স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে "জানাও, তালাক দিয়েছি কিনা জানাও" — তাহলে কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6702
Questioner: Amina Siddika
Question Asked: 10 Oct 2026, 08:44 PM
Reviewed & Published: 10 Oct 2026, 08:46 PM
Views: 19
Tokens: 2,812
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে জানাও তাড়াতাড়ি জানা তালাক দিছি কিনা জানাও তাহলে কি তালাক হবে

Answer

প্রশ্ন: স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে "জানাও, তাড়াতাড়ি জানাও, তালাক দিয়েছি কিনা জানাও" — তাহলে কি তালাক হবে?

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد:

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, শুধু এ ধরনের কথা বললে তালাক পতিত হবে না। কারণ এখানে স্বামী তালাক দেননি, বরং স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করছেন যে তিনি (স্ত্রী) জানেন কিনা যে স্বামী তালাক দিয়েছেন। এটি তালাকের ইঙ্গিত বা তালাকের সংবাদ জিজ্ঞাসা মাত্র — তালাক প্রদানের স্পষ্ট ঘোষণা নয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়: যদি স্বামী আগে কোথাও স্পষ্টভাবে তালাক দিয়ে থাকেন (যেমন বলেছেন "তোমাকে তালাক দিলাম" বা "তালাক"), তাহলে সেই তালাক কার্যকর হবে — এখন এই জিজ্ঞাসার কারণে নয়, বরং আগের ঘোষণার কারণে। আর যদি আগে কখনো তালাক না দিয়ে থাকেন, তাহলে শুধু "জানাও, তালাক দিয়েছি কিনা জানাও" বললে কোনো তালাক সংঘটিত হবে না।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. তালাক সংঘটিত হওয়ার শর্ত

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হতে হলে স্বামীর পক্ষ থেকে তালাকের স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ উচ্চারিত হতে হবে, যেমন:

  • "তোমাকে তালাক দিলাম"
  • "তালাক"
  • "তুমি তালাকপ্রাপ্তা" (أنت طالق)

অথবা কিনায়া (ইঙ্গিতবাহী) শব্দ — তবে কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত বা পরিস্থিতির প্রমাণ প্রয়োজন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ

"তালাক দুইবার। এরপর হয় যথাবিধি সংসার চালিয়ে যাওয়া, অথবা সদ্ভাবে বিদায় দান করা।" — (সূরা আল-বাকারা: ২২৯)

২. প্রশ্নবোধক বাক্য তালাক নয়

"তালাক দিয়েছি কিনা জানাও" — এটি একটি প্রশ্নবোধক/জিজ্ঞাসামূলক বাক্য। এতে তালাকের কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নেই, নেই কোনো কিনায়া শব্দও যা তালাকের দিকে ইঙ্গিত করে। তাই এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।

ফিকহি মূলনীতি (কায়েদা):

لا يقع الطلاق بالشك ولا بالاستفهام

"সন্দেহ দ্বারা এবং প্রশ্নবোধক বাক্য দ্বারা তালাক পতিত হয় না।"

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:

وَلَا يَقَعُ الطَّلَاقُ بِالشَّكِّ، وَالْأَصْلُ بَقَاءُ النِّكَاحِ

"সন্দেহ দ্বারা তালাক পতিত হয় না; মূলনীতি হলো বিবাহ বহাল থাকা।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক)

৩. যদি স্বামী আগে তালাক দিয়ে থাকে

যদি স্বামী আগে স্পষ্টভাবে তালাক দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই তালাক তখনই কার্যকর হয়েছে — এখন এই জিজ্ঞাসার কারণে নয়। আর যদি আগে তালাক না দিয়ে থাকেন, তাহলে এই বাক্য দ্বারা তালাক হবে না।

মনে রাখবেন: তালাক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ الطَّلَاقُ

"আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল বিষয় হলো তালাক।" — (সুনানে আবু দাউদ: ২১৭৮)

৪. করণীয়

  • যদি সত্যিই আগে তালাক দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং শরীয়তসম্মত পন্থায় বিচ্ছেদ সম্পন্ন করতে হবে।
  • যদি আগে তালাক না দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এই বাক্যের কারণে কোনো তালাক হয়নি — বিবাহ বহাল আছে।
  • সন্দেহ থাকলে স্থানীয় বিশ্বস্ত মুফতি/দারুল ইফতার সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন, কারণ তালাকের মাসআলায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও পূর্বের ঘটনা জানা জরুরি।

উপসংহার: শুধু "জানাও, তালাক দিয়েছি কিনা জানাও" বললে তালাক হবে না। তালাক সংঘটিত হয় স্পষ্ট ঘোষণা বা নিয়তসহ কিনায়া শব্দ দ্বারা।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.