সফটওয়্যার বানানোর টাকা নেওয়া জায়েজ হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6179
Questioner: .
Question Asked: 01 Oct 2026, 07:08 AM
Reviewed & Published: 01 Oct 2026, 09:07 AM
Views: 21
Tokens: 6,486
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ। আমি আমার এক ক্লায়েন্ট এর ওয়েবসাইট বানাচ্ছি (প্রায় শেষ) যেখানে ইউজাররা তাদের মোবাইল নাম্বার, এন আইডি নাম্বার এগুলো ব্যবহার করে তাদের NID অনলাইন কপি, সাইন কপি, টিন সার্টিফিকেট ইত্যাদি এগুলো নিতে পারবে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে। ইউজাররা রিকুয়েষ্ট সাবমিট করলে আমার ক্লায়েন্ট সে তথ্যগুলো নিয়ে বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট বা টেলিগ্রাম বট এগুলোর মাধ্যমে ফি পরিশোধ (ইউজার থেকে যে টাকা নিবে তার থেকে কম খরচে) করে ডকুমেন্টস নিয়ে ইউজারকে দিবে। এখন বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট যে এই ডকুমেন্টস গুলো দেয় আমার জানামতে তারা হয় সরকারি সার্ভার থেকে নির্দিষ্ট ফি এর মাধ্যমে api access নেয় অথবা মাঝে মাঝে দেশের নাগরিকদের nid এর তথ্য ফাঁস হওয়ার খবর শুনি হতে পারে থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট এর লোকেরা কালোবাজারির মাধ্যমে এই তথ্যগুলো এপিআই এর মাধ্যমে প্রধান করে থাকে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমার ক্লায়েন্ট কালোবাজারির সাথে যুক্ত না সে তাদের থেকে সার্ভিস কিনে নেয় আবার থার্ড পার্টি বিক্রেতারা কালোবাজারির সাথে যুক্ত কিনা শিউর না আবার যুক্ত হতেও পারে। এজন্য ওয়েবসাইটটা বানানোর জন্য আমার ক্লায়েন্ট থেকে টাকা নেওয়া জায়েজ হবে?

Answer

সফটওয়্যার বানানোর টাকা নেওয়া জায়েজ হবে?

উত্তর: প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় — যেখানে সার্ভিসের মূল কাজটি (NID, সাইন কপি, টিন সার্টিফিকেট ইত্যাদি সরবরাহ) সম্ভাব্য অবৈধ/কালোবাজারি উৎসের সাথে সম্পৃক্ত এবং যার মাধ্যমে নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য ফাঁস ও অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে — এমন ওয়েবসাইট তৈরি করে তার পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ নয়। এটি গুনাহের কাজে সহায়তা (ই'আনাত আলাল-ইসম) ও হারাম মাল অর্জনে সাহায্য করার অন্তর্ভুক্ত।


বিস্তারিত আলোচনা

১. শরীয়তের মূলনীতি: গুনাহের কাজে সহায়তা করা হারাম

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

"নেক কাজ ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরকে সহায়তা করো, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহায়তা করো না।" — (সূরা মায়িদা: ২)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

— (সূরা মায়িদা: ২)

২. ফিকহে হানাফির মূলনীতি

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:

"যে কাজ নিজে করা হারাম, তাতে সহায়তা করাও হারাম। আর যে ব্যক্তি হারাম কাজে সহায়তা করে, সে গুনাহগার হয়।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাযর ওয়াল-ইবাহা)

ফাতাওয়া আলমগিরিতে এসেছে:

"কোনো ব্যক্তি যদি জানে যে, এই মাল হারাম পথে ব্যবহৃত হবে, তবে তা দেওয়া বা তা থেকে উপার্জন করা জায়েজ নয়।" — (ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে বলেন:

"হারাম কাজে সরাসরি সহায়তা করা যেমন নাজায়েজ, তেমনি এমন সফটওয়্যার বা সিস্টেম তৈরি করাও নাজায়েজ, যা হারাম কাজকে সহজ করে।" — (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, ব্যবসা অধ্যায়)

৩. প্রশ্নের বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণ

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

| বিষয় | অবস্থা | |---|---| | সার্ভিসের প্রকৃতি | NID, সাইন কপি, টিন সার্টিফিকেট সরবরাহ | | সম্ভাব্য উৎস | সরকারি API অথবা কালোবাজারি/ফাঁস হওয়া ডেটা | | নিশ্চয়তা | ক্লায়েন্ট কালোবাজারে যুক্ত কিনা নিশ্চিত নয়; থার্ড পার্টিও নিশ্চিত নয় | | ঝুঁকি | নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য ফাঁস ও অপব্যবহারের সম্ভাবনা |

শরীয়তের নিয়ম হলো: যখন কোনো কাজের মধ্যে হারাম হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা (গালিব যন্ন) থাকে, তখন তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। শুধু "নিশ্চিত না হওয়া" এখানে ওজর নয়; বরং সন্দেহের predominance-ই যথেষ্ট।

ইমাম আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি (রহ.) «ফয়যুল বারী»-তে বলেন:

"যখন কোনো কাজের হারাম হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়, তখন তা পরিহার করাই তাকওয়ার দাবি।" — (ফয়যুল বারী, হাদিস: ৫২)

৪. হাদিসের দৃষ্টান্ত

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا

"যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র বহন করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" — (সহিহ বুখারি: ৭০৭০)

আরও ইরশাদ:

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ

"রাসূল ﷺ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার দুই সাক্ষীকে লা'নত করেছেন।" — (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

এখানে লেখক (كاتب) অর্থাৎ যে সুদের দলিল-দস্তাবেজ লেখে বা তৈরি করে, তাকেও লা'নত করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, হারাম কাজের জন্য সফটওয়্যার/ডকুমেন্ট তৈরি করাও একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত।

৫. আপনার করণীয়

  1. প্রথমে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা নিন — যে সে বৈধ সরকারি API বা বৈধ অনুমোদিত সোর্স থেকে সার্ভিস নেয়, কালোবাজারি বা ফাঁস হওয়া ডেটা ব্যবহার করে না।
  2. যদি নিশ্চিত হন যে উৎস বৈধ — তাহলে সফটওয়্যার বানানোর পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ।
  3. যদি সন্দেহ থাকে বা নিশ্চিত না হন — তাহলে এই কাজ থেকে বিরত থাকুন; পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ হবে না।
  4. বিকল্প — এমন সফটওয়্যার তৈরি করুন যা শুধু বৈধ, অনুমোদিত ও সরকারি সোর্স থেকে ডকুমেন্ট সরবরাহ করে; কালোবাজারি বা ফাঁস হওয়া ডেটার কোনো সংযোগ রাখবেন না।
  5. তাওবা — যদি ইতিমধ্যে এমন কাজ করে থাকেন, তাওবা করুন এবং ভবিষ্যতে বিরত থাকুন।

সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |---|---| | কালোবাজারি/ফাঁস ডেটার সম্ভাবনা থাকলে টাকা নেওয়া? | জায়েজ নয় | | শুধু সন্দেহ থাকলে? | বিরত থাকাই ওয়াজিব | | বৈধ সরকারি API নিশ্চিত হলে? | জায়েজ | | ক্লায়েন্ট কালোবাজারে যুক্ত কিনা নিশ্চিত না হলে? | সতর্কতা অবলম্বন করুন, নিশ্চিত না হয়ে কাজ করবেন না |

মূল কথা: সন্দেহের অবস্থায় হারাম থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়া। আল্লাহ তা'আলা হালাল উপার্জনের পথ প্রশস্ত করুন। আমিন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.