ছেলেদের কত বছর হলে তাকে নিয়ে সফর করা যাবে? ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে সন্তানকে সফরে সঙ্গে নেওয়ার বয়সসীমা কি ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6231
Questioner: Shakila Jahan
Question Asked: 02 Oct 2026, 10:44 AM
Reviewed & Published: 02 Oct 2026, 02:44 PM
Views: 33
Tokens: 2,484
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
ছেলেদের কতো বছর হলে তাকে নিয়ে সফর করা যাবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটি হলো—ছেলেদের কত বছর হলে তাকে নিয়ে সফর করা যাবে? অর্থাৎ সফরে ছেলেসন্তানকে সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কি না, এবং কত বছর হলে তাকে নিয়ে সফর করা শরীয়তসম্মত হবে?


সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট শরয়ী ফায়সালা:

মহিলাদের দূরবর্তী কোনো সফরে (শরয়ী সফর অর্থাৎ ৭৮ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্বে) মাহরাম হিসেবে কোনো ছেলেকে সাথে নেওয়ার জন্য সেই ছেলের বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) ও বিবেকবান (বুদ্ধিমান) হওয়া আবশ্যক [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০, ১৫১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১২শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৯; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৪৮]।

১. প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) হওয়ার বয়স: সাধারণত কোনো ছেলের বালেগ হওয়ার আলামত (যেমন: স্বপ্নদোষ ইত্যাদি) দেখা দিলে সে বালেগ গণ্য হয়। আর কোনো আলামত দেখা না গেলেও ফিকহে হানাফীর ফতোয়া অনুযায়ী ১৫ বছর বয়স পূর্ণ হলেই ছেলে শরীআতের দৃষ্টিতে বালেগ ও প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১২শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৯]। সুতরাং, ছেলের বয়স ১৫ বছর বা তার বেশি হলে (অথবা বালেগ হলে) তাকে মাহরাম হিসেবে সাথে নিয়ে সফর করা সম্পূর্ণ জায়েয।

২. ছোট বা নাবালেগ ছেলের সাথে সফরের হুকুম: ছোট বা নাবালেগ ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘ শরয়ী সফরে (৭৮ কি.মি. বা তার বেশি দূরে) বের হওয়া জায়েয নয়। কারণ, মাহরাম সাথে থাকার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মহিলার নিরাপত্তা বিধান ও সহযোগিতা করা, যা ছোট শিশুর পক্ষে সম্ভব নয় [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০, ১৫১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩১৯, ৩২০]।

৩. বালেগের নিকটবর্তী (মুরেহিক) ছেলের ক্ষেত্রে বিধান: ছেলে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বালেগ না হয়ে থাকে, কিন্তু বালেগের নিকটবর্তী বয়সে পৌঁছে যায় (যেমন: ১৪-১৫ বছরের কাছাকাছি বুদ্ধিমান কিশোর) এবং যে নারীর সাথে সফর করছে তার নিরাপত্তা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় সাহায্য করার মতো সক্ষমতা রাখে, তবে কোনো কোনো ফকীহর মতে এমন বালককে সাথে নিয়ে সফর করা বৈধ [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫১]।


বিস্তারিত ফিকহী বিশ্লেষণ ও কিতাবের ইবারত:

  • সফরে মাহরামের প্রধান উদ্দেশ্য:
    ইমাম ইবনুল হুমাম (রহ.) ও ইমাম কাসানী (রহ.) ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ ফাতহুল ক্বাদীর ও বাদায়েউস সানায়ে-তে উল্লেখ করেছেন:

    "নাবালেগ শিশু ও পাগল সফরে নারীর জন্য শরয়ী মাহরাম হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ তাদের দ্বারা নারীর হেফাযত ও নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব নয়।" [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০, ১৫১; বাদায়েউস সানায়ে (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩০০]

  • বালকের বয়স ও শরয়ী সীমা:
    শরীয়তের দৃষ্টিতে বালেগ পুরুষই মূলত মাহরামের দায়িত্ব পূর্ণ করতে পারে। তবে বালক যদি বালেগ হওয়ার একদম কাছাকাছি বয়সে উপনীত হয় এবং সব বুঝে ও খেদমত করতে পারে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অন্যথায় কেবল ছোট বাচ্চার উপস্থিতিতে দীর্ঘ সফর করা শরীআতসম্মত নয় [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫১]।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৪৮–১৪৯: (অধ্যায়: মহিলাদের সফরে মাহরামের গুরুত্ব ও শর'য়ী সফরের দূরত্ব (৭৮ কি.মি.)) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৪৮, ১৪৯]।
  • পৃষ্ঠা: ১৫০–১৫১: (অধ্যায়: সফরে কোন ধরনের মাহরাম থাকতে হবে — নাবালেগ ছেলে মাহরাম না হওয়া, বালেগ ও বুঝমান হওয়া আবশ্যক হওয়া এবং বালেগের নিকটবর্তী বালকের বিধান) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০, ১৫১]।

২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:

  • ১২াশ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৯: (অধ্যায়: বাবুল বূলুগ ওয়াহুদ্দুহু — লক্ষণ দেখা না গেলেও ১৫ বছর পূর্ণ হলে বালক বালেগ/প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ফতোয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১২শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৯]।
  • ২০শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩১৯–৩২০: (অধ্যায়: বাবুল হজ্ব, কিতাবুল মহরম — মহিলাদের সফরে বালেগ মাহরামের প্রয়োজনীয়তা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩১৯, ৩২০]।

৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৪৮: (অধ্যায়: কিতাবুস সালাত, ১৫শ পরিচ্ছেদ: সালাতুল মুসাফির — মহিলাদের সফরে মাহরামের শরয়ী শর্তাবলী) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড), পৃষ্ঠা: ১৪৮]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.