জমি দায়সুধি

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6495
Questioner: Md Rasel
Question Asked: 06 Oct 2026, 08:32 PM
Reviewed & Published: 06 Oct 2026, 09:16 PM
Views: 11
Tokens: 4,498
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন অতি দরিদ্র পরিবারের মানুষ। আমার হঠাৎ কিছু অর্থের দরকার ,আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেস্টা করেছি মানুষের কাছে টাকা হাওলাত করার জন্য,কিন্তু কাজ হয়নি। এখন আমার জমি দায় সুধি রেখে কি টাকা আনা আমার জন্য হালাল হবে?দয়া করে আমাকে জানাবেন রেফারেন্স সহ।

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব,

১. মূল শরয়ী সিদ্ধান্ত:

জমি 'দায় সুধি' (সুদী বন্ধক) রেখে বা সুদে টাকা আনা ইসলামি শরীআতে অকাট্যভাবে হারাম ও নাজায়েয [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯, ২৮৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯২, ৯৩]।

শত দারিদ্র্য বা পারিবারিক অভাব-অনটনের অজুহাতেও সুদী কারবার করা বা সুদে ঋণ গ্রহণ করা হালাল হয় না [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৮৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৪]।


২. ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:

১. সুদের সর্বজনীন সংজ্ঞা (كل قرض جر نفعا فهو ربا):
হাদীস ও ফিকহের সর্বসম্মত মূলনীতি হলো— "যে ঋণ কোনো প্রকার অতিরিক্ত লাভ বা সুবিধা সংগ্রহ করে দেয়, তা-ই সুদ (রিবা)" [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৯৪; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৪]। জমি বন্ধক রেখে সুদে টাকা নেওয়া অথবা বন্ধকী জমি থেকে ঋণদাতাকে লাভ/ফসল ভোগ করতে দেওয়া প্রত্যক্ষ সুদের অন্তর্ভুক্ত [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩, ১৩০]।

২. দারিদ্র্যের অজুহাতে সুদ হালাল হয় না:
ইসলামি শরীআতে অকাট্য হারাম কেবল তখনই সাময়িক মাফ হতে পারে, যখন মানুষের জীবন-মরণ বা নিশ্চিত প্রাণনাশের চরম নিরুপায় অবস্থা (ইযতিমার) তৈরি হয়। সাধারণ দারিদ্র্য, ঋণগ্রস্ততা বা অভাব-অনটনে সুদের মতো মারাত্মক কবিরা গোনাহে লিপ্ত হওয়া কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৮৮; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৫৮]।


৩. আপনার জন্য হালাল ও শরীয়াহ-সম্মত বিকল্প উপায়:

সুদী ঋণ ও 'দায় সুধি'র মতো হারাম পথ ছেড়ে দিয়ে নিচের যেকোনো একটি হালাল পথ অবলম্বন করতে পারেন:

১. যাকাত ও সদকা গ্রহণ করা:
যেহেতু আপনি অতি দরিদ্র, তাই শরীআতের দৃষ্টিতে আপনি যাকাত ও সদকা গ্রহণের উপযুক্ত। স্থানীয় কোনো ধনী ব্যক্তি, বায়তুল মাল বা মাদরাসা থেকে যাকাত/সদকার অর্থ সাহায্য হিসেবে গ্রহণ করা আপনার জন্য সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৯৬]। ২. জমি ইজারা (ভাড়া) দেওয়া:
জমি সুদে বন্ধক না রেখে কোনো ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য (যেমন: ১ বা ২ বছরের জন্য) জমি চাষাবাদ বা ব্যবহারের ইজারা (ভাড়া) চুক্তি করে অগ্রিম টাকা গ্রহণ করতে পারেন। এটি শরীআতে সম্পূর্ণ জায়েয [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৯]। ৩. জমি আংশিক বিক্রি করা:
প্রয়োজন মেটাতে জমির কিছু অংশ বিক্রি করা সুদী ঋণের তোপ থেকে বাঁচার জন্য উত্তম পথ। ৪. সুদমুক্ত করযে হাসানা:
কোনো দ্বীনদার ভাই বা দাতব্য সংস্থার কাছ থেকে সুদমুক্ত করযে হাসানার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ:

  • ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৯ & ২৮৮: (অধ্যায়: সুদের শরয়ী সংজ্ঞা ও অপকারিতা — "كل قرض جر نفعا فهو ربا" হাদীস ও ফিকহী মূলনীতির বিবরণ) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯, ২৮৮]।
  • ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৮ & ২৯৪: (অধ্যায়: সুদী চুক্তি ও ঋণ — সুদে ঋণ গ্রহণ ও সুদী চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া হারাম হওয়ার ফতোয়া) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৫৮, ২৯৪]।

২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:

  • ২০শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩ & ১৩০: (অধ্যায়: কিতাবুর রেহান — জমি বন্ধক রেখে সুদে টাকা নেওয়া ও বন্ধকী জমি থেকে লাভ ভোগ করা নাজায়েয হওয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩, ১৩০]।
  • ২০শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৪–১৩৫: (অধ্যায়: কিতাবুর রেহান — "كل قرض جر نفعاً فهو ربا" মূলনীতির ভিত্তিতে সুদী বন্ধকের অবৈধতা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৪, ১৩৫]।
  • ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯২–৯৩: (অধ্যায়: কিতাবুর রেহান, পরিচ্ছেদ: রেহানের ফিকহী আহকাম — সুদে টাকা আনা-নেওয়া হারাম হওয়ার বিবরণ) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯২, ৯৩]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.