সুদের টাকা দিয়ে কাজের বুয়াকে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমি চাচ্ছি আমাদের কাজের বুয়াকে পারিশ্রমিক হিসেবে দিতে,মানে উনি কাজ করে দিলে মাসে মাসে এই টাকা দিয়ে দিবো উনাকে।
সুদের টাকা এভাবে কি পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে উনাকে?
Answer
সুদের টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে কি?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারীর ব্যাংকে জমাকৃত টাকার উপর প্রতি তিন মাস পরপর যে লাভ (সুদ) আসে, সেই সুদের টাকা দিয়ে কাজের বুয়াকে মাসিক পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি না — এটাই মূল প্রশ্ন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
না, সুদের টাকা দিয়ে কাজের বুয়াকে পারিশ্রমিক দেওয়া জায়েয নয়। কারণ সুদ হলো হারাম মাল, আর হারাম মাল দিয়ে কোনো বৈধ চুক্তির (ইজারাহ/পারিশ্রমিক) মূল্য পরিশোধ করা শরীয়তসম্মত নয়। তবে সুদের টাকা শুধু গরিব-মিসকিনদের মধ্যে সদকা হিসেবে বিলিয়ে দেওয়া জায়েয, সওয়াবের নিয়ত ছাড়া।
বিস্তারিত আলোচনা
১. সুদ (রিবা) হারাম — কুরআন ও হাদীসের দলিল
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৭৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও সাক্ষী — সকলের উপর লা'নত করেছেন। — (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৩৩৩)
২. সুদের টাকার হুকুম — হানাফী ফিকহের দৃষ্টিতে
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফতোয়ায় সুদের টাকাকে "খাবীস মাল" (অপবিত্র/নাপাক মাল) বলা হয়। এই মাল নিজের মালিকানায় রাখা বা ভোগ করা জায়েয নয়; বরং তা গরিব-মিসকিনদের মধ্যে সদকা করে দেওয়া কর্তব্য — তবে এতে সওয়াবের নিয়ত করা যাবে না, কারণ এটি হারাম মালের ফেরত।
আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) লিখেন:
"সুদের মাল মালিকের জন্য হালাল নয়; বরং তা ফকীর-মিসকিনদের উপর সদকা করা ওয়াজিব, সওয়াবের নিয়ত ছাড়া।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ১৬৮; কিতাবুল হাজার)
ফতোয়ায়ে আলমগীরী-তে আছে:
"সুদ গ্রহণ করা জায়েয নয়; আর যদি কেউ তা গ্রহণ করে, তবে তা সদকা করে দেবে, নিজে ভোগ করবে না।" — (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, খণ্ড ৩, পৃ. ২২৭)
৩. সুদের টাকা দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া কেন জায়েয নয়?
পারিশ্রমিক (ইজারাহ) একটি বৈধ মুআমালাত। বৈধ মুআমালাতের মূল্য/পারিশ্রমিক অবশ্যই পবিত্র ও হালাল মাল হতে হবে।
৪. তাহলে করণীয় কী?
১. সুদের টাকা আলাদা করে রাখুন — নিজের হালাল সম্পদের সাথে মিশিয়ে দেবেন না। ২. সুদের টাকা গরিব-মিসকিনদের মধ্যে সদকা করুন — সওয়াবের নিয়ত ছাড়া, শুধু দায়মুক্তির নিয়তে। ৩. কাজের বুয়াকে পারিশ্রমিক দিন আপনার হালাল আয় থেকে — ব্যবসার লাভ, বেতন, বা অন্য হালাল উৎস থেকে। ৪. যদি হালাল আয় দিয়ে পারিশ্রমিক দিতে কষ্ট হয়, তবে বুয়ার সাথে চুক্তি পুনর্বিবেচনা করুন বা তার কাজ কমিয়ে দিন — কিন্তু সুদের টাকা দিয়ে নয়।