জমি দায়সুধি
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব,
১. মূল শরয়ী সিদ্ধান্ত:
জমি 'দায় সুধি' (সুদী বন্ধক) রেখে বা সুদে টাকা আনা ইসলামি শরীআতে অকাট্যভাবে হারাম ও নাজায়েয [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯, ২৮৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯২, ৯৩]।
শত দারিদ্র্য বা পারিবারিক অভাব-অনটনের অজুহাতেও সুদী কারবার করা বা সুদে ঋণ গ্রহণ করা হালাল হয় না [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৮৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৪]।
২. ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
১. সুদের সর্বজনীন সংজ্ঞা (كل قرض جر نفعا فهو ربا):
হাদীস ও ফিকহের সর্বসম্মত মূলনীতি হলো— "যে ঋণ কোনো প্রকার অতিরিক্ত লাভ বা সুবিধা সংগ্রহ করে দেয়, তা-ই সুদ (রিবা)" [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৯৪; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৪]। জমি বন্ধক রেখে সুদে টাকা নেওয়া অথবা বন্ধকী জমি থেকে ঋণদাতাকে লাভ/ফসল ভোগ করতে দেওয়া প্রত্যক্ষ সুদের অন্তর্ভুক্ত [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩, ১৩০]।
২. দারিদ্র্যের অজুহাতে সুদ হালাল হয় না:
ইসলামি শরীআতে অকাট্য হারাম কেবল তখনই সাময়িক মাফ হতে পারে, যখন মানুষের জীবন-মরণ বা নিশ্চিত প্রাণনাশের চরম নিরুপায় অবস্থা (ইযতিমার) তৈরি হয়। সাধারণ দারিদ্র্য, ঋণগ্রস্ততা বা অভাব-অনটনে সুদের মতো মারাত্মক কবিরা গোনাহে লিপ্ত হওয়া কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৮৮; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৫৮]।
৩. আপনার জন্য হালাল ও শরীয়াহ-সম্মত বিকল্প উপায়:
সুদী ঋণ ও 'দায় সুধি'র মতো হারাম পথ ছেড়ে দিয়ে নিচের যেকোনো একটি হালাল পথ অবলম্বন করতে পারেন:
১. যাকাত ও সদকা গ্রহণ করা:
যেহেতু আপনি অতি দরিদ্র, তাই শরীআতের দৃষ্টিতে আপনি যাকাত ও সদকা গ্রহণের উপযুক্ত। স্থানীয় কোনো ধনী ব্যক্তি, বায়তুল মাল বা মাদরাসা থেকে যাকাত/সদকার অর্থ সাহায্য হিসেবে গ্রহণ করা আপনার জন্য সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৯৬]।
২. জমি ইজারা (ভাড়া) দেওয়া:
জমি সুদে বন্ধক না রেখে কোনো ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য (যেমন: ১ বা ২ বছরের জন্য) জমি চাষাবাদ বা ব্যবহারের ইজারা (ভাড়া) চুক্তি করে অগ্রিম টাকা গ্রহণ করতে পারেন। এটি শরীআতে সম্পূর্ণ জায়েয [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৯]।
৩. জমি আংশিক বিক্রি করা:
প্রয়োজন মেটাতে জমির কিছু অংশ বিক্রি করা সুদী ঋণের তোপ থেকে বাঁচার জন্য উত্তম পথ।
৪. সুদমুক্ত করযে হাসানা:
কোনো দ্বীনদার ভাই বা দাতব্য সংস্থার কাছ থেকে সুদমুক্ত করযে হাসানার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. দরসুল ফিকহ:
- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৯ & ২৮৮: (অধ্যায়: সুদের শরয়ী সংজ্ঞা ও অপকারিতা — "كل قرض جر نفعا فهو ربا" হাদীস ও ফিকহী মূলনীতির বিবরণ) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯, ২৮৮]।
- ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৮ & ২৯৪: (অধ্যায়: সুদী চুক্তি ও ঋণ — সুদে ঋণ গ্রহণ ও সুদী চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া হারাম হওয়ার ফতোয়া) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৫৮, ২৯৪]।
২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:
- ২০শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩ & ১৩০: (অধ্যায়: কিতাবুর রেহান — জমি বন্ধক রেখে সুদে টাকা নেওয়া ও বন্ধকী জমি থেকে লাভ ভোগ করা নাজায়েয হওয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩, ১৩০]।
- ২০শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৪–১৩৫: (অধ্যায়: কিতাবুর রেহান — "كل قرض جر نفعاً فهو ربا" মূলনীতির ভিত্তিতে সুদী বন্ধকের অবৈধতা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৪, ১৩৫]।
- ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯২–৯৩: (অধ্যায়: কিতাবুর রেহান, পরিচ্ছেদ: রেহানের ফিকহী আহকাম — সুদে টাকা আনা-নেওয়া হারাম হওয়ার বিবরণ) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯২, ৯৩]।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।