সী ফুড খাওয়া কি হালাল? কোন গুলো খাওয়া জায়েজ আর কোনগুলো খাওয়া নিষিদ্ধ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6220
Questioner: Mony Akter Hasi
Question Asked: 01 Oct 2026, 10:34 PM
Reviewed & Published: 02 Oct 2026, 12:09 AM
Views: 13
Tokens: 4,026
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সী ফুড খাওয়া কি হালাল? কোন গুলো খাওয়া জায়েজ আর কোনগুলো খাওয়া নিষেধ?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

১. মূল শরয়ী ফায়সালা (ফিকহে হানাফী অনুযায়ী):

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমুদ্রের পানি ও জলজ প্রাণী সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: "সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তাতে যা মৃত মাছ পাওয়া যায় তাও হালাল।" । ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী, সমুদ্র, নদী ও জলাশয়ের জলজ প্রাণীদের মধ্যে একমাত্র মাছ (السمك - সামাক) এবং মাছের অন্তর্ভুক্ত প্রজাতিসমূহ খাওয়া হালাল ও জায়েয।

মাছ ব্যতীত সমুদ্র বা পানির অন্য কোনো জলজ প্রাণী বা পোকা-মাকড় খাওয়া হানাফী মাযহাবে নাজায়েয ও মাকরূহে তাহরীমী/হারাম।


২. যেসব সামুদ্রিক খাবার খাওয়া জায়েয ও হালাল:

১. সকল প্রকার সামুদ্রিক মাছ: সমুদ্রের যেকোনো প্রজাতির মাছ—যেমন: রূপচাঁদা, ইলিশ, স্যামন, কোরাল, টুনা, লোট্যাপাটি, বাইম, সুরমা, এমনকি হাঙর (Shark) ও তিমি (Whale)-সহ মাছ হিসেবে গণ্য সমস্ত প্রজাতি খাওয়া সম্পূর্ণ হালাল ও জায়েয।

  • শর্ত: মাছটি জীবিত ধরা হতে হবে অথবা পানি থেকে তোলার পর/আঘাতে মারা যেতে হবে। তবে কোনো বাহ্যিক আঘাত বা শিকার ছাড়া পানিতেই এমনি মরে ভেসে ওঠা মাছ (ত্বাফী) খাওয়া নাজায়েয।

২. চিংড়ি মাছ (Shrimp / Prawn): ফুকাহায়ে কেরামের অধিকাংশ ও রাজেহ ফতোয়া অনুযায়ী চিংড়িকে মাছ বা 'সামাক' (السمك) প্রজাতির অংশ ধরা হয়। তাই ফাতাওয়া মাহমুদিয়াসহ ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের ফতোয়া অনুযায়ী চিংড়ি মাছ খাওয়া হালাল ও জায়েয।


৩. যেসব সামুদ্রিক খাবার খাওয়া নিষেধ ও হারাম/নাজায়েয:

মাছের প্রজাতি ছাড়া সমুদ্রের অন্য সমস্ত জলজ প্রাণী খাওয়া হানাফী মাযহাব অনুযায়ী নাজায়েয। উদাহরণস্বরূপ:

১. কাঁকড়া (Crab): কাঁকড়া মাছের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি খাওয়া নাজায়েয । ২. অক্টোপাস (Octopus) ও স্কুইড (Squid): এগুলো মাছের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় খাওয়া জায়েয নয় । ৩. শামুক, ঝিনুক, অইস্টার (Snail, Oyster, Clam): মাছ না হওয়ার কারণে এগুলো খাওয়া নিষিদ্ধ । ৪. সামুদ্রিক ব্যাঙ, কচ্ছপ, কুমির ও পানির সাপ: এগুলো খাওয়া অকাট্যভাবে হারাম ও নাজায়েয।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৫৮: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত ও শিকার — সমুদ্রের মাছ হালাল হওয়া সংক্রান্ত হাদীস ও ফিকহী নীতি)।

২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:

  • ১৬শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৩: (অধ্যায়: কিতাবুল বিউ — মাছ ছাড়া পানির অন্যান্য জলজ প্রাণী খাওয়া ও বিক্রি নাজায়েয হওয়ার বিবরণ)।
  • ১৮শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২০৭: (অধ্যায়: বাবুল ইন্তিফা' বিল حیوانات, আল-ফাসলুল আউওয়াল ফিস সামাক — মাছ খাওয়ার ফায়সালা ও মরা মাছের বিধান)।
  • ১৮শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২১২–২১৬: (অধ্যায়: আল-ফাসলুল আউওয়াল ফিস সামাক — চিংড়ি মাছের হালাল হওয়ার বিস্তারিত দলিল ও ফতোয়া)।
  • ১৮শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৬৪: (অধ্যায়: আল-ফাসলুল খামিস — ব্যাঙ, কচ্ছপ, কাঁকড়া, পানির সাপ ইত্যাদি হারাম হওয়ার ফতোয়া)।

৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৪২: *(অধ্যায়: কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, ৯ম পরিচ্ছেদ: শিকার ও যবহের বিবরণ — "ولا يؤكل من حيوان الماء إلا السمك" অর্থাৎ মাছ ব্যতীত জলজ প্রাণীর কোনোটিই খাওয়া জায়েয না হওয়ার মূলনীতি)*চ।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.