হায়েজ শেষ হওয়ার আলামত, সাদা স্রাব দেখার পর নামাজ ফরজ হওয়ার বিধান।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6468
Questioner: Dilsha Tani
Question Asked: 06 Oct 2026, 12:37 PM
Reviewed & Published: 06 Oct 2026, 02:59 PM
Views: 15
Tokens: 4,910
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,

(১)আসরের ফরজ নামাজ পড়ারও বেশকিছুক্ষন পরে টিসু দিয়ে চেক করার পর হায়েজের ব্লাড দেখতে পাই, এখন নামাজ পড়ার সময়ে তো লজ্জাস্থান গড়িয়ে কিছু পড়েনি। পিরিয়ড শুরু হলেও হয়ত চামড়ার ভিতরেই ছিল, এটা আমার ধারণা মোতাবেক।

এখন, তাহলে তো আমার হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পরে পুনরায় আসরের নামাজ আদায় করে দিতে হবেনা, তাইনা? এই নামাজ তো হয়ে গেছে। ঠিক আছে কি!!

(২) পিরিয়ড শেষ হওয়ার আলামতের জন্য রাত সাড়ে তিনটার সময়ে দিকে কালচে স্রাব দেখেছিলাম যেহেতু পুরোপুরি সাদা ছিলনা তাই আরো ই তো অপেক্ষা করতে হবে, পরে সকাল ৮টার সময়ে পুরোপুরি সাদা স্রাব দেখতে পাই। তাহলে কি আমার যোহর থেকে সালাত ফরজ হবে নাকি ফজর থেকে হবে? আর নাকি আগের রাতের ইশাও কি কাযা আদায় করে দিতে হবে? ওইযে রাত সাড়ে তিনটার দিকে কালচে স্রাব দেখেছিলাম কিন্তু সেটাতো পুরোপুরি সাদা ছিলনা।

Answer

হায়েজ (মাসিক) সংক্রান্ত দুটি মাসআলার বিস্তারিত উত্তর

উত্তর নং ১:

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো—আসরের ফরজ নামাজ আদায় করার পর কিছুক্ষণ পরে টিস্যু দিয়ে চেক করার সময় হায়েজের রক্ত দেখা গেছে। নামাজের সময় লজ্জাস্থান থেকে কিছু বের হয়নি বলে আপনার ধারণা। এখন প্রশ্ন হলো, হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর আসরের নামাজ কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

উত্তর: না, পুনরায় আদায় করতে হবে না। আপনার আসরের নামাজ সহীহ হয়ে গেছে। কারণ—

হায়েজের বিধান হলো, রক্ত বের হওয়ার মুহূর্ত থেকেই হায়েজ গণ্য হয়। যদি নামাজের সময় ভেতরে রক্ত ছিল কিন্তু বের হয়নি, তাহলে নামাজের সময় আপনি পাক (তাহির) ছিলেন। পরবর্তীতে রক্ত বের হলে তখন থেকে হায়েজ শুরু হবে। সুতরাং যে নামাজ পাক অবস্থায় আদায় হয়েছে, তা সহীহ ও আদায় হয়ে গেছে; পুনরায় কাযা করতে হবে না।

দলিল: ফিকহের মূলনীতি হলো—

«الْحَيْضُ يَثْبُتُ بِخُرُوجِ الدَّمِ لَا بِوُجُودِهِ فِي الرَّحِمِ»

অর্থাৎ, হায়েজ রক্ত বের হওয়ার দ্বারা সাব্যস্ত হয়, জরায়ুতে বা ভেতরে থাকার দ্বারা নয়।

(দেখুন: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, কিতাবুত তাহারাত, বাবুল হায়েজ; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৫)

সারকথা: আপনার আসরের নামাজ সহীহ হয়েছে, কাযা করতে হবে না। ইনশাআল্লাহ, ঠিক আছে।


উত্তর নং ২:

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের সারমর্ম হলো—রাত সাড়ে তিনটায় কালচে স্রাব দেখেছেন, যা পুরোপুরি সাদা ছিল না। পরে সকাল ৮টায় পুরোপুরি সাদা স্রাব (তুহর/পবিত্রতার আলামত) দেখেছেন। এখন হায়েজ থেকে পবিত্রতা কখন থেকে গণ্য হবে? যোহর থেকে ফরজ হবে, নাকি ফজর থেকে? আগের রাতের ইশাও কি কাযা করতে হবে?

উত্তর: হায়েজ শেষ হওয়ার আলামত হলো সাদা স্রাব (কুরুন সাদা/তুহর) দেখা। যতক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরি সাদা স্রাব না দেখা যায়, ততক্ষণ হায়েজ চলমান থাকে। কালচে বা বাদামী স্রাবও হায়েজের অন্তর্ভুক্ত, যদি তা হায়েজের দিনগুলোর মধ্যে হয়।

সুতরাং—

  • রাত সাড়ে তিনটায় কালচে স্রাব দেখা গেছে—এটি হায়েজের অন্তর্ভুক্ত। তখনো হায়েজ চলছিল।
  • সকাল ৮টায় পুরোপুরি সাদা স্রাব দেখা গেছে—এটিই পবিত্রতার আলামত। সকাল ৮টা থেকে আপনি পাক (তাহির)।

এখন বিধান:

১. ফজরের নামাজ: সকাল ৮টায় পাক হয়েছেন, ফজরের ওয়াক্ত ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে (সূর্যোদয়ের আগেই ফজরের ওয়াক্ত শেষ)। যেহেতু ফজরের ওয়াক্তের মধ্যে আপনি পাক হননি, তাই ফজরের নামাজ আপনার উপর ফরজ হয়নি; কাযাও করতে হবে না।

২. যোহরের নামাজ: সকাল ৮টায় পাক হয়েছেন, যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় দুপুরে (যাওয়ালের পর)। যেহেতু যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই আপনি পাক হয়েছেন, তাই যোহরের নামাজ থেকে আপনার উপর ফরজ শুরু হবে। যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা—সব আদায় করতে হবে।

৩. আগের রাতের ইশা: আগের রাতের ইশার ওয়াক্তে আপনি হায়েজ অবস্থায় ছিলেন (কারণ রাত সাড়ে তিনটায় তখনো কালচে স্রাব ছিল, পবিত্র হননি)। সুতরাং আগের রাতের ইশার নামাজ আপনার উপর ফরজ হয়নি; কাযা করতে হবে না।

দলিল:

«إِذَا رَأَتِ الْمَرْأَةُ الْقُرُونَ الْأَبْيَضَ فَقَدِ انْقَطَعَ عَنْهَا الدَّمُ»

অর্থাৎ, যখন নারী সাদা স্রাব (কুরুন সাদা) দেখে, তখন তার রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে।

(দেখুন: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৫; ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৫)

মূলনীতি: হায়েজ থেকে পবিত্রতা সাব্যস্ত হয় সাদা স্রাব দেখার দ্বারা। যে নামাজের ওয়াক্তে পবিত্রতা অর্জিত হয়েছে, সেই ওয়াক্ত থেকে নামাজ ফরজ হবে। পূর্ববর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাযা হবে না।

সারকথা:

  • ফজরের নামাজ ফরজ হবে না, কাযাও নেই।
  • যোহর থেকে নামাজ ফরজ হবে।
  • আগের রাতের ইশা কাযা করতে হবে না

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.