অন্ডথলি বা লোমযুক্ত স্থান দেখলে কি হুরমত বা বৈবাহিক নিষিদ্ধতা সাব্যস্ত হয়?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
কোনো নারী যদি কোনো পুরুষের যোনাঙ্গ দন্ড বাদে অন্ডথলি এবং দন্ডের আশেপাশের লোমযুক্ত স্থান দেখে উত্তেজিত হয়ে যায় তাহলে কি হুরমত মুসহারাত সাব্যস্ত হবে? কেন না সে দন্ড বাদে অন্ডথলি এবং দন্ডের আশেপাশের লোমযুক্ত স্থান দেখেছে।
Answer
হুরমত মুসাহারাত: অন্ডথলি ও লোমযুক্ত স্থান দেখা প্রসঙ্গে
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব,
১. মূল শরয়ী সিদ্ধান্ত:
না, উক্ত দৃষ্টিপাতের দ্বারা হুরমতে মুসাহারা (বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে হারাম হওয়া) সাব্যস্ত হবে না।
যেহেতু উক্ত নারী পুরুষের মূল পুরুষাঙ্গ (দণ্ড) দেখেননি; বরং কেবল অণ্ডথলি এবং তার আশেপাশের স্থান দেখে উত্তেজিত হয়েছেন, তাই এর দ্বারা হুরমতে মুসাহারা বা বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হওয়ার কোনো ফিকহী প্রভাব সৃষ্টি হবে না।
২. ফিকহী প্রমাণ ও বিশদ ব্যাখ্যা:
-
ক) স্পর্শ ও দৃষ্টিপাতের ফিকহী পার্থক্যের মূলনীতি:
হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, কামভাব বা যৌন উত্তেজনাসহ বেগানা নারী-পুরুষ একে অপরের শরীরের যেকোনো অঙ্গ স্পর্শ করলে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু স্পর্শ ব্যতিত কেবল দৃষ্টিপাতের (দেখা) মাধ্যমে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হওয়ার বিধানটি কিয়াসের সাধারণ মূলনীতির ব্যতিক্রম একটি অতি-সতর্কতামূলক বিশেষ বিধান। -
খ) দৃষ্টিপাতের সুনির্দিষ্ট শরয়ী সীমা:
কিয়াসের সাধারণ মূলনীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেবল দৃষ্টিপাতের কারণে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ফুকাহায়ে কেরামের নিকট সুনির্দিষ্ট শর্ত হলো—সরাসরি মূল যৌনাঙ্গ/লজ্জাস্থান (নারীর ক্ষেত্রে ফারজে দাখেল এবং পুরুষ কর্তৃক দেখার ক্ষেত্রে বা নারী কর্তৃক পুরুষের ক্ষেত্রে মূল পুরুষাঙ্গ/দণ্ড) কামভাব সহকারে দেখতে হবে।আহকামুল কুরআনে আল্লামা ইমাম আবু বকর জাস্সাস (রহ.) স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন:
"শরীরের অন্যান্য অঙ্গের বিবেচনায় কিয়াসের দাবি হলো, দৃষ্টিপাতের কারণে হুরমাত সাব্যস্ত না হওয়া। কিন্তু এখানে আসার (সাহাবীদের আসার) ও সালাফের ঐক্যমতের কারণে কিয়াসের খেলাফ (ব্যতিক্রম বিধান) গ্রহণ করা হয়েছে। তাই মূল লজ্জাস্থান ছাড়া অন্যান্য অঙ্গের প্রতি কামভাবসহ দৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে সাধারণ কিয়াস অনুযায়ী হুরমত সাব্যস্ত হয় না।"
-
গ) অণ্ডথলি ও আশেপাশের স্থান দেখার হুকুম:
যেহেতু অণ্ডথলি বা নাভির নিচের লোমযুক্ত অঞ্চল সতরের অন্তর্ভুক্ত হলেও তা মূল পুরুষাঙ্গ (দণ্ড) নয়, তাই এগুলো কামভাব সহকারে দেখার দ্বারা বৈবাহিক হুরমত বা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হওয়ার কোনো ফিকহী অবকাশ নেই।
৩. সতরের বিধান ও তওবার বাধ্যবাধকতা:
যদিও এই দৃষ্টিপাতের কারণে কোনো বিবাহ ভাঙবে না বা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে না; তথাপি গায়রে মাহরাম পুরুষের সতর (নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ) দেখা এবং কামভাবসহ দৃষ্টিপাত করা শরীআতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গোনাহ (চোখের যিনা)। তাই উক্ত নারীকে এই অনৈতিক দৃষ্টিপাতের জন্য আল্লাহর দরবারে লজ্জিত হয়ে ইস্তেগফার ও আন্তরিক তওবা করতে হবে।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৪৭–১৪৮: (অধ্যায়: হুরমাতে মুসাহারাত, খ. যোনি অভ্যন্তরে/যৌনাঙ্গে দৃষ্টিপাত সংক্রান্ত ফিকহী মাসআলা — নারী কর্তৃক পুরুষের যৌনাঙ্গ দেখা এবং ইমাম জাস্সাস (রহ.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী মূল লজ্জাস্থান ব্যতিত অন্যান্য অঙ্গ দেখার দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত না হওয়া)।
২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৭–৩৯: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ২য় অনুচ্ছেদ: বৈবাহিক সম্পর্কের দরুন যে যে মহিলাকে বিবাহ করা হারাম — ৫ নম্বর মাসআলা: কামোদ্দীপনাসহ যৌনাঙ্গে দৃষ্টিপাতের সুনির্দিষ্ট ফিকহী শর্তাবলী)।
৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৭৪ & ১৭৬: (অধ্যায়: কিতাবুল হাযরি ওয়াল ইবাহাহ, বাবুল হিজাব — গায়রে মাহরামের সতর দেখা হারাম হওয়া এবং দৃষ্টিপাতের বিবিধ হুকুম)।
والله أعلم بالصواب