জিন কি মানুষের মনের কথা জানতে পারে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6745
Questioner: MD JOWEL
Question Asked: 11 Oct 2026, 12:37 PM
Reviewed & Published: 11 Oct 2026, 03:04 PM
Views: 14
Tokens: 4,233
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হুজুর আপনার কাছে একটি বিষয়ে সমাধান চাওয়ার জন্য নক।করে ছিলাম। জিন কি মানুষের মনের কাথা জানতে পারে আর জাদু কুফরি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। আর একজন ভাল রাকির সন্ধান চাচ্ছি। যে আমাকে ইসলামিক কাউন্সিলং দিতে পারবে।

Answer

জিন মানুষের মনের কথা জানতে পারে কি? জাদু-কুফরি ও রাকির সন্ধান প্রসঙ্গে

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ভূমিকা

আপনার প্রশ্ন তিনটি অংশে বিভক্ত: ১. জিন কি মানুষের মনের কথা জানতে পারে? ২. জাদু ও কুফরির সম্পর্ক কী? ৩. একজন ভালো রাকি (ইসলামিক কাউন্সেলর) কোথায় পাওয়া যাবে?

নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।


১. জিন কি মানুষের মনের কথা জানতে পারে?

কুরআনের দলিল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ "নিশ্চয়ই আমি আকাশে নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছি এবং দর্শকদের জন্য তা সুশোভিত করেছি।" (সূরা হিজর: ১৬)

إِلَّا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ مُبِينٌ "তবে যে চুরি করে কিছু শুনে নেয়, তার পিছনে ধাওয়া করে জ্বলন্ত অগ্নিশিখা।" (সূরা হিজর: ১৮)

আল্লাহ আরও বলেন:

وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا "আমরা আকাশ স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা কঠোর প্রহরী ও জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ডে পূর্ণ পেয়েছি।" (সূরা জিন: ৮)

হাদিসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

إِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَنْزِلُ فِي الْعَنَانِ... فَتَذْكُرُ الْأَمْرَ قُضِيَ فِي السَّمَاءِ، فَتَسْتَرِقُ الشَّيَاطِينُ السَّمْعَ فَتَسْمَعُهُ فَتُوحِيهِ إِلَى أَوْلِيَائِهَا "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা মেঘমালায় অবতীর্ণ হন... আসমানে যে ফয়সালা হয় তা আলোচনা করেন, তখন শয়তানরা চুরি করে তা শুনে নেয় এবং তা তাদের বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দেয়।" (সহিহ বুখারি: ৩২১০)

ফিকহি ব্যাখ্যা

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

"জিনেরা মানুষের অন্তরের গোপন কথা জানতে পারে না। তারা কেবল সেই সব কথা জানে যা মানুষ নিজে বলে বা করে। অন্তরের খবর একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন।"

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) তার "ফাতাওয়া উসমানি" গ্রন্থে বলেন:

"জিন বা শয়তান মানুষের মনের ভেতরের কথা জানতে পারে না। তবে তারা মানুষের সাথে থাকার কারণে তার প্রবণতা, অভ্যাস ও আচরণ সম্পর্কে ধারণা রাখে। এছাড়া তারা গোয়েন্দাগিরি করে কিছু তথ্য পেতে পারে, কিন্তু তা কখনোই নিশ্চিত জ্ঞান নয়।"

সারসংক্ষেপ: জিন মানুষের মনের গোপন কথা বা অন্তরের ভেতরের কিছু জানে না। তারা কেবল বাহ্যিক আচরণ ও কথাবার্তা থেকে অনুমান করতে পারে। আর এই অনুমানও অনেক সময় ভুল হয়। তাই কোনো জিন বা জ্যোতিষীর কথায় বিশ্বাস করা জায়েজ নয়।


২. জাদু ও কুফরির সম্পর্ক

কুরআনের দলিল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ "তারা শয়তানদের সেই মিথ্যা কথা অনুসরণ করল, যা তারা সুলাইমানের রাজত্বকালে পাঠ করত। সুলাইমান কুফরি করেনি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল; তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত।" (সূরা বাকারা: ১০২)

وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ "তারা দুজন (হারুত-মারুত) কাউকে শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না বলত: আমরা তো পরীক্ষা, তুমি কুফরি করো না।" (সূরা বাকারা: ১০২)

হাদিসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ... الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالسِّحْرُ "সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে বেঁচে থাকো... আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু করা..." (সহিহ বুখারি: ২৭৬৬)

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন:

مَنْ أَتَى عَرَّافًا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ "যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে তার কথা সত্য বলে বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মদের উপর অবতীর্ণ কিতাবকে অস্বীকার করল।" (মুসনাদে আহমাদ: ৯৫৩২)

হানাফি ফিকহের বিধান

ইমাম আল-হিদায়াহ গ্রন্থে বলা হয়েছে:

"জাদু করা কুফরি। আর যে ব্যক্তি জাদুকে হালাল মনে করে, সে কাফির।"

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" গ্রন্থে বলেন:

"জাদু শিক্ষা করা, শেখানো এবং তা দ্বারা কারো ক্ষতি করা—সবই হারাম ও কুফরি। তবে যদি কেউ জাদুকে বিশ্বাস না করে, শুধু বাতিল করার জন্য শেখে, তাহলে তা জায়েজ হতে পারে।"

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "মাআরিফুল কুরআন"-এ বলেন:

"জাদু মূলত শয়তানের সাথে সম্পর্কিত একটি কাজ। জাদুকারী শয়তানের সাহায্য নেয় এবং আল্লাহর সাথে শিরক করে। তাই জাদু করা ও জাদুকে বিশ্বাস করা উভয়ই কুফরি।"

সারসংক্ষেপ: জাদু করা, শেখানো, করানো এবং জাদুকে হালাল বা উপকারী মনে করা—সবই কুফরি ও হারাম। তবে জাদু বাতিল করার জন্য শেখা জায়েজ হতে পারে, যদি তাতে কুফরি না থাকে।


৩. ভালো রাকির সন্ধান ও ইসলামিক কাউন্সেলিং

রাকি কে?

রাকি হলো সেই ব্যক্তি যে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) করে। রুকইয়াহ করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো:

১. কুরআন, হাদিস বা আল্লাহর নাম দিয়ে হতে হবে। ২. আরবি বা বোধগম্য ভাষায় হতে হবে। ৩. বিশ্বাস করতে হবে যে আল্লাহই শিফা দেন, রুকইয়াহ নিজে কিছু করে না।

হাদিসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ "রুকইয়াহতে কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ না তাতে শিরক থাকে।" (সহিহ মুসলিম: ২২০০)

ভালো রাকির বৈশিষ্ট্য

একজন ভালো রাকির মধ্যে থাকবে:

  • কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান
  • তাওহিদে দৃঢ় বিশ্বাস
  • জাদু বা শিরক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত
  • কোনো জিন বা অলৌকিক শক্তির উপর নির্ভরশীল নয়
  • ইসলামিক কাউন্সেলিংয়ের যোগ্যতা

কোথায় পাবেন?

আপনার এলাকারা ও আশেপাশের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে আলোচনা করুন,তারা আপনাকে খোঁজ দিতে পারবেন,ইনশাআল্লাহ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.