হায়েজ ৬ দিন পূর্ণ হওয়ার পর রাতে গোসল করা কঠিন হলে করণীয় কী?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6460
Questioner: Tasmin1066
Question Asked: 06 Oct 2026, 05:43 AM
Reviewed & Published: 06 Oct 2026, 11:35 AM
Views: 20
Tokens: 2,949
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ শায়েখ
১.আমার হায়েজ হয়েছিল বুধবার রাত ৮:৩০-৯:০০ দিকে। আমার সাধারণত অভ্যাস ৬ দিন।হিসেব মতো মঙ্গলবার রাতে ৬ দিন পূর্ণ হয়। রাতে এই সময়ে আমার অনলাইনে দারস আছে এবং রাতে গোসল করলে আম্মু বকে।এক্ষেত্রে আমি কখন গোসল করব?

Answer

উত্তর (সংক্ষিপ্ত):

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো—হায়েজ শুরু বুধবার রাত ৮:৩০–৯:০০-এ, অভ্যাস অনুযায়ী ৬ দিন পূর্ণ হয় মঙ্গলবার রাতে; কিন্তু রাতে অনলাইন দারস আছে এবং রাতে গোসল করলে আম্মু বকেন। এমতাবস্থায় আপনি কখন গোসল করবেন?

সিদ্ধান্ত: আপনার হায়েজ কি বন্ধ হয়েছে? বন্ধ না হয়ে থাকলে অপেক্ষা করুন,১০ দিনের আগেই যেদিন ব্লিডিং বন্ধ হবে,সেদিন পর্যন্ত হায়েজ ধরবেন। এরপর ফরজ গোসল করবেন।

যদি মঙ্গলবার রাতেই আপনার হায়েজ বন্ধ হয়ে থাকে,তাহলে ঈশার নামাজ যেহেতু আপনাকে পড়তে হবে,সুতরাং যেভাবেই হোক ইশার ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই আপনাকে ফরজ গোসল করতে হবে,এবং ইশার নামাজ ও বিতর নামাজ আদায় করতে হবে।

আপনার মায়ের বকাবকির কারনে ইশার নামাজ কাজা করার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে মায়ের আদেশ মানা জায়েজ হবেনা।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ-

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ»

“স্রষ্টার নাফরমানির কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।” মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২০৬৫৩; মুস্তাদরাকে হাকিম, ৫৮৭০।

অর্থাৎ, কোনো মানুষ—সে বাবা-মা, স্বামী, শাসক, নেতা বা অন্য যে-ই হোক—যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর অবাধ্য কোনো কাজের নির্দেশ দেয়, তাহলে সে কাজে তার আনুগত্য করা জায়েয নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا “যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তাহলে পবিত্র হয়ে যাও।” (সূরা মায়িদা: ৬)

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) হায়েজ থেকে পাক হওয়ার পর গোসলের নির্দেশ দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩১৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৩৩)

অনলাইন দারস: দারসে অংশগ্রহণ করা ইবাদত। তবে নামাজের ওয়াক্ত সংকীর্ণ হলে আগে নামাজ আদায় করা অগ্রাধিকার।

আপনি চাইলে দারস শেষে গোসল করেও ঈশার নামাজ পড়তে পারেন। তবে কোনোক্রমেই যেনো ইশার নামাজ কাজা না যায়।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.