সুদের টাকা থেকে চুরি হওয়া টাকার ক্ষতিপূরণ কেটে রাখা কি হালাল?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6355
Questioner: Iffat
Question Asked: 04 Oct 2026, 09:47 AM
Reviewed & Published: 04 Oct 2026, 10:31 AM
Views: 6
Tokens: 5,987
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। গত পরশু রাতে আমি রাস্তা পার হওয়ার সময় আমার ব্যগ থেকে ২২১৯০ টাকা সহ আমার টাকার পার্স টা নিয়ে গিয়েছে। আমি স্টুডেন্ট মানুষ হওয়ার এই টাকা টা আমার কাছে অনেক। আরেকটা বিষয় হলো আমার বাবার জমি বিক্রির কিছু টাকা ব্যাংকে আছে, সেখানে ৪৭ হাজার টাকা সুদ জমা হয়েছে, যে টাকা টা আমার বাবা সওয়ারের আশা ছাড়াই দান করে দিবে ইন শা আল্লাহ। এখন আমার দুইটা প্রশ্ন

১. আমি কি এই ৪৭ হাজার টাকা থেকে আমার চুরি হওয়া ২২১৯০ টাকা কেটে রাখতে পারি? এটা কি হালাল হবে? আর যদি হালাল না হয় আমি কি ভেবে নিজেকে শান্ত করতে পারি এই টাকা হারানো তে?

২. আমার বাবার এই টাকা কি কোনো ইসলামি ফাউন্ডেশনে দান করা যাবে? সওয়াবের আশা ছাড়াই, যেহেতু একটা বড় এমাউন্ট, আমরা চাই কারো।কাজে সত্যিই লাগুক।

Answer

টাকা-পয়সা: চুরি হওয়া টাকার ক্ষতিপূরণ ও সুদের টাকার বিধান

উত্তর:

১. না, সুদের টাকা থেকে চুরি হওয়া ২২,১৯০ টাকা কেটে রাখা জায়েয নয়। সুদের টাকা আপনার মালিকানায় আসে না; তা মূল ঋণদাতার (ব্যাংকের গ্রাহক/সুদ প্রদানকারীর) সম্পদ হিসেবে থাকে। তাই নিজের ক্ষতি পূরণের জন্য তা ব্যবহার করা হালাল হবে না। চুরি হওয়া টাকার জন্য আপনি আল্লাহর কাছে ছবর ও এহতেসাবের মাধ্যমে সওয়াবের আশা করতে পারেন।

২. সুদের টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিব- মিসকিনকে দান করতে হবে। ফাউন্ডেশনে বা কোনো মসজিদ ইত্যাদিতে নয়।

সুদ (রিবা) হারাম ও অপবিত্র। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)

রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়া, খাওয়ানো, লেখক ও সাক্ষী সবাইকে লানত করেছেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮)।

সুদের টাকার মালিকানা:

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, সুদের টাকা মূল ঋণদাতার সম্পদ হিসেবে থাকে; গ্রহীতার মালিকানায় প্রবেশ করে না। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত হলো, রিবা ফাসিদ (অবৈধ সুদ) মূল মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া ওয়াজিব; যদি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তা সদকা করতে হবে — তবে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া।

ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" (কিতাবুল বাইউ, বাবুর রিবা) -এ লিখেন:

"যদি সুদ গ্রহণকারী সুদ ফেরত দিতে না পারে, তবে সে তা গরিবকে সদকা করবে; কিন্তু সওয়াবের নিয়ত করবে না, কারণ তা তার নিজের পাপের কাফফারা হিসেবে গণ্য।"

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) "ফাতাওয়া উসমানি" (২/৩৩৫) -এ বলেন:

"সুদের টাকা মূল মালিককে ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে, তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিবকে দান করা জায়েয। নিজের প্রয়োজনেও ব্যবহার করা জায়েয নয়।"

ওয়াল্লাহু আ'লাম বিস-সাওয়াব।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.