কাদিয়ানী কোম্পানিতে চাকরি করা কি হারাম? প্রাণ আরএফএল-এ চাকুরিরত ব্যক্তির জন্য শরীয়তের বিধান কী?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6370
Questioner: Mehedi Hasan Ruman
Question Asked: 04 Oct 2026, 02:15 PM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 04:57 AM
Views: 10
Tokens: 4,406
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সম্প্রতি এক বক্তব্যে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সম্মানিত খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক(দা.বা) বলেন যে কাদিয়ানী কোম্পানির পন্য বর্জন করা ফরয।আমি প্রাণ আরএফএল কোম্পানিতে চাকুরিরত আছি,এক্ষেত্রে আমার চাকরি করাটাও কি হারাম হবে?যেহেতু পন্য বয়কট করতে হবে।কারন আমাদের কাজ হচ্ছে মার্কেটে পন্য উঠানো ও সর্বোচ্চ পরিমানে কোম্পানির লাভ এনে দেয়া।

Answer

কাদিয়ানী কোম্পানিতে চাকুরির বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী প্রাণ আরএফএল কোম্পানিতে চাকুরিরত। তিনি জানতে চান—যেহেতু বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক (দা.বা.) কাদিয়ানী কোম্পানির পণ্য বর্জনকে ফরয বলেছেন, সেহেতু প্রাণ আরএফএল-এ চাকরি করা কি হারাম হবে? কারণ তাঁর কাজ হলো মার্কেটে পণ্য উঠানো ও কোম্পানির সর্বোচ্চ লাভ নিশ্চিত করা।


প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন

প্রাণ আরএফএল কোম্পানি কাদিয়ানী কোম্পানি কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। মাওলানা আব্দুল মালেক (দা.বা.)-এর বক্তব্যে তিনি যে নির্দিষ্ট কোম্পানিকে কাদিয়ানী বলেছেন, সেটি প্রাণ আরএফএল কি না—তা প্রশ্নকারীকে যাচাই করতে হবে। শুধু গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে কোনো কোম্পানিকে কাদিয়ানী বলা বা না বলা উচিত নয়। তবে যদি প্রমাণিত হয় যে কোম্পানির মালিকানা বা মূল নীতি কাদিয়ানী মতবাদের সাথে সম্পৃক্ত, তাহলে বিধান ভিন্ন হবে।


কাদিয়ানীদের বিধান প্রসঙ্গে

কাদিয়ানী বা আহমদিয়া সম্প্রদায় ইসলামের মূল আকিদা (খাতামুন নাবিয়্যীন) অস্বীকার করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পর কোনো নবী নেই—এই আকিদা ইসলামের অপরিহার্য অংশ। কাদিয়ানীরা মির্যা গোলাম আহমদকে নবী দাবি করে, যা কুফর।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"وَكُلُّ مَنْ أَنْكَرَ خَاتَمِيَّةَ النُّبُوَّةِ فَهُوَ كَافِرٌ بِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ"

"যে ব্যক্তি খাতামুন নাবিয়্যীন (নবুয়তের সমাপ্তি) অস্বীকার করে, সে মুসলিমদের ইজমা অনুযায়ী কাফির।"

(রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল জিহাদ)

ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে আছে:

"الْقَادِيَانِيُّونَ كُفَّارٌ لِأَنَّهُمْ يُنْكِرُونَ خَاتَمِيَّةَ النُّبُوَّةِ"

"কাদিয়ানীরা কাফির, কারণ তারা নবুয়তের সমাপ্তি অস্বীকার করে।"

(ফতোয়ায়ে আলমগিরি, কিতাবুল হুদুদ)


কাদিয়ানী কোম্পানির পণ্য বর্জন প্রসঙ্গে

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বিরত থাকা শরীয়তের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ:

১. তাদের ব্যবসায়িক লাভ তাদের কুফরি মতবাদ প্রচারে ব্যবহৃত হয়—এটি মুসলিমদের জন্য ক্ষতিকর।

২. আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ" "পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)

৩. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ" "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১)

তবে সাধারণ মুসলিমদের জন্য কাদিয়ানী পণ্য বর্জন করা—এটি ইজতেহাদি মাসআলা। কোনো কোনো আলেম ফরয বলেছেন, কেউ কেউ ওয়াজিব বা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত বলেছেন। মূল বিষয় হলো—তাদের কুফরি মতবাদকে শক্তিশালী করা থেকে বিরত থাকা।


প্রশ্নকারীর চাকরির বিধান

যদি প্রাণ আরএফএল প্রকৃতপক্ষে কাদিয়ানী কোম্পানি হয়:

এক্ষেত্রে চাকরির বিধান:

১. যদি চাকরির কাজ সরাসরি কুফরি মতবাদ প্রচার বা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করার সাথে সম্পৃক্ত হয়—তাহলে এই চাকরি হারাম বা নাজায়েজ হবে। কারণ এটি কুফরিতে সহযোগিতা করার শামিল।

২. যদি চাকরির কাজ শুধু সাধারণ পণ্য বিপণন হয় এবং কোম্পানির মালিকানা কাদিয়ানীদের হয়—তাহলে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে:

  • কিছু আলেম বলেন, এ ধরনের চাকরি মাকরুহে তাহরিমি।
  • কিছু আলেম বলেন, যদি বিকল্প চাকরির সুযোগ থাকে, তবে তা ত্যাগ করা উচিত।
  • তবে যদি বিকল্প চাকরির সুযোগ না থাকে এবং জীবিকার তীব্র প্রয়োজন হয়, তাহলে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি আছে—তবে কোম্পানির কুফরি মতবাদ প্রচারে কোনোভাবে সহযোগিতা করা যাবে না।

৩. মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:

"কুফরি মতবাদের প্রচার-প্রসারে সহযোগিতা করা জায়েজ নেই। তবে যদি কোনো ব্যক্তি এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে যেখানে তার কাজ সরাসরি কুফরি প্রচারের সাথে সম্পৃক্ত নয়, এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সে চাকরি চালিয়ে যেতে পারে—তবে তার উচিত অন্যত্র চাকরির চেষ্টা করা।" (ফতোয়ায়ে উসমানি, ৩/৪২১)

যদি প্রাণ আরএফএল কাদিয়ানী কোম্পানি না হয়:

তাহলে এই চাকরি হারাম হবে না। শুধু গুজবের ভিত্তিতে চাকরি ছাড়া ঠিক হবে না। বরং যাচাই-বাছাই করা জরুরি।


প্রশ্নকারীর করণীয়

১. প্রথমে নিশ্চিত হোন—প্রাণ আরএফএল সত্যিই কাদিয়ানী কোম্পানি কি না। মাওলানা আব্দুল মালেক (দা.বা.)-এর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম যাচাই করুন।

২. যদি প্রমাণিত হয় কাদিয়ানী কোম্পানি:

  • বিকল্প চাকরির চেষ্টা করুন।
  • যদি এখনই সম্ভব না হয়, তাহলে চাকরি চালিয়ে যান—তবে অন্তরে কুফরি মতবাদের প্রতি ঘৃণা রাখুন এবং কোম্পানির কুফরি প্রচারে কোনোভাবে অংশ নেবেন না।
  • কোম্পানির পণ্য প্রচারে যদি কাদিয়ানী মতবাদের প্রচার বা সমর্থন থাকে, তাহলে সেই কাজ থেকে বিরত থাকুন।

৩. যদি প্রমাণিত না হয়:

  • চাকরি চালিয়ে যান, কোনো সমস্যা নেই।
  • তবে সতর্ক থাকুন এবং সংশ্লিষ্ট আলেমদের সাথে পরামর্শ করুন।

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|------| | কাদিয়ানী কোম্পানির পণ্য বর্জন | গুরুত্বপূর্ণ, অনেক আলেম ফরয বলেছেন | | কাদিয়ানী কোম্পানিতে চাকরি (সরাসরি কুফরি প্রচারে) | হারাম | | কাদিয়ানী কোম্পানিতে চাকরি (সাধারণ পণ্য বিপণন) | মাকরুহ, বিকল্প থাকলে ত্যাগ করা উচিত | | বিকল্প না থাকলে | চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি, তবে কুফরি প্রচারে সহযোগিতা নিষিদ্ধ | | প্রাণ আরএফএল কাদিয়ানী কি না | যাচাই করা জরুরি, গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয় |


উপসংহার

প্রাণ আরএফএল কাদিয়ানী কোম্পানি কি না—এটি প্রথমে নিশ্চিত করুন। যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে বিকল্প চাকরির চেষ্টা করুন। যদি তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব না হয়, তাহলে চাকরি চালিয়ে যান—তবে কুফরি মতবাদের প্রচারে কোনোভাবে সহযোগিতা করবেন না এবং অন্তরে ঘৃণা রাখুন। আল্লাহ তা'আলা আপনার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করুন। আমিন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.