রোজা ও নাপাকি সম্পর্কে
Taharah Purity · Hanafi
Question
২। গোসলের ১ ঘন্টা পর আন্ডারওয়ার ভেজা দেখতে পাই। এটা সাদা স্রাব কি না বুঝতেছি না। যদি সাদা স্রাব হয় আর স্রাবে আন্ডারওয়ার কিছুটা ভিজা গেলেও পায়জামাতে স্রাব লাগছে কি না বুজতেছি না। এ অবস্থায় পায়জামাতে কি পাক নাকি নাপাক ধরবো?
Answer
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব
১ম প্রশ্নের উত্তর: হালকা ভেজা টিস্যু লজ্জাস্থানে প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে কি না?
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত:
রোজা রাখা অবস্থায় যদি হালকা ভেজা বা সিক্ত টিস্যু/বস্তু/আঙুল মহিলাদের লজ্জাস্থানের ভেতরের অংশে (ফারজে দাখেল-এ) প্রবেশ করানো হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। এ অবস্থায় পরবর্তীতে ওই দিনের রোজার কাযা আদায় করা ওয়াজিব হবে (তবে কাফফারা দেওয়া লাগবে না)। -
ফিকহী কারণ ও বিশদ ব্যাখ্যা:
ফিকহে হানাফীর মূলনীতি অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় কোনো সম্পূর্ণ শুকনো বস্তু যদি লজ্জাস্থানে প্রবেশ করানো হয় এবং তা ভেতরে অবস্থান না করে বাইরে বের করে আনা হয়, তবে রোজা ভেঙে যায় না । কিন্তু প্রবিষ্ট বস্তু বা টিস্যুটি যদি সিক্ত বা ভেজা থাকে (চাই তা থেকে চিপে পানি বের হোক বা না হোক), তবে সেই আর্দ্রতা ও সিক্ততা ভেতরে প্রবেশ করার কারণে অকাট্যভাবে রোজা ভেঙে যায়।
২য় প্রশ্নের উত্তর: পায়জামাতে স্রাব লেগেছে কি না সন্দেহ হলে তা পাক না নাপাক ধরা হবে?
- শরয়ী সিদ্ধান্ত:
এ অবস্থায় আপনি আপনার পায়জামাকে সম্পূর্ণ পবিত্র (পাক) হিসেবেই গণ্য করবেন । কেবল সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে পায়জামা নাপাক হবে না ফিকহী কারণ ও বিশদ ব্যাখ্যা:
১. সাদা স্রাবের শরয়ী মর্যাদা: মহিলাদের শরীর থেকে নির্গত স্বাভাবিক সাদা স্রাব (রতুবাতে ফারজ) যদি রক্ত, পুঁজ বা কোনো রোগের জীবাণুমুক্ত হয়, তবে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (রাজেহ) ফতোয়া অনুযায়ী তা মৌলিকভাবে পবিত্র।
২. সন্দেহের কারণে নাপাক না হওয়া: ইসলামি ফিকহের অকাট্য মূলনীতি হলো— "اليقين لا يزول بالشك" (নিশ্চয়তা কেবল সন্দেহের দ্বারা বিলুপ্ত হয় না)। আপনি আন্ডারওয়্যার কিছুটা ভেজা দেখতে পেলেও পায়জামাতে স্রাব লেগেছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। শরীআতের নিয়ম হলো, কোনো পোশাকে নাপাকি লাগার ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকা পর্যন্ত তা নাপাক ধরা যায় না। এটি মূলত শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা অহেতুক সংশয়, যা পুরোপুরি উপেক্ষা করা ওয়াজিব।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:
- ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৩: (অধ্যায়: কিতাবুছ ছওম, পরিচ্ছেদ: বাব মা ইউফসিদুছ ছওম — রোজা অবস্থায় লজ্জাস্থানে শুকনো বস্তু বা আঙুল প্রবেশ করালে রোজা না ভাঙা, কিন্তু সিক্ত/ভেজা বস্তু প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাওয়া ও কাযা ওয়াজিব হওয়ার ফতোয়া)।
- ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৮: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, পরিচ্ছেদ: কাপড়ে নাপাকি লাগার সন্দেহ — "شک سے کپڑا ناپاک نہیں ہوتا" অর্থাৎ কেবল সন্দেহের বশে কাপড় নাপাক না হওয়ার মাসআলা)।
২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২০৩: (অধ্যায়: কিতাবুছ ছওম, ৪র্থ অনুচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ — ফারজে দাখেলে সিক্ত বস্তু প্রবিষ্ট হওয়ার ফিকহী বিধান)।
- পৃষ্ঠা: ১৬৪: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: সতরের কাপড় ও নাপাকির সন্দেহ — পোশাকে নাপাকি লাগার নিশ্চিত প্রমাণ না থাকলে তা পাক থাকার ফায়সালা)।
৩. দরসুল ফিকহ:
- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৯, ২৩১ & ২৩৬: (অধ্যায়: কিতাবুছ ছওম — রোজা ভঙ্গের সাধারণ মূলনীতি এবং অভ্যন্তরে বস্তু স্থির হওয়া ও সিক্ততার প্রভাব)।
- ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৬–৮৭: (অধ্যায়: তাহারাত ও পবিত্রতার মূলনীতি — দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়া অহেতুক সন্দেহে কাপড় অপবিত্র না গণ্য করার নির্দেশ)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।