কুরবানির আগে চুল কাটা, উমরার সঞ্চয়, প্রাপ্য ঋণ ও স্বর্ণের ভিত্তিতে কুরবানি ওয়াজিব কিনা?
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
১)ভুলবশত আজকে চুল কেটে ফেলেছি এক্ষেত্রে কুরবানিতে কোনো সমস্যা হবে কি?
২)আমি একটা মাটির ব্যাংকে উমরাহ করার নিয়াতে টাকা রাখি। টাকার পরিমাণ জানা নেই।হাতে টাকা থাকলে রেখে দেই।এই টাকা কি নিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে? হলে এর হিসাব কিভাবে করব?
৩)একজনের কাছ থেকে ৩২০০০ টাকা পাই।টাকা কবে নাগাদ পাব জানা নেই উনি অল্প অল্প করে শোধ করছে। এই টাকাটা কি নিসাবের সাথে হিসাব করতে হবে কুরবানির সময়ে?
৪)আমার প্রায় ৩.৫ ভরি স্বর্ণ আছে।এছাড়া নগদ ৫০০০+ টাকা আছে।আর উক্ত ব্যক্তির নিকট থেকে পাব সেই টাকা,সাথে মাটির ব্যাংকে উমরাহ নিয়াতে জমানো টাকা।
আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব?
৫)কুরবানি ওয়াজিব হলে এই প্রশ্ন:
আমি বিবাহিতা।আমার পক্ষে আমার বাবা কুরবানি দিতে পারবে?আমার শরীক হওয়ার মত সামর্থ নেই। বাবা একা কুরবানি করে থাকেন। সেক্ষেত্রে আমার পক্ষে একটি নাম দিতে পারবে কি?
জাজাকাল্লাহ খাইরান। দয়া করে উত্তর দিবেন ইন শা আল্লাহ।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
১) কুরবানির আগে চুল কাটা:
কুরবানির উদ্দেশ্যে প্রাণী কেনার পর বা কুরবানির দশ দিনের মধ্যে চুল কাটা বা নখ কাটা মাকরূহ (তানযীহান) হলেও এর দ্বারা কুরবানি বাতিল হয় না। ভুলবশত কেটে ফেললে কোনো সমস্যা নেই, কুরবানি সহীহ হবে।
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৬; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩১৩)
২) উমরার নিয়তে মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা:
উমরার নিয়তে সঞ্চিত টাকা আপনার মালিকানাধীন। এটি নিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যাকাত ও কুরবানির হিসাবের সময় তা গণনা করতে হবে। পরিমাণ জানা না থাকলে ব্যাংকটি ভেঙে বা ওজন করে অথবা আনুমানিক হিসাব করে নিতে হবে।
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৫০; বাহিশতী জেওর, ২/৩০)
৩) অন্যজনের নিকট থেকে প্রাপ্য ৩২০০০ টাকা:
ঋণদাতা (যাকে টাকা দিয়েছেন) যদি সচ্ছল হয় এবং কিছু কিছু করে পরিশোধ করছে, তাহলে এই প্রাপ্য টাকা আপনার সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।
কুরবানির নিসাব নির্ধারণে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪) আপনার সম্পদের ভিত্তিতে কুরবানি ওয়াজিব কিনা:
আপনার সম্পদ:
- স্বর্ণ: ৩.৫ ভরি (≈ ৪০.৮ গ্রাম)
- নগদ: ৫,০০০+ টাকা
- প্রাপ্য ঋণ: ৩২,০০০ টাকা (যদি হিসাবে ধরা হয়)
- উমরার সঞ্চয় (অনুমানিক)
হানাফী মতে, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব হলো সাড়ে ৫২ তোলা রুপা (≈ ৬১২.৩৬ গ্রাম) বা তার সমমূল্যের সম্পদ। বর্তমান বাজারমূল্য অনুসারে এই নিসাব প্রায় ৬১,২০০ টাকা (প্রতি গ্রাম রুপা ১০০ টাকা ধরে)। আপনার স্বর্ণের মূল্য (৪০.৮ গ্রাম × ৬,০০০ টাকা ≈ ২,৪৪,৮০০ টাকা) একাই এই নিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সুতরাং আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব।
(শরহু মা‘আনিল আসার, ৩/২৫; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩১০)
৫) কুরবানি ওয়াজিব হলে করণীয়:
যেহেতু আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব, তাই আপনাকে অবশ্যই নিজের মাল থেকে কুরবানি দিতে হবে। আপনি বিবাহিতা হলেও আপনার পিতার উপর আপনার কুরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তিনি একাকী কুরবানি করলে (যেমন- একটি ছাগল) তাতে আপনার অংশ রাখতে পারবেন না, কারণ একটি ছাগল মাত্র একজনের পক্ষে জায়েজ। তবে আপনি আপনার পিতাকে অর্থ দিয়ে তাঁর সাথে একটি গরু/মহিষের শরীক হতে পারেন (৭ জন পর্যন্ত শরীক হতে পারে)। অথবা আপনি নিজে একটি কুরবানির পশু কিনে পিতাকে জবাই করার অনুমতি দিতে পারেন। আপনার পিতা যদি নিজের মাল থেকে আপনার পক্ষে কুরবানি দিতে চান, তবে তা কেবল আপনার মালিকানায় হাদিয়া বা দান হিসেবে দিয়ে তারপর জবাই করাতে হবে।
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/২৯৪; বাহিশতী জেওর, ২/৩২)
সারসংক্ষেপ:
- চুল কাটায় কুরবানি নষ্ট হয়নি।
- উমরার সঞ্চয় ও প্রাপ্য ঋণ নিসাবের হিসাবে গণ্য।
- আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব।
- নিজের টাকা দিয়ে পিতাকে দিয়ে কুরবানি করান অথবা শরীক হন।
জাজাকাল্লাহু খাইরান।