সুদ-ভিত্তিক ব্যাংকের আয় থেকে আনা খাবার হালাল না হারাম?
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমার রুমমেটের বাবা একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। আর তার বোন একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কথায় কথায় জানতে পেরেছি, তার বাবা ও বোনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে জমা হয় এবং সেখান থেকে তাঁদের পরিবারের খরচ চলে।
এখন আমার প্রশ্ন হলো, তার বাবা যেহেতু ব্যাংকে চাকরি করতেন, তাই তাঁর আয়ের মধ্যে সুদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এ অবস্থায় তাঁর মেয়ে আমাকে কোনো খাবার খেতে দিলে, সেই খাবার আমার জন্য হালাল হবে কি? যেহেতু তার বোনেরও বৈধ চাকরির আয় রয়েছে এবং তাঁদের টাকা একসঙ্গে জমা হয়, তাই এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী?
আর যদি সেই খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা আমার জন্য আবশ্যক হয়, তাহলে কীভাবে হিকমাহর সঙ্গে তাকে কষ্ট না দিয়ে বিষয়টি সামলাতে পারি? সে মাঝে মাঝে খুব জোরাজুরি করে, ফলে না খেয়ে থাকা কঠিন হয়ে যায়। আর যদি কখনো তার মন রাখতে খাবার নিয়ে পরে লুকিয়ে ফেলে দিই, তাহলে কি আমি গুনাহগার হব?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
** উত্তর:** আপনার রুমমেটের বাবার ব্যাংকের বেতন আর তার বোনের বেতন যাহা একসঙ্গে জমা হয়,এর মধ্যে কার টাকা বেশি?
যদি তার বোনের বেতন বেশি হয়,সেক্ষেত্রে আপনার রুমমেটের দেয়া খাবার আপনি খেতে পারবেন।
অন্যথায় সেই খাবার খাওয়া জায়েজ হবেনা। খাবার যদি অগত্যা নিতেই হয়,সেক্ষেত্রে ফেলে না দিয়ে কোনো গরিব মিসকিনকে দিয়ে দিবেন।
হিকমাহর সাথে বিষয়টি সামলানোর উপায়:
- সরাসরি "তোমার বাবার আয় হারাম, তাই খাব না" বলে তাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়। এটি সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।
- বরং নরমভাবে বলুন: "আমি এখন পেট ভরা, পরে খাব" বা "আমার আজ একটু অসুস্থ লাগছে, তাই এখন খেতে ইচ্ছা করছে না।"
- যদি জোরাজুরি করে, তবে অল্প পরিমাণে খেয়ে নিন (যেহেতু তা জায়েয), অথবা বিনয়ের সাথে বলুন: "তোমার ভালোবাসা আমি বুঝি, কিন্তু আমার আজ খেতে ইচ্ছা করছে না।"
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)
সুদ-ভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করা—বিশেষত সুদের লেনদেনে সরাসরি জড়িত থাকা—হারাম। তবে যদি কেউ এমন পদে থাকে যেখানে সুদের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই (যেমন: নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, সাধারণ হিসাবরক্ষণ যেখানে সুদের হিসাব নেই), তবে কিছু ফকিহ সেটাকে জায়েয বলেছেন।