ভুলে বা অনিচ্ছায় হারাম গুনাহ হয়ে গেলে কি গুনাহ হবে? নামাজের পর তাওবা করলে কি কবুল হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6467
Questioner: Asif Khan
Question Asked: 06 Oct 2026, 12:35 PM
Reviewed & Published: 06 Oct 2026, 02:12 PM
Views: 26
Tokens: 2,898
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আ'লাইকুম
ভুলে আগের কোনো হারাম গুনাহ হয়ে গেলে অনিচ্ছায় হয়ে গেলে কি গুনাহ হবে?
suppose এখন গুনাহ হয়ে গেলো এখন নামাজের পড়ে তাওবা করলে কি হবে সাথে সাথে তাওবা না করলে?

Answer

ভুলে বা অনিচ্ছায় গুনাহ হয়ে গেলে করণীয়

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

১. ভুলে গুনাহ হলে কি গুনাহ হবে?

ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি হলো—ভুলে কোনো গুনাহ সংঘটিত হলে বান্দা পাপী হবে না। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

"হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ

"তোমাদের ভুলে যা হয়ে যায় তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই; তবে যা তোমাদের অন্তর ইচ্ছাকৃতভাবে করে।" (সূরা আহযাব: ৫)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং বাধ্যতামূলক কাজ ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৩; সুনানে বায়হাকি)

তবে শর্ত হলো: ভুল হওয়ার পর জানার সাথে সাথে তা ছেড়ে দেওয়া এবং অনুতপ্ত হওয়া। যদি কেউ ভুলের অজুহাতে গুনাহ চালিয়ে যায়, তবে তা ভুল নয়—বরং ইচ্ছাকৃত গুনাহ।

অনিচ্ছায় গুনাহ করলে গুনাহ হবে

২. নামাজের পর তাওবা করলে কি হবে?

হ্যাঁ, তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

"হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সূরা নূর: ৩১)

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারা: ২২২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ

"গুনাহ থেকে তাওবাকারী সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহই নেই।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)

৩. সাথে সাথে তাওবা না করলে?

সাথে সাথে তাওবা করা উত্তম ও কর্তব্য। তবে বিলম্ব করলে তাওবা বাতিল হয় না—যখনই sincere তাওবা করবে, আল্লাহ কবুল করবেন। কিন্তু বিনা কারণে বিলম্ব করা ঠিক নয়, কারণ:

  • মৃত্যু কখন আসবে জানা নেই—তাওবা ছাড়া মৃত্যু হলে ভয়াবহ পরিণতি।
  • গুনাহের ওপর অটল থাকা আরেকটি গুনাহ।
  • ইমাম ইবনে আবিদিন রহ. বলেন, তাওবাকে বিলম্ব করা নিজেই একটি গুনাহ, যা থেকে আরেকটি তাওবা প্রয়োজন। (রাদ্দুল মুহতার: ৫/২৪৪)

৪. তাওবার শর্ত (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)

আল্লাহর হক সম্পর্কিত গুনাহের তাওবার শর্ত তিনটি:

  1. অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া
  2. গুনাহ ত্যাগ করা
  3. আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা

যদি গুনাহটি বান্দার হক সম্পর্কিত হয় (যেমন কারো সম্পদ, সম্মান বা জানের ক্ষতি), তবে চতুর্থ শর্ত হলো—সেই হক ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া। (ফাতাওয়া উসমানি: ২/৫৬০; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/৩০১)

৫. বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রশ্নে "হারাম গুনাহ" শব্দ এসেছে। যদি তা যিনা, মদ, সুদ ইত্যাদি কবিরা গুনাহ হয়, তবে শুধু তাওবাই যথেষ্ট নয়—বরং সংশ্লিষ্ট হক আদায় করাও জরুরি। আর যদি নামাজ ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে কাজা নামাজ আদায় করা আবশ্যক; শুধু তাওবায় কাজা মাফ হয় না। (রাদ্দুল মুহতার: ২/৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১২১)


সারসংক্ষেপ:

  • ভুলে গুনাহ হলে পাপ নেই, তবে জানার পর ছেড়ে দিতে হবে।
  • তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন—সাথে সাথে করাই উত্তম।
  • বিলম্ব করলে তাওবা বাতিল হয় না, কিন্তু বিলম্ব করা নিজেই গুনাহ।
  • বান্দার হক বা কাজা ইবাদত থাকলে তা আদায় করা অপরিহার্য।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.