যিনার গুনাহ থেকে তাওবা কীভাবে করবো?
Halal and Haram · Hanafi
Question
এই গুনাহ থেকে কীভাবে বের হব?আমি দ্বীনি মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও যিনা করেছি সব জেনে শুনে এবং এটাও জানি যে ওকে বিয়ে করার সম্ভব নাহ আমার।তাও যিনা করে ফেলেছি!আল্লাহ কি আমায় মাফ করবেন?
তাওবা কীভাবে করব?
দ্বীনদার জীবনসঙ্গী কি পাব?
Answer
যিনার গুনাহ থেকে তাওবা ও মুক্তির পথ
উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় বোন, আপনি যে গুনাহে লিপ্ত হয়েছেন তা ইসলামে কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম জঘন্য গুনাহ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا "আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" — (সূরা বনী ইসরাইল: ৩২)
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ — (সূরা নূর: ২)
হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি যিনা করে, সে ঈমান থেকে বের হয়ে যায়..." — (সহিহ বুখারি, মুসলিম)
১. আল্লাহ কি মাফ করবেন? — হ্যাঁ, তবে শর্তসহ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনিই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" — (সূরা যুমার: ৫৩)
তবে শর্ত হলো — খাঁটি তাওবা। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ লিখেছেন, তাওবার জন্য তিনটি শর্ত:
- গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ বিরত হওয়া
- গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
- আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা
আর যদি কারো হক নষ্ট হয়, তবে তার হক ফিরিয়ে দেওয়া — চতুর্থ শর্ত।
২. তাওবা কীভাবে করবেন?
(ক) খাঁটি তাওবা — তাওবাতুন নাসূহা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا — (সূরা তাহরিম: ৮)
ধাপসমূহ:
- সালাতুল তাওবা পড়ুন — ২ রাকাত নামাজ, তারপর আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চান।
- ইস্তিগফার বেশি বেশি করুন — "أستغفر الله ربي من كل ذنب وأتوب إليه"
- সদকা করুন — সামর্থ্য অনুযায়ী।
- নেক আমল বাড়ান — নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, রোজা।
- সেই ছেলের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করুন — কথা, মেসেজ, দেখা — সব বন্ধ। এটি তাওবার অন্যতম প্রধান শর্ত।
- পর্দা ও হিজাব কঠোরভাবে মেনে চলুন।
(খ) হানাফি ফিকহে বিশেষ নির্দেশনা
ইমাম তাহতাবী ও ইবনে আবিদিন (রহ.)-এর মতে, যিনার তাওবার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত জরুরি — কারণ এটি হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদ উভয়ের সাথে সম্পর্কিত।
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) তাঁর ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ করেছেন: যিনার পর তাওবাকারীর জন্য উচিত — নেক আমল বাড়ানো, বেশি বেশি নফল নামাজ, রোজা, দান-সদকা এবং ভবিষ্যতে পূর্ণ পর্দা রক্ষা করা।
৩. দ্বীনদার জীবনসঙ্গী কি পাবেন?
হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ — যদি আপনি খাঁটি তাওবা করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" — (সূরা তালাক: ২)
আশরাফ আলী থানভী (রহ.) তাঁর বাহিশতী জেওর-এ লিখেছেন: খাঁটি তাওবার পর আল্লাহ বান্দার অতীত গুনাহ মিটিয়ে দেন এবং তার ভবিষ্যৎকে বরকতময় করে দেন।
তবে শর্ত:
- অতীতের সেই ছেলের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করুন
- পর্দা কঠোরভাবে মেনে চলুন
- নেক স্বামীর জন্য দুআ করুন — বিশেষত:
- "رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ زَوْجًا صَالِحًا"
- সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত বেশি পড়ুন
- ইস্তেখারা করুন এবং অভিভাবকের মাধ্যমে শরীয়তসম্মত পাত্র খুঁজুন
৫. দুআ
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي
সারসংক্ষেপ
| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|-------| | আল্লাহ মাফ করবেন? | হ্যাঁ, উক্ত গুনাহ ছেড়ে দিয়ে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের গুনাহ না করার সংকল্পে খাঁটি তাওবা করলে — সূরা যুমার: ৫৩ | | তাওবা কীভাবে? | ২ রাকাত নামাজ + ইস্তিগফার + সম্পর্ক ছিন্ন + নেক আমল | | দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পাব? | ইনশাআল্লাহ, তাকওয়া অর্জন করলে — সূরা তালাক: ২ |
আল্লাহ আপনার তাওবা কবুল করুন এবং আপনাকে নেক স্বামী দান করুন। আমিন।