সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের চাকরি ও সুদি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান কী?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6562
Questioner: Akib
Question Asked: 08 Oct 2026, 08:10 AM
Reviewed & Published: 08 Oct 2026, 08:24 AM
Views: 15
Tokens: 3,931
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নামে সরকারী জব এ একটা পোস্ট আছে। এই পোস্ট এর কাজ হলো যুবকদের দেয়া বিভিন্ন ট্রেনিং সহায়তা করা,যুবকদের কাউন্সেলিং করা ইটিসি। এর পাশাপাশি এই পোস্ট এর আরও একটি কাজ হলো বেকারদে স্বল্প সুদে ঋন দেয়া আর ঋন দেয়ার পর তা কিস্তি আকারে তুলতে হয়।আমার প্রশ্ন হল এই জব এ চাকরি করা কি জায়েজ??
চাকরী করলে ও বেতন কি হালাল নাকী হারাম হবে??

Answer

উত্তর (ফতোয়া)

সংক্ষিপ্ত উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত পদের মূল দায়িত্ব যদি যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, কাউন্সেলিং, দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি হয় এবং সুদি ঋণ বিতরণ ও আদায় তার গৌণ বা আনুষঙ্গিক দায়িত্ব হয়—তবে শর্তসহ এই চাকরি করা জায়েজ।

এক্ষেত্রে যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, কাউন্সেলিং, দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি কাজের বেতন হালাল হবে।

আর সুদি ঋণ বিতরণ, সুদ আদায়, সুদের হিসাব সংরক্ষণ বা সুদি চুক্তি সম্পাদনের কাজ করার বেতন হারাম হবে।

তবে সুদি ঋণ বিতরণ, সুদ আদায়, সুদের হিসাব সংরক্ষণ বা সুদি চুক্তি সম্পাদনে সরাসরি অংশগ্রহণ করা কোনো ক্রমেই জায়েজ নয়।

আর যদি পদের মূল ও প্রধান দায়িত্বই হয় সুদি ঋণ বিতরণ ও সুদ আদায় করা, তাহলে এই চাকরি করা কোনোক্রমেই জায়েজ নয় এবং এ থেকে প্রাপ্ত বেতনও হালাল হবে না।


বিস্তারিত:

১. সুদ (রিবা) হারাম হওয়ার দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও।" (সূরা বাকারা: ২৭৮)

২. সুদি লেনদেনে সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ: রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়ানো, খাওয়ানো, লেখক ও সাক্ষী—সবাইকে লানত করেছেন।

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ "রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও তার দুই সাক্ষীর উপর লানত করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান (গুনাহগার)।" (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮; সুনানে আবু দাউদ: ৩৩৩৩)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)

৩. হানাফি ফিকহের প্রয়োগ: ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন, সুদি লেনদেনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করা কবিরা গুনাহ। (রাদ্দুল মুহতার: ৫/১৬৬)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে বলেন—

"সুদি ব্যাংক বা সুদি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা তখনই জায়েজ, যখন চাকরির দায়িত্ব সুদি লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়। আর যদি চাকরির মূল কাজই সুদি লেনদেন হয়, তবে তা জায়েজ নয়।" (ফাতাওয়া উসমানি: ৩/৪৪৫)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «ইমদাদুল ফাতাওয়া»-তে বলেন—

"যে চাকরির মূল দায়িত্ব হারাম কাজ সম্পাদন করা, সেই চাকরি করা জায়েজ নয় এবং তার বেতনও হালাল নয়।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/৩২২)

৪. প্রশ্নের প্রয়োগ:

  • যদি আপনার পদের মূল কাজ হয় যুবকদের প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং, প্রকল্প বাস্তবায়ন—এবং সুদি ঋণ বিতরণ শুধু আনুষঙ্গিক হয়, তবে:
    • সুদি ঋণ বিতরণ, সুদ আদায়, সুদের হিসাব লেখা ইত্যাদি কাজ নিজে করা যাবে না।
    • সম্ভব হলে সেই অংশ অন্য কারো মাধ্যমে করানো বা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
    • এ অবস্থায় চাকরি করা ও বেতন গ্রহণ করা জায়েজ।
  • আর যদি পদের মূল দায়িত্বই হয় সুদি ঋণ বিতরণ ও সুদ আদায় করা, তবে:
    • এই চাকরি করা জায়েজ নয়।
    • এ থেকে প্রাপ্ত বেতন হালাল হবে না।
    • সম্ভব হলে অন্য হালাল পেশায় চলে যাওয়া কর্তব্য।

৫. পরামর্শ:

  • আপনার নিয়োগপত্র ও দায়িত্বের তালিকা ভালোভাবে দেখে নিন।
  • যদি সুদি ঋণ বিতরণ আপনার মূল দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার চেষ্টা করুন।
  • সম্ভব না হলে, দ্বীনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিকল্প হালাল চাকরির সন্ধান করুন।
  • আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন; তিনি হালাল রুজির ব্যবস্থা করবেন।

وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করে না।" (সূরা তালাক: ২-৩)

উপসংহারঃ প্রশ্নে উল্লিখিত পদের মূল দায়িত্ব যদি যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, কাউন্সেলিং, দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি হয় এবং সুদি ঋণ বিতরণ ও আদায় তার গৌণ বা আনুষঙ্গিক দায়িত্ব হয়—তবে শর্তসহ এই চাকরি করা জায়েজ।

এক্ষেত্রে যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, কাউন্সেলিং, দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি কাজের বেতন হালাল হবে।

আর সুদি ঋণ বিতরণ, সুদ আদায়, সুদের হিসাব সংরক্ষণ বা সুদি চুক্তি সম্পাদনের কাজ করার বেতন হারাম হবে।

তবে সুদি ঋণ বিতরণ, সুদ আদায়, সুদের হিসাব সংরক্ষণ বা সুদি চুক্তি সম্পাদনে সরাসরি অংশগ্রহণ করা কোনো ক্রমেই জায়েজ নয়।

আর যদি পদের মূল ও প্রধান দায়িত্বই হয় সুদি ঋণ বিতরণ ও সুদ আদায় করা, তাহলে এই চাকরি করা কোনোক্রমেই জায়েজ নয় এবং এ থেকে প্রাপ্ত বেতনও হালাল হবে না।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.