মাদ্রাসার শিক্ষিকা কর্তৃক প্রাপ্ত মিষ্টি বাড়িতে আনা জায়েজ কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
১.আমি একটা মাদ্রাসায় চাকরী করি, ওখানে কোরআন ধরার পর মেয়েরা মিষ্টি দেয়। মাদ্রাসার বড় শিক্ষিকা এই মিষ্টি সব শিক্ষিকার বাড়ির জন্য দেন ৩-৪ টা বা ৫টা করে।এই মিষ্টিগুলো বাড়িতে আনা কি ঠিক হবে?
২.আমি শিশু নার্সারির ছেলেদের পড়াই, এই বাচ্চাগুলো ওয়াসরুমে যায় না বাইরে প্রসাব করে,পানি ব্যবহার করে না।ঐ প্যান্ট পড়ে আবার মক্তবেও যায়।প্রসাব করার পর পানি না নেওয়ার কারনে ওরা যে পাটিতে বসে পড়ে তা কি নাপাক হবে?
৩.ওরা যে পাটিতে বসে সেখানে আমি বসলে আমার নামাজ হবে?
Answer
উত্তর (ফতোয়া নং-৬৪৬৪)
بسم الله الرحمن الرحيم السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর ধারাবাহিকভাবে নিচে দেওয়া হলো। উত্তর প্রদানে হানাফি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের বর্ণনা অনুসরণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১: মাদ্রাসার শিক্ষিকা কর্তৃক প্রাপ্ত মিষ্টি বাড়িতে আনা কি ঠিক হবে?
উত্তর: মূলত বিষয়টি নির্ভর করে মিষ্টিগুলোর মালিকানা ও হস্তান্তরের পদ্ধতির উপর। মাদ্রাসার ছাত্রীরা যখন শিক্ষিকাকে মিষ্টি দেয়, তখন সাধারণত সেটি শিক্ষিকার জন্য হাদিয়া (উপহার) হিসেবে দেওয়া হয়। মাদ্রাসার বড় শিক্ষিকা যদি সেই মিষ্টি অন্য শিক্ষিকাদের মাঝে বণ্টন করেন, তবে তা বণ্টনকারীর এখতিয়ারভুক্ত একটি বিষয়।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ: ১. যদি ছাত্রীরা সরাসরি শিক্ষিকাকে হাদিয়া হিসেবে দেয়: তখন সেই মিষ্টির মালিক হন শিক্ষিকা। বড় শিক্ষিকা যদি তা বণ্টন করেন, তবে সেটি শিক্ষিকার পক্ষ থেকে একটি উপহার বা সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে মিষ্টি বাড়িতে আনা জায়েজ। ২. যদি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বণ্টন করা হয়: মাদ্রাসার সম্পদ বা ছাত্রীদের দেওয়া উপহার যদি মাদ্রাসার সাধারণ সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা বাড়িতে নেওয়ার আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা নীতিমালা জানা জরুরি। ৩. সন্দেহজনক অবস্থা: যদি মিষ্টির মালিকানা নিয়ে সন্দেহ থাকে বা বড় শিক্ষিকা নিজের পক্ষ থেকে জোর করে চাপিয়ে দেন, তবে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
হানাফি কিতাবের বর্ণনা: হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা হাদিয়া গ্রহণ করো এবং তা বিনিময় করো, যাতে তা তোমাদের অন্তরে বিদ্বেষ সৃষ্টি না করে।" (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং-২৩০০০)। তবে হাদিয়ার ক্ষেত্রে মালিকের সন্তুষ্টি ও স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক।
সারসংক্ষেপ: যদি মিষ্টিগুলো শিক্ষিকার জন্য বৈধভাবে হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হয় এবং বড় শিক্ষিকা তা বণ্টন করেন, তবে বাড়িতে আনা জায়েজ। তবে মাদ্রাসার সম্পদ বা অনুমতিহীন কিছু হলে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
প্রশ্ন ২: শিশুদের প্রস্রাবের পর পানি না নেওয়ার কারণে পাটি কি নাপাক হবে?
উত্তর: এক্ষেত্রে সেই পাটিতে পেশাবের কোন চিহ্ন বা গন্ধ পাওয়া না গেলে সে পাটি পাক বলে বিবেচিত হবে।
আর যদি সেই পাটিতে পেশাবের কোন চিহ্ন বা গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে তাহা নাপাক বলে বিবেচিত হবে।
প্রশ্ন ৩: নাপাক পাটিতে বসলে নামাজ হবে কি?
উত্তর: নামাজের জন্য শর্ত হলো: জায়গা, কাপড় ও শরীর পাক হওয়া। (সূরা মুদ্দাসসির: ৪-৫; ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৫৮)
আপনার কাপরে পেশাবের কোন চিহ্ন বা গন্ধ পাওয়া না গেলে আপনার কাপড় পাক বলে বিবেচিত হবে। আপনার নামাজ আদায় হবে।
আর যদি আপনার কাপড়ে পেশাবের কোন চিহ্ন বা গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে তাহা নাপাক বলে বিবেচিত হবে। এমতাবস্থায় তাহা এক দিরহাম থেকে কম হলে আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। এক দিরহাম সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি হলে আপনার নামাজ আদায় হবেনা।
والله أعلم بالصواب وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين