হায়েযের ৫ম দিনে পবিত্র হওয়ার পর পুনরায় লাল দাগ দেখা গেলে করণীয় কী?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6207
Questioner: Mim Islam
Question Asked: 01 Oct 2026, 04:40 PM
Reviewed & Published: 01 Oct 2026, 05:28 PM
Views: 18
Tokens: 4,936
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারো হায়েয সাধারণত ৬ দিন থাকে।কিন্তু এবার ৫ দিনের দিন দিন সকালে টিস্যু দিয়ে চেক করে দেখছে কোন ব্লাড নেই সাদা হয়ে আছে টিস্যুর সাথে।এজন্য গোসল দিয়ে যোহরের নামাজ পড়েছে।কিন্তু আসরের নামাজের সময় আবার পায়জামায় ছোপ ছোপ লাল দাগ দেখতে পায়।এবার টিস্যু দিয়ে চেক করে দেখল টিস্যুর সাথে কোন লাল দাগ বোঝা যাচ্ছে না কিন্তু পায়জামার সাথে হালকা লাল দাগ বোঝা যাচ্ছে। এখন করণীয় কী?আসরের নামাজ পড়তে হবে নাকি বাদ রাখবে?

Answer

হায়েয-নিফাস সংক্রান্ত মাসআলা: পবিত্রতার পর পুনরায় দাগ দেখা গেলে করণীয়

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

একজন মহিলার হায়েয সাধারণত ৬ দিন থাকে। এবার ৫ম দিনের সকালে টিস্যুতে কোনো রক্ত না দেখে (সাদা হয়ে আছে) তিনি গোসল করে যোহরের নামাজ আদায় করেন। কিন্তু আসরের সময় পায়জামায় ছোপ ছোপ লাল দাগ দেখতে পান। টিস্যুতে লাল দাগ বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু পায়জামায় হালকা লাল দাগ বোঝা যাচ্ছে। এখন করণীয় কী? আসরের নামাজ পড়তে হবে কি না?


ফিকহি বিশ্লেষণ (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

১. হায়েযের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী:

  • হায়েযের সর্বনিম্ন সময়: ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা)
  • হায়েযের সর্বোচ্চ সময়: ১০ দিন ১০ রাত (২৪০ ঘণ্টা)

দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«الْحَيْضُ عَشْرٌ فَمَا زَادَ فَهُوَ اسْتِحَاضَةٌ»

"হায়েয দশ দিন পর্যন্ত; এর বেশি হলে তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত)।"

— সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ১২৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৬২৪

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফতোয়া হলো, ১০ দিন পর্যন্ত যা দেখা যায় তা হায়েযের অন্তর্ভুক্ত, যদি তা ৩ দিনের কম না হয়। [রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৩; ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭]

২. পবিত্রতার পর পুনরায় রক্ত দেখা গেলে

হানাফি মাযহাবের মূলনীতি হলো:

"যদি কোনো মহিলা হায়েযের সময়কালের মধ্যে (১০ দিনের ভেতরে) পবিত্র হওয়ার পর পুনরায় রক্ত দেখে, তাহলে সেটিও হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।"

দলিল: উম্মে সালামা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«كَانَتِ الْمَرْأَةُ تَكُونُ حَائِضًا فَتَرَى الطُّهْرَ ثُمَّ تَرَى الْكُدْرَةَ بَعْدَ ذَلِكَ، فَقَالَ: إِنَّمَا هُوَ دَمٌ، فَلْتَدَعِ الصَّلَاةَ»

"এক মহিলা হায়েয অবস্থায় ছিল, সে পবিত্রতা দেখল, এরপর পুনরায় মলিনতা (কুদরাহ) দেখল। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: 'এটি তো রক্তই, তাই সে নামাজ ছেড়ে দেবে।'"

— মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা; বায়হাকি

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

"যদি হায়েযের দিনগুলোর মধ্যে পবিত্র হওয়ার পর পুনরায় রক্ত আসে, তাহলে তা হায়েযের অন্তর্ভুক্ত হবে, যতক্ষণ না ১০ দিন পূর্ণ হয়।"

— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৮

৩. প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ

প্রশ্নে বলা হয়েছে:

  • সাধারণত হায়েয ৬ দিন থাকে
  • ৫ম দিনের সকালে টিস্যু সাদা (পবিত্র)
  • গোসল করে যোহরের নামাজ পড়েছেন
  • আসরের সময় পায়জামায় হালকা লাল দাগ
  • টিস্যুতে লাল দাগ বোঝা যাচ্ছে না

এখানে দুটি সম্ভাবনা:

সম্ভাবনা ১: দাগটি হায়েযের রক্ত (হায়েয চলমান)

যেহেতু ১০ দিনের ভেতরে পুনরায় রক্ত দেখা গেছে, এবং তা হালকা হলেও রক্তের চিহ্ন, তাই হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এটি হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।

করণীয়:

  • নামাজ বন্ধ রাখতে হবে
  • যোহরের নামাজটি পুনরায় পড়তে হবে না (কারণ তখন তিনি পবিত্র ছিলেন বলে ধরে নিয়েছিলেন, এবং নামাজটি সহীহ হয়েছে)
  • তবে আসরের নামাজ পড়া যাবে না
  • পরবর্তী নামাজগুলোও বন্ধ রাখতে হবে যতক্ষণ না পুনরায় পবিত্রতা আসে বা ১০ দিন পূর্ণ হয়

দলিল: ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন:

"যদি হায়েযের সময়ের মধ্যে পবিত্র হওয়ার পর পুনরায় রক্ত আসে, তাহলে সে নামাজ ছেড়ে দেবে।"

— আল-আসার; কিতাবুল হায়য

সম্ভাবনা ২: দাগটি হায়েযের নয় (ইস্তিহাযা বা অন্য কারণ)

যদি নিশ্চিত হয় যে, এটি হায়েযের রক্ত নয় (যেমন: ক্ষত, ইনফেকশন, বা অন্য কোনো কারণ), তাহলে:

  • নামাজ পড়তে হবে
  • ওযু করে নামাজ আদায় করতে হবে

কিন্তু যেহেতু টিস্যুতে লাল দাগ বোঝা যাচ্ছে না, শুধু পায়জামায় হালকা দাগ, তাই সতর্কতামূলক (এহতিয়াত) পন্থা হলো হায়েয হিসেবে গণ্য করা।


সিদ্ধান্ত ও করণীয়

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া:

যেহেতু ১০ দিনের ভেতরে পুনরায় রক্তের চিহ্ন দেখা গেছে, তাই এটি হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।

| বিষয় | বিধান | |------|------| | আসরের নামাজ | পড়া যাবে না | | পরবর্তী নামাজ | পবিত্রতা আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে | | যোহরের নামাজ | পুনরায় পড়তে হবে না (তখন পবিত্র ছিলেন) | | গোসল | পুনরায় পবিত্রতা আসলে গোসল করতে হবে | | ১০ দিন পূর্ণ হলে | ১০ দিনের পর রক্ত এলে ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে, নামাজ পড়তে হবে |

বিশেষ নির্দেশনা:

১. যদি ১০ দিনের ভেতরে পুনরায় পবিত্রতা আসে (টিস্যু সম্পূর্ণ সাদা হয়), তাহলে গোসল করে নামাজ শুরু করতে হবে।

২. যদি ১০ দিন পূর্ণ হয়ে যায় এবং তখনও রক্ত আসে, তাহলে ১০ দিন পর্যন্ত হায়েয গণ্য হবে, এরপর ইস্তিহাযা হিসেবে নামাজ পড়তে হবে।

৩. সন্দেহের অবস্থায়: যদি নিশ্চিত না হন যে এটি হায়েযের রক্ত কি না, তাহলে এহতিয়াত (সতর্কতা) হলো হায়েয হিসেবে গণ্য করা। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ»

"যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে, তা ছেড়ে দাও এবং যা সন্দেহমুক্ত, তা গ্রহণ করো।"

— সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ২৫১৮


সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | আসরের নামাজ পড়তে হবে? | না, হায়েয হিসেবে গণ্য হবে | | যোহরের নামাজ কি পুনরায় পড়তে হবে? | না, কারণ তখন তিনি পবিত্র ছিলেন | | কখন নামাজ শুরু করবেন? | পুনরায় পবিত্রতা (টিস্যু সম্পূর্ণ সাদা) আসলে গোসল করে | | ১০ দিন পূর্ণ হলে? | ১০ দিন পর্যন্ত হায়েয, এরপর ইস্তিহাযা |


আরবি সারসংক্ষেপ (খুলাসা)

إذا رأت المرأة الطهر ثم عاد الدم في مدة الحيض (عشرة أيام)، فهو حيض عند الحنفية، فتترك الصلاة. وأما الصلاة التي أدتها حال الطهر فهي صحيحة لا تعاد.

— رد المحتار، ج ١، ص ٢٩٨؛ فتح باب العناية، ج ١، ص ١٤٥


রেফারেন্স

  1. রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) — খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৩-২৯৮
  2. ফতোয়ায়ে আলমগিরি — খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭
  3. আল-হিদায়া (মারগিনানি) — কিতাবুল হায়য
  4. ফতোয়ায়ে উসমানি — খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৫-১৫০
  5. ইমদাদুল ফতোয়া — খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৮
  6. বেহেশতী জেওর — পৃষ্ঠা ৭২-৭৫
  7. মা'আরিফুল কুরআন — সূরা বাকারা, আয়াত ২২২-এর তাফসীর
  8. সুনানে তিরমিযী — হাদিস: ১২৮, ২৫১৮
  9. সুনানে ইবনে মাজাহ — হাদিস: ৬২৪
  10. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা — কিতাবুল হায়য

মূল কথা: ১০ দিনের ভেতরে পবিত্র হওয়ার পর পুনরায় রক্তের চিহ্ন দেখা গেলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। তাই আসরের নামাজ পড়া যাবে না। পুনরায় সম্পূর্ণ পবিত্রতা আসলে গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.