ঔষধ কোম্পানির লোকদেরও দেওয়া গিফট কী ব্যবহার করা যাবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6644
Questioner: Jannatul Nisa
Question Asked: 09 Oct 2026, 08:53 PM
Reviewed & Published: 09 Oct 2026, 09:08 PM
Views: 11
Tokens: 5,025
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার এক ভাই ঔষধ কোম্পানিতে চাকুরী করবো। তো ঔষধ কোম্পানির লোকদের কাছে অনেক গিফট আসে ডাক্তার, ফার্মেসীর লোকদের দেওয়ার জন্য। বেশির ভাগ গিফটই ডাক্তার দের দেওয়ার জন্য আসে।তো ওই ভাই অনেক অনেক গিফট নিজের রেখেছে, আত্মীয় ও আমাদেরও অনেক দিয়েছেন।

কিন্তু পরবর্তী ওনি চাকুরি ছেড়ে দেওয়ার পর আমি আইফতোয়া থেকে জানতে পারি এই গিফট গুলো নেওয়া জায়েজ না।
কিন্তু এতদিনে আমাদের কাছে অনেেক গিফট জমা হয়ে গেছে এবং ওই ভাইয়ের কাছেও অনেক গিফট আছে। এখন এত এত গিফট কী করবো? সমমূল্য সাদাকা করাতো ভূলেও সম্ভব না আমাদের পক্ষে। এইগুলো কী কাউকে দিয়ে দিবো নাকি নাকি নিজে ব্যবহার করতে পারবো যেহেতু আগে জানতাম না??

Answer

ঔষধ কোম্পানির গিফট ব্যবহারের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার ভাই ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে ডাক্তার ও ফার্মেসির লোকদের জন্য যে গিফট আসত, তা তিনি নিজে রেখেছেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েছেন। পরবর্তীতে চাকরি ছাড়ার পর জানতে পারেন যে এগুলো নেওয়া জায়েজ ছিল না। এখন এই গিফটগুলো কী করবেন?


ফিকহি বিশ্লেষণ

১. গিফটের মালিকানা কার?

ঔষধ কোম্পানি যে গিফট পাঠায়, তা ডাক্তার ও ফার্মেসির লোকদের জন্য নির্ধারিত থাকে। কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে আপনার ভাই শুধু বিতরণকারী (আমিন/ওয়াকিল) ছিলেন, মালিক নন। সুতরাং তিনি নিজে রাখলে বা অন্যকে দিলে তা আমানতের খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) এবং গাসব (অন্যায়ভাবে অন্যের মাল দখল) হিসেবে গণ্য হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দেন আমানতসমূহ তার প্রাপ্য অধিকারীর কাছে ফিরিয়ে দিতে।" — (সূরা নিসা: ৫৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

مَنْ غَلَّ فَلَيْسَ مِنِّي

"যে ব্যক্তি (আমানতের মাল থেকে) আত্মসাৎ করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৪)

২. অজ্ঞতার কারণে কি মাফ হবে?

না। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, জাহালত (অজ্ঞতা) হারাম মালের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে না। তবে অজ্ঞতা একটি ওজর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যার ফলে গুনাহ কম হতে পারে, কিন্তু মাল ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব থেকে মুক্তি নেই।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

وَالْجَهْلُ لَا يُسْقِطُ الْحَقَّ

"অজ্ঞতা হক (অধিকার) বাতিল করে না।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৪, পৃ. ১৪২)


এখন কী করবেন? — সমাধান

সমাধান ১: মূল মালিককে ফেরত দেওয়া (সর্বোত্তম)

যদি সম্ভব হয়, তবে কোম্পানির কাছে বা যাদের জন্য গিফট ছিল (ডাক্তার/ফার্মেসি) তাদের কাছে ফেরত দেওয়া। তবে বাস্তবে এটি প্রায় অসম্ভব, কারণ:

  • কে কোন গিফট পাবে তা নির্দিষ্ট ছিল না
  • অনেক সময় পার হয়ে গেছে
  • প্রাপকদের চিহ্নিত করা কঠিন

সমাধান ২: সমমূল্য সাদাকা করা অথবা গিফট গুলো গরিব মিসকিনদের মাঝে সদকাহ করে দেয়া।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.