বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য অনলাইন ফতোয়া সাইট নির্ভরযোগ্য কি না?
Halal and Haram · Hanafi
Question
এই ওয়েবসাইট গুলো কি নির্ভরযোগ্য?
যেহেতু আমার পক্ষে স্থানীয় মুফতির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না বা চেনা পরিচিত কোন আলেমও নেই।
আমি ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত একই বিবরণ দেবার পর এই সব গুলো ওয়েবসাইট থেকে একই ফল পেয়েছি।সাক্ষাতে একজন মুফতির সাথে দেখা করলে বা ইফতা বিভাগে গেলে যা লিখিত দিতাম এগুলোতেও তাই দেওয়া হয়েছে।
https://ahlehaqmedia.com
https://islamishomadhan.org
https://subahsadiqfoundation.com
https://muslimbangla.com
https://rahmaniadhaka.com
https://fatwa.darulhidayah-porsha.com
https://assunnahfoundation.org
https://alikhlasonline.com
https://www.banuri.edu.pk/darulifta
https://darulifta-deoband.com/en
এই সব গুলো ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত বিচ্ছেদ বিষয়ক ফতওয়া যদি একই রকম হয় তবে কি এই ফতওয়ার আলোকে বৈবাহিক জীবন চালানো হালাল হবে?
Answer
প্রশ্ন: বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য অনলাইন ফতোয়া সাইটের ফতোয়ার উপর নির্ভর করা কি বৈধ?
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد:
উত্তর
উল্লেখিত ওয়েবসাইট গুলো থেকে প্রাপ্ত বিচ্ছেদ বিষয়ক ফতওয়া যদি একই রকম হয় তবে এই ফতওয়ার আলোকে বৈবাহিক জীবন চালানো হালাল হবে।
উল্লেখ্য, ফতোয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ওয়েবসাইটের নাম নয়, বরং ফতোয়া প্রদানকারীর যোগ্যতা (ইলম, তাকওয়া, হানাফি মাযহাবের সঠিক অনুসরণ) এবং ফতোয়ার সনদ যাচাই করা জরুরি।**
আপনি যদি একই ঘটনার বিবরণ দিয়ে একাধিক নির্ভরযোগ্য সাইট থেকে একই ফতোয়া পেয়ে থাকেন, এবং সেই ফতোয়াগুলো হানাফি ফিকহের মূল কিতাবসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ সেই ফতোয়ার উপর আমল করা জায়েজ হবে। তবে সতর্কতা হলো—অনলাইন ফতোয়া কখনো কখনো প্রেক্ষাপট (context) না বুঝে দেওয়া হয়, তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে (যেমন তালাক, বিচ্ছেদ, বংশ, মিরাস) অবশ্যই কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করা উচিত।
ফতোয়া গ্রহণের মূলনীতি
আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ "তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করো।" (সূরা আন-নাহল: ৪৩)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" (সহীহ বুখারী: ৭১)
ফতোয়া প্রদান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলতেন:
لَوْ عَلِمَ الْمُفْتِي أَنَّهُ يُقْتَلُ لَكَانَ أَهْوَنَ عَلَيْهِ مِنْ أَنْ يُفْتِيَ "মুফতি যদি জানত যে ফতোয়া দেওয়ার কারণে তাকে হত্যা করা হবে, তবুও তা তার জন্য ফতোয়া দেওয়ার চেয়ে সহজ হতো।" (তারিখে বাগদাদ, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৩৬৮)
অনলাইন ফতোয়ার হুকুম
ইসলামি ফিকহের মূলনীতি হলো—ফতোয়া গ্রহণের জন্য মুফতির আহলিয়্যাত (যোগ্যতা) ও সিকাহ (নির্ভরযোগ্যতা) থাকা আবশ্যক। ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮) এ উল্লেখ করেন:
وَيَجُوزُ الْعَمَلُ بِفَتْوَاهُ إِذَا كَانَ عَدْلًا ثِقَةً "নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত মুফতির ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা জায়েজ।"
অনলাইন ফতোয়া সাইটের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচ্য:
- ফতোয়া প্রদানকারীর পরিচয় ও যোগ্যতা — সাইটের পেছনে কে মুফতি আছেন, তার ইলমি সনদ কী?
- ফতোয়ার সনদ ও রেফারেন্স — ফতোয়ায় হানাফি কিতাবের রেফারেন্স আছে কি?