স্বামী বিদেশে থাকলে স্ত্রী কি শ্বশুরবাড়িতে থাকতে বাধ্য?

Family Life · Hanafi

Question No: 6749
Questioner: Fahmida Habiba
Question Asked: 11 Oct 2026, 04:56 PM
Reviewed & Published: 11 Oct 2026, 05:25 PM
Views: 11
Tokens: 7,822
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার ৯ বছর চলে বিয়ের বয়স। সন্তান নাই,স্বামী প্রবাসে।ড. বলছে দীর্ঘদিন একসাথে থাকতে হবে ওর শুক্রানুর পরিমাণ কম।ওর ঋণ আছে তার সংসারের প্যারা সেই জন্য নাকি দেশে আসতে পারে না।ওর আর ভাই নেই।সে সারাদিন ফোন দিতে পারে না ওর কাজের প্রেসার। সে আমাকে মাসে ৪-৫ টাকা দেয়,কোন মাসে না চাইলে দিবে ও না। আমি তার বাবা মার সাথে থাকি।সে আমাকে কোথাও যেতে দেয় না,তার মা বাবার কষ্ট হবে আমি কোথাও গেলে।ওর টাকা পয়সা আমার শাশুড়ীর একাউন্টে দেয়,আমি অনেকক্ষেত্রে জানি ও না টাকা পয়সা ব্যাপারে৷ আমি কোথাও গেলে সে ফোন দেয় না, শ্বশুর শ্বাশুড়ি ছেলেকে বলে না দেশে আসার জন্য।আমার কাছে সে তার টাকা পয়সা দেয় না,আমার কাছে যা স্বর্ণ গয়না ছিল তাও বিক্রি করে ওকেই দিছি।আমার সারাদিন খুব একা একা লাগে। সে ফোন দিতে পারে, সে ব্যস্ততার অজুহাত দেখায়,আবার কোথায় গিয়ে থাকলেও সমস্যা, টাকাও হিসাব করে দেয়,।আমি তাকে বলছি যে আপনি দেশে চলে আসেন ৯ বছর হইছে সন্তান নাই আর কত।আমি বলি এসব জামাইদের জন্যই বউরা পরকিয়া করে।তার কথা হলো দেশে আসলে চলবে কিভাবে, সে বাড়ি কাজ শেষ করে হাতে কিছু টাকা নিয়ে তারপরেই আসবে। করে আসতে প্রায়১ বছর লাগবে।এইসব যুক্তি তো আমার ভালো লাগে না,।তার সাথে সংসার করা আমার আর সম্ভব পর হচ্ছে না।উল্লেখ্য সে নামাজ পড়ে আবার ৪০ দিনের চিল্লা ও লাগাইছে কয়েকবছর আগে।
আমার প্রশ্ন হলো স্বামী বিদেশ থাকা অবস্থায় তার মা বাবার সাথে থাকা কি ইসলামে স্ত্রি বাধ্য।সে দেশে আসলে তার সাবালক বোনকে তার শরীর মাথা ম্যাসাজ করায়, সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করে এগুলো কি জায়েজ হবে।
তার সাথে আমি তার সময় নষ্ট না করে বিচ্ছেদ করলে কি গোনাহ হবে।

Answer

প্রশ্নোত্তর: প্রবাসী স্বামীর সাথে দাম্পত্য জীবন ও বিচ্ছেদের বিধান

উত্তর: প্রথমেই বলে রাখি, এভাবে স্ত্রীর সন্তুষ্টি চিত্তে দেয়া সম্মতি ছাড়া স্বামীর জন্য বিদেশে চাকরি করা জায়েজ নেই।

নিচে আপনার প্রশ্নগুলোর ধারাবাহিক উত্তর দেওয়া হলো।


প্রথম প্রশ্ন: স্বামী বিদেশে থাকা অবস্থায় শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকা কি স্ত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক?

উত্তর: না, ইসলামে স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতে বাধ্য নয়। ইসলামে স্ত্রীর ভরণপোষণ (নফকা) ও আবাসনের দায়িত্ব স্বামীর। স্ত্রী স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের অধিকারী; তাকে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবার জন্য বাধ্য করা ইসলামে নেই।

তবে সদাচরণ ও সম্মান করা অবশ্যই কর্তব্য। কিন্তু স্বামী প্রবাসে থাকলে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকা বা না থাকা — এটি শরীয়তের বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সামাজিক ব্যবস্থা।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ৩, কিতাবুন নিকাহ — "নফকা ও আবাসন স্বামীর দায়িত্ব; স্ত্রীকে শ্বশুরালয়ে থাকতে বাধ্য করা যায় না।"


দ্বিতীয় প্রশ্ন: স্বামী দেশে এলে সাবালক বোনকে শরীর-মাথা ম্যাসাজ করানো এবং মাকে জড়িয়ে কোলাকুলি করা কি জায়েজ?

উত্তর: এখানে দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:

(ক) সাবালক বোনকে শরীর/মাথা ম্যাসাজ করানো:

  • না, জায়েজ নয়।

  • বিশেষত বিবাহিত ভাই-বোনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘনিষ্ঠতা ফিতনার আশঙ্কা তৈরি করে।

(খ) মাকে জড়িয়ে ধরা ও কোলাকুলি:

  • মায়ের সাথে স্নেহবশত কোলাকুলি করা জায়েজ তবে ফিতনার জামানা হওয়ায় অনেকে নিষেধ করেন।

তৃতীয় প্রশ্ন: স্বামীর সাথে সংসার করা সম্ভব না হলে বিচ্ছেদ করলে কি গোনাহ হবে?

উত্তর: ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদ জায়েজ, তবে এটি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক অপছন্দনীয় হালাল হিসেবে বর্ণিত।

হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল হলো তালাক।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ২০১৮

আপনার পরিস্থিতিতে করণীয়:

১. সরাসরি তালাক নয় — আগে সমাধানের চেষ্টা করুন:

  • স্বামীর সাথে সরাসরি কথা বলুন (ফোনে হলেও) — আপনার একাকীত্ব, সন্তানহীনতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের কথা স্পষ্টভাবে জানান।
  • পরিবারের বড়দের মাধ্যমে সালিশ করুন — উভয় পক্ষের সম্মানিত লোকদের নিয়ে।
  • প্রয়োজনে ইসলামিক কাউন্সেলিং করুন।

২. যদি সমাধান না হয়:

  • আপনি খুলা (বিচ্ছেদের প্রস্তাব) দিতে পারেন — অর্থাৎ স্বামীকে বলতে পারেন যে তিনি আপনাকে তালাক দেন বা খুলার মাধ্যমে বিচ্ছেদ হয়।
  • খুলা নেওয়ার সময় স্বামীকে দেওয়া স্বর্ণ/টাকা ফেরত দিতে হতে পারে — তবে সব ক্ষেত্রে নয়; শর্ত অনুযায়ী।

৩. গোনাহ হবে কি?

  • যদি প্রকৃত কারণ থাকে (যেমন: দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্নতা, নফকা না দেওয়া, মানসিক নির্যাতন, সন্তানহীনতা, স্বামীর অবহেলা) — তাহলে বিচ্ছেদে গোনাহ নেই, বরং এটি জায়েজ ও বৈধ।
  • তবে শুধু সাময়িক অভিমান বা ধৈর্যের অভাব থেকে তালাক চাইলে — এটি মাকরুহ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.