হায়েজ কবে থেকে গণনা করবেন? সন্দেহের কারণে হালকা রক্ত দেখা গেলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে কি না?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6872
Questioner: No name
Question Asked: 13 Oct 2026, 11:10 PM
Reviewed & Published: 14 Oct 2026, 01:33 AM
Views: 11
Tokens: 3,653
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
০৮ তারিখে আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম। প্রশ্নটা ছিলো এমন যে, আমার ০৮ তারিখেই হায়েজের ডেট ছিলো। তো আমি লজ্জাস্থানের ভেতরে টিস্যু ঢুকাই এবং রক্ত দেখি হালকা। কিন্তু যেহেতু আমার সন্দেহ হচ্ছিলো যে সেটা হায়েজ এর রক্ত নাকি ভেতরে টিস্যু ঢুকানোর কারণে ক্ষত হওয়া স্থানের রক্ত। তাই আপনারা আমাকে বলেছিলেন লজ্জাস্থানের বাহিরে রক্ত আসা পর্যন্ত বা শিউর হওয়া পর্যন্ত ইবাদত চালিয়ে যেতে। তো ১১ তারিখ রাতে আমার একদম ঠিকঠাক হায়েজ শুরু হয়। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে আমি হায়েজ কবে থেকে গণনা করবো?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর: আপনার হায়েজের গণনা ১১ তারিখ রাত থেকে শুরু হবে, অর্থাৎ যে রাতে রক্ত স্পষ্টভাবে ও নিশ্চিতভাবে দেখা গেছে সেই সময় থেকে। ০৮ তারিখে টিস্যু ঢুকানোর কারণে যে হালকা রক্ত দেখা গিয়েছিল, তা যেহেতু হায়েজের রক্ত কি না তা নিশ্চিত ছিল না, বরং ক্ষতস্থানের রক্ত হওয়ার সন্দেহ ছিল, তাই সেটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না।

বিস্তারিত:

হায়েজের সময় নির্ধারণের মূলনীতি হলো—নিশ্চিতভাবে রক্ত দেখা যাওয়া। সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কিছু হায়েজ হিসেবে প্রমাণিত হয় না। ফিকহের একটি মূলনীতি হলো:

«الْأَصْلُ بَقَاءُ مَا كَانَ عَلَى مَا كَانَ»
অর্থাৎ মূল অবস্থা বহাল থাকে যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে পরিবর্তন প্রমাণিত হয়।

আরও একটি মূলনীতি:

«لَا يُنْسَبُ إِلَى السَّبَبِ إِلَّا بَعْدَ تَحَقُّقِهِ»
অর্থাৎ কোনো কারণের দিকে কিছুকে সম্বন্ধ করা যায় না যতক্ষণ না সেই কারণ নিশ্চিত হয়।

আপনার ক্ষেত্রে ০৮ তারিখে রক্ত দেখা গেলেও তা হায়েজের রক্ত কি না তা নিশ্চিত ছিল না; বরং টিস্যু ঢুকানোর কারণে ক্ষতস্থানের রক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই ০৮ তারিখকে হায়েজের শুরু ধরা যাবে না। ১১ তারিখ রাতে যখন স্পষ্টভাবে ও নিশ্চিতভাবে হায়েজ শুরু হয়, তখন থেকেই হায়েজের গণনা শুরু হবে।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

১. রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি)-এ আছে:

«وَلَا يَثْبُتُ الْحَيْضُ بِالشَّكِّ، بَلْ لَا بُدَّ مِنْ تَحَقُّقِ الدَّمِ»
(রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাত, বাবুল হায়েজ)

২. ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে:

«الْحَيْضُ لَا يَثْبُتُ إِلَّا بِدَمٍ مُتَيَقَّنٍ»
(ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুত তাহারাত)

৩. আল-হিদায়া-তে আছে:

«وَالْحَيْضُ هُوَ الدَّمُ الَّذِي يَخْرُجُ مِنْ رَحِمِ الْمَرْأَةِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَةٍ»
(আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত)

৪. ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি সাহেব বলেন:

«اگر خون کے حيض ہونے میں شک ہو تو وہ خون حيض شمار نہیں ہوگا، بلکہ جب یقین ہو جائے کہ یہ حیض کا خون ہے تو اسی وقت سے حیض شمار کیا جائے گا۔»

ইবাদতের বিধান: যেহেতু ০৮ তারিখ থেকে ১১ তারিখ রাত পর্যন্ত হায়েজ নিশ্চিত হয়নি, তাই এই সময়ের নামাজ-রোজা আপনি চালিয়ে গেছেন—তা সঠিক হয়েছে। ১১ তারিখ রাত থেকে হায়েজ শুরু হওয়ার পর থেকে আপনি হায়েজের বিধান পালন করবেন। হায়েজ শেষ হওয়ার পর গোসল করে ইবাদত পুনরায় শুরু করবেন।

মনে রাখবেন:

  • হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন ৩ রাত, সর্বোচ্চ ১০ দিন ১০ রাত (হানাফি মতে)।
  • যদি ১১ তারিখ রাত থেকে শুরু করে ১০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং গোসল করেন, তবে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।
  • যদি ১০ দিনের বেশি রক্ত আসে, তবে তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে এবং তখন নামাজ-রোজা চালিয়ে যেতে হবে।

আল্লাহ তা'আলা সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.