স্বামীর রাগের মধ্যে বলা তালাকের কথা, মিথ্যা ও হুমকি — এতে কি তালাক পতিত হবে?
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
এর পরে অনেক কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া চলতে থাকে। স্বামী বলেন, 'তোকে আর ভাত খেতে হবে না, তোর বাপের নাম্বার দে।' আমি আমার আব্বুর নাম্বার দেই। এর পরে উনি বলেন, '৬ মাস পরে বাকি দুইটা দিয়ে দিবো।' আমি বলি, 'আচ্ছা।' এর পরে ঝগড়া বাড়লে উনি আরও রেগে বলেন, 'বাকি দুইটা দিবো নাকি?' আমি বলি, 'রোজ রোজ হুমকি দেওয়া বার (বন্ধ) করবো আপনার।' উনি বলেন, 'তো নিয়ে নে।' আমি বলি, 'নিবো না।' পরে আবার জিজ্ঞাসা করেন, 'নিবি?' আমি বলি, 'আপনার ইচ্ছা।' এর পরে উনি বলেন, তুই নিবি না, কিন্তু আমি দিলে সমস্যা নাই, তাই তো?' আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকি।এবং উনি বলেন, 'তুই অফিশিয়ালি ব্যবস্থা কর ডিভোর্সের।' আমি বলি, আপনি করেন।' এর পরে বলি, 'আমাকে আর কল দিবেন না, অনেক সহ্য করেছি আর সহ্য হবে না।'এইসব কথা ফোনে মেসেজে হচ্ছিল, তখন বউ বাড়ির লোককে জানায় আর বলে যে, 'ঐ না রাখলে আমিও থাকব না, ভাত দিবে না তো খাইলাম না, সংসার করব না।' এতে কি ডিভোর্স হয়ে যাবে (নিয়ত ছাড়া বললে)?স্বামীর ডিভোর্সের হুমকির কারণে রেগে গিয়ে বলেছিল ,বউয়ের স্পষ্ট মনে নেই এইসব বলেছিলেন কিনা।
Answer
প্রশ্নের বিশ্লেষণ ও উত্তর
মূল বিষয়সমূহ চিহ্নিতকরণ
প্রশ্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে:
- স্ত্রীর ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ/মানসিক বাতিক) — বারবার স্বামীর অধিকার নিয়ে জিজ্ঞাসা করা
- স্বামীর মিথ্যা বলা — ভয় দেখানোর জন্য "তালাকের অধিকার দিয়েছি" বলা
- স্ত্রীর সন্দেহ প্রকাশ — "নিয়ত না করলে পাওয়ার দেওয়া হয় না"
- স্বামীর রাগের মধ্যে বিভিন্ন কথা — "ভাত খেতে হবে না", "বাপের নাম্বার দে", "৬ মাস পরে বাকি দুইটা দিবো", "বাকি দুইটা দিবো নাকি?", "অফিশিয়ালি ডিভোর্সের ব্যবস্থা কর"
- স্ত্রীর বাড়ির লোককে জানানো — "ঐ না রাখলে আমিও থাকব না"
- মূল প্রশ্ন — এতে কি তালাক হয়ে যাবে (নিয়ত ছাড়া বললে)?
জবাবঃ- প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা।
###তালাকের জন্য নিয়তের শর্ত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) এবং যা তারা মনে মনে বলে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা বলে বা করে।" — সহীহ বুখারী (৫২৬৯), সহীহ মুসলিম (১২৭)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং জোরপূর্বক কাজ থেকে (শাস্তি) উঠিয়ে নিয়েছেন।" — ইবনে মাজাহ (২০৪৫), সহীহ
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন: "তালাক একটি ইচ্ছাকৃত কাজ; নিয়ত ছাড়া তালাক সংঘটিত হয় না।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩৩/৯০)
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন: "তালাকের শব্দ যদি নিয়ত ছাড়া হয়, তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।" (ইগাসাতুল লাহফান, ১/৩৪৭)