গাড়ি ব্যবসায় ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ: মাসিক নির্দিষ্ট ১০,০০০ টাকা নিলে তা সুদ হবে । এবং ৭০%-৩০% লাভ-লোকসান অনুপাতে মুদারাবা করলে তা কি শরীয়াহসম্মত হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6529
Questioner: Ammatullah Ayesha205
Question Asked: 07 Oct 2026, 05:27 PM
Reviewed & Published: 07 Oct 2026, 09:46 PM
Views: 27
Tokens: 5,959
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোন ব্যক্তির বড় গাড়ির ব্যবসা আছে। সেখানে অনেকে ব্যক্তির টাকা একসাথে করে বড় গাড়ি কিনা হয়। এখান এখন একজন মহিলা ৫ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করতে চান। এখন ওই গাড়ি ব্যবসায়ের লোকেরা বলেছেন দুইভাবে টাকা দিতে পারবে।
প্রথম পদ্ধতিতে
৫ লক্ষ টাকা দিলে তারা মহিলাকে ব্যবসায়ে লাভ কিংবা লস হউক মাসে ১০০০০ টাকা দিবেন।
এতে কী এটা সুদ হবে ?
দ্বিতীয় পদ্ধতি
মহিলা ৫ লক্ষ টাকা দিলে তাকে মাসে ৭০% লাভ দিবে । সেই গাড়ি ব্যবসা ওয়ালা ৩০% লাভ নিবে। আবার যদি লস হয় ব্যবসায়ে মহিলা এবং গাড়ি ব্যবসা ওয়ালা দুজনই ক্ষতি বহন করবে এবং বেশি লাভ হলে লাভ ৭০% ই থাকবে।
এখন এই পদ্ধতিতে কী সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে
কোন পদ্ধতিতে মহিলা টাকা ইনভেস্ট করলে তা শরীয়াহ পদ্ধতিতে জায়েজ হবে ইনশাআল্লাহ জানাবেন?

Answer

প্রশ্নের বিশ্লেষণ ও শরীয়াহ সমাধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
একজন মহিলা একটি গাড়ি ব্যবসায় ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে চান। ব্যবসায়ীরা দুইটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেছেন:

  1. প্রথম পদ্ধতি: লাভ-লোকসান যাই হোক, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ১০,০০০ টাকা দেওয়া হবে।
  2. দ্বিতীয় পদ্ধতি: মাসিক লাভের ৭০% মহিলা পাবেন, ৩০% গাড়ি ব্যবসায়ী নেবেন। লোকসান হলে উভয়ে অনুপাতে বহন করবেন। তবে লাভ বেশি হলেও মহিলার অংশ ৭০%-ই থাকবে।

প্রথম পদ্ধতির বিধান: এটা সুদ (রিবা) — সম্পূর্ণ হারাম

প্রথম পদ্ধতিতে যেহেতু লাভ হোক বা লোকসান হোক, নির্দিষ্ট পরিমাণ (১০,০০০ টাকা) মাসিক দেওয়ার শর্ত করা হয়েছে, তাই এটি সুদ। কারণ সুদের সংজ্ঞা হলো: মূলধনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা, যেখানে লাভ-লোকসানের ঝুঁকি বহন করা হয় না।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا فَهُوَ رِبًا "প্রত্যেক এমন ঋণ, যা উপকার টেনে আনে, তা সুদ।" (বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা; ইবনু আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার: ৫/১৬৬)

সিদ্ধান্ত: প্রথম পদ্ধতি সম্পূর্ণ নাজায়েজ। এতে টাকা বিনিয়োগ করা হারাম।


দ্বিতীয় পদ্ধতির বিধান: এটাই শরীয়াহসম্মত মুদারাবা

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে যেহেতু:

  • লাভের অনুপাত নির্দিষ্ট (৭০%-৩০%) করা হয়েছে,
  • লোকসান হলে উভয়ে অনুপাতে বহন করবেন,
  • নির্দিষ্ট কোনো মাসিক টাকা ধার্য করা হয়নি,

তাই এটি মুদারাবা (শরিকত) এর অন্তর্ভুক্ত, যা শরীয়াহসম্মত। এতে সুদ নেই।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللَّهِ "আর অন্যরা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে জমিনে ভ্রমণ করে (ব্যবসা করে)।" (সূরা আল-মুযযাম্মিল: ২০)

মুদারাবার মূলনীতি হলো: মূলধন প্রদানকারী (রাব্বুল মাল) ও শ্রমদানকারী (মুদারিব) লাভের একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে শরিক হবে; আর লোকসান হলে মূলধন প্রদানকারী আর্থিক ক্ষতি বহন করবেন এবং শ্রমদানকারী তার শ্রমের ক্ষতি বহন করবেন। তবে এখানে প্রশ্নে বলা হয়েছে "দুজনই ক্ষতি বহন করবে" — এটা যদি অর্থায়নে উভয়ে অংশীদার হওয়া বোঝায় (অর্থাৎ মহিলা ৫ লক্ষ দিচ্ছেন, ব্যবসায়ীও নিজের পুঁজি বিনিয়োগ করছেন), তাহলে এটি শিরকাতুল ইনান বা মুদারাবা উভয়ই হতে পারে এবং উভয়ই জায়েজ।

তবে শর্তগুলো লক্ষণীয়:

  1. লাভের অনুপাত স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হতে হবে (৭০%-৩০% — এটা স্পষ্ট)।
  2. লোকসানের ক্ষেত্রে কে কীভাবে বহন করবেন, তা স্পষ্ট হতে হবে। যদি উভয়ে নিজ নিজ পুঁজির অনুপাতে ক্ষতি বহন করেন, তবে তা জায়েজ। আর যদি মহিলার ৫ লক্ষ টাকার ওপর ক্ষতি ধরা হয় এবং ব্যবসায়ীর পুঁজির ওপরও ক্ষতি ধরা হয়, তবে তা-ও জায়েজ।
  3. সতর্কতা: যদি "লোকসান হলে দুজনই ক্ষতি বহন করবে" এর অর্থ হয় যে মহিলার ৫ লক্ষ টাকার ওপর ক্ষতি হবে এবং ব্যবসায়ী তার শ্রমের ক্ষতি ছাড়া আর্থিক ক্ষতিতে শরিক হবেন — কিন্তু ব্যবসায়ীর নিজের কোনো পুঁজি না থাকে — তাহলে মুদারাবার নিয়ম হলো: লোকসান শুধু মূলধন প্রদানকারী (মহিলা) বহন করবেন, মুদারিব (ব্যবসায়ী) শুধু তার শ্রম হারাবেন। এক্ষেত্রে "দুজনই ক্ষতি বহন করবে" বলাটা মুদারাবার মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যদি না ব্যবসায়ীও নিজের পুঁজি বিনিয়োগ করেন।

সুতরাং: যদি ব্যবসায়ী নিজেও পুঁজি বিনিয়োগ করেন (অর্থাৎ উভয়ে শরিক), তবে দ্বিতীয় পদ্ধতি জায়েজ। আর যদি ব্যবসায়ী শুধু শ্রম দেন এবং মহিলা শুধু পুঁজি দেন, তবে মুদারাবা হিসেবে জায়েজ, তবে লোকসানের শর্তটি সঠিকভাবে বোঝাতে হবে — অর্থাৎ লোকসান মহিলার পুঁজির ওপরই হবে, ব্যবসায়ী তার শ্রম হারাবেন।


কোন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ জায়েজ?

| পদ্ধতি | বিধান | কারণ | |---------|--------|------| | প্রথম পদ্ধতি (নির্দিষ্ট মাসিক ১০,০০০ টাকা) | হারাম (সুদ) | লাভ-লোকসানের ঝুঁকি নেই, নির্দিষ্ট মুনাফা শর্ত করা হয়েছে | | দ্বিতীয় পদ্ধতি (৭০%-৩০% লাভ-লোকসান অনুপাত) | জায়েজ (মুদারাবা/শিরকাত) | লাভ-লোকসানের ঝুঁকি উভয়ে বহন করছেন, অনুপাত নির্দিষ্ট |

উত্তর: দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা শরীয়াহসম্মত, ইনশাআল্লাহ জায়েজ হবে। প্রথম পদ্ধতি সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও সুদ।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  1. চুক্তিপত্র লিখিতভাবে করুন: মুদারাবা বা শিরকাতের চুক্তি লিখিতভাবে করা উত্তম, যাতে পরবর্তীতে কোনো বিরোধ না হয়।
  2. লোকসানের শর্ত স্পষ্ট করুন: যদি ব্যবসায়ী নিজের পুঁজি বিনিয়োগ না করেন, তবে লোকসান শুধু মহিলার পুঁজির ওপর হবে; ব্যবসায়ী তার শ্রম হারাবেন। "দুজনই ক্ষতি বহন করবে" — এই কথাটি মুদারাবার ক্ষেত্রে সঠিক নয়, যদি না ব্যবসায়ীও পুঁজি বিনিয়োগ করেন।
  3. সন্দেহ হলে মুফতি সাহেবের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন: কারণ বাস্তব ক্ষেত্রে চুক্তির সূক্ষ্ম দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপ

  • প্রথম পদ্ধতি: সুদ — হারাম, নাজায়েজ।
  • দ্বিতীয় পদ্ধতি: মুদারাবা/শিরকাত — জায়েজ, তবে লোকসানের শর্ত সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
  • সর্বোত্তম: দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা, ইনশাআল্লাহ জায়েজ হবে।

আরবি দলিল

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَنْ أَسْلَفَ فِي شَيْءٍ فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ (বুখারী, মুসলিম)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ الْمَدِينَةَ وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثِّمَارِ السَّنَةَ وَالسَّنَتَيْنِ، فَقَالَ: مَنْ أَسْلَفَ فِي شَيْءٍ فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ (বুখারী: ২২৪০)

وَفِي الْمُدَارَبَةِ: الْمُضَارَبَةُ جَائِزَةٌ بِالْإِجْمَاعِ (আল-হিদায়া, কিতাবুল মুদারাবা)

وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ لِلْمُضَارِبِ رِبْحٌ مَعْلُومٌ، بَلْ يَكُونُ بِحِصَّةٍ مِنَ الرِّبْحِ (রাদ্দুল মুহতার: ৫/৬৬৬)

كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا فَهُوَ رِبًا (ইবনু আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার: ৫/১৬৬)


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.