, তবে শরিয়ত আপনাকে রক্ষা করার অধিকার দিয়েছে।
৩য় প্রশ্ন: ওয়েবসাইটে "Marriage and Divorce" ক্যাটাগরি সিলেক্ট করার সময় তালাক-ই-তাফবিজের অধিকারপ্রাপ্ত মহিলা যদি মনে মনে তালাকের নিয়ত করে, তবে কি তালাক হবে?
জবাবঃ- না,এক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা।