পরিক্ষায় উত্তর দেখানো প্রসঙ্গে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6357
Questioner: Rabeya Mim
Question Asked: 04 Oct 2026, 11:29 AM
Reviewed & Published: 04 Oct 2026, 11:31 AM
Views: 10
Tokens: 3,797
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার এক ফ্রেন্ড তাকে পরিক্ষার হলে উত্তর বলার জন্য খুব জোরাজোরি করে,একপর্যায়ে আমি তাকে বলি যে এইসব ঠিক না,এসবের কারণে আমাদের দুইজনেরই শাস্তি হবে।তবুও সে কিছুতেই মানতে চায় না বলে এইবারের মতো উত্তর বলে দিতে আর কোনোদিন চাইবে না,আমার গুনাহের ভাগ প্রয়োজনে সে নিবে।।অনেক বার বলার পর আমি তাকে বলি উত্তর।আমি গুনাহ হবে জেনেও ব্যাপারটি তখন এড়াতে পারিনি।এতে কি আমার গুনাহ হবে?

Answer

পরীক্ষার হলে উত্তর দেখানো/বলার বিধান ও গুনাহের প্রশ্ন

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, আপনার গুনাহ হয়েছে।

বন্ধুর "গুনাহের ভাগ নিবে" বলা বা "আর কখনো চাইবে না" বলা—এসব আপনার গুনাহকে মাফ করে না। কারণ গুনাহের দায়িত্ব ব্যক্তিগত, কেউ কারো গুনাহ বহন করতে পারে না।


বিস্তারিত আলোচনা

১. পরীক্ষায় উত্তর দেখানো/বলার হুকুম

পরীক্ষা হলো এক ধরনের আমানত (বিশ্বাস)। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে যে শর্তে পরীক্ষায় বসায়, তা হলো—নিজের জ্ঞান অনুযায়ী উত্তর দেবে, অন্যের সাহায্য নেবে না। এ শর্ত ভঙ্গ করা প্রতারণা ও আমানতের খিয়ানত।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا

"যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করল, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।"

— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৪৫২

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এই হাদীস প্রতারণার ভয়াবহতা ও হারামত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্ট। (শরহু সহীহ মুসলিম, খণ্ড ২, পৃ. ২৪২)

২. উত্তর বলার গুনাহ কার উপর?

  • যে বলে দেয় (আপনি): তার উপর গুনাহ—কারণ সে প্রতারণায় সহযোগিতা করেছে।
  • যে নকল করে (বন্ধু): তার উপর গুনাহ—কারণ সে নিজেই প্রতারণা করেছে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

"নেক কাজ ও তাকওয়ায় একে অপরকে সাহায্য করো, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।"

— সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ২

৩. "গুনাহের ভাগ নিবে" — এ কথার কোনো ভিত্তি নেই

কিয়ামতের দিন কেউ কারো গুনাহ বহন করবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ

"কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।"

— সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৬৪; সূরা আল-ইসরা, আয়াত ১৫

৪. "এড়াতে পারিনি" — এটা ওজর নয়

আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন—"আমি গুনাহ হবে জেনেও ব্যাপারটি তখন এড়াতে পারিনি।" জেনে-বুঝে গুনাহ করা ইচ্ছাকৃত গুনাহ। চাপ বা লজ্জার কারণে গুনাহ করা শরীয়তে ওজর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে হ্যাঁ, যদি বন্ধুর পীড়াপীড়ি এতটাই হতো যে আপনার জান-মালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকত, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু শুধু "বন্ধুত্ব নষ্ট হবে" বা "লজ্জা লাগবে"—এসব গুনাহের বৈধ কারণ নয়।

৫. তাওবা ও করণীয়

১. আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করুন — ইস্তিগফার ও নাদামাতের সাথে। ২. ভবিষ্যতে দৃঢ় সংকল্প করুন — আর কখনো পরীক্ষায় উত্তর দেবেন না বা নেবেন না। ৩. বন্ধুকে সৎ পরামর্শ দিন — তাকেও তাওবার দাওয়াত দিন। ৪. যদি প্রতিষ্ঠানের কোনো অধিকার নষ্ট হয় (যেমন নম্বর বা সার্টিফিকেট অন্যায়ভাবে পাওয়া), তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চাওয়া বা সংশোধন করা জরুরি হতে পারে। তবে সাধারণত পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাওবাই যথেষ্ট, যদি না এতে কারো সুনির্দিষ্ট হক নষ্ট হয়।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।"

— সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২২


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.